কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে মেয়েজামাইকে খুন

ছবি: পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ছবি: পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দিলিপ গাজীকে (৫০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গভীর রাতে। নিজ মেয়েজামাইয়ের অর্থসম্পদ হাতিয়ে নিতে এই খুনের পরিকল্পনা করেন শ্বশুর আনোয়ার হোসেন প্যাদা (৬০)।

গ্রেফতার হওয়া ঘটনার নেপথ্যের নায়ক শ্বশুর আনোয়ার ও দুই ভাড়াটে খুনি নিজাম ও আমজাদ এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এ ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে আসামিদের গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। 

আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এসপি মোহাম্মদ মইনুল হাসান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, পায়রা বন্দরের সম্প্রসারিত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দিলিপের অনেক জমি অধিগৃহীত হয়। সেই সূত্রে দিলিপের ব্যাংক হিসাবে প্রায় কোটি টাকা জমা পড়ে। ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করেন তার শ্বশুর আনোয়ার। একপর্যায়ে ব্যর্থ হলে ভাতিজিজামাই নিজামকে প্রস্তাব দেন মেয়েজামাইকে খুন করার। চাচাশ্বশুরের প্রস্তাবের আলোকে নিজাম বরগুনা জেলার হেউলিয়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমজেদের সাথে দুই লাখ টাকা চুক্তি করেন। মূলত আমতলী থানার একটি ডাকাতি মামলার সূত্র ধরে নিজামের সাথে বরগুনা কারাগারে আমজেদের পরিচয় হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় দুই মাস আগে বরগুনা-আমতলী নৌ-রুটের ফেরিঘাটে বসে ভাড়াটে খুনিদের সাথে পাকা কথা হয়। দুই লাখ টাকা চুক্তিতে বিভিন্ন সময়ে নিজামকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন আনোয়ার। নিজাম ও আমজেদ ওই টাকা ভাগ করে নেন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, দিলিপ কাতারপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে আয়ের অর্থ ছাড়াও পৈতৃক সূত্রে তিনি সম্পদশালী ছিলেন। কিন্তু দিলিপ স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে কার্পণ্য করতেন। দিলিপের এক মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার সঠিক চিকিৎসা না করা নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। বাড়তে থাকে পারিবারিক কলহ। দীর্ঘদিন ধরে দিলিপের স্ত্রী তিন সন্তান নিয়ে বাবা আনোয়ারের কাছে বসবাস করতেন। চুক্তি অনুযায়ী খুনের উদ্দেশ্যে ২১ অক্টোবর আমজেদ ও নিজাম কলাপাড়া উপজেলার লালুয়ার নওয়াপাড়ায় দিলিপের বাড়িতে যান। এ সময় খুনিরা আনোয়ারের কাছে বাকি টাকা দাবি করলে পটুয়াখালীর কলাতলা বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে ১০ হাজার ও খুনের পর আরো ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন আনোয়ার।

আনোয়ার জানান, তার জামাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি ছিল তার অসুস্থ মেয়ে লামিয়া আক্তার। বাবার অবর্তমানে নিজ মেয়ে ও নাতনিকে ফুসলিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজাম জানান, ভিকটিম দিলিপ তার চাচাতো ভায়রা হন। সেই সুবাদে তার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। ঘটনার আগে পারিবারিক আলোচনার এক পর্যায়ে কোমল পানির (সেভেনআপ) সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রথমে দিলিপকে পান করান খুনিরা। এরপর দিলিপ ঘুমিয়ে গেলে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করেন খুনিরা।

এ ঘটনায় দিলিপের স্ত্রী হাবিবা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh