জেলেদের হামলায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় নৌ-পুলিশ এবং ফোর্সের যৌথ অভিযান চলাকালে দস্যু জেলেদের হামলায় নারী এএসপিসহ ১২ নৌ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ নং রাজরাজেশ্বর লক্ষির চর এলাকার মেঘনা নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ প্রায় ৪৭ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১২ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে। এছাড়াও অভিযানে মা ইলিশ ধরার প্রায় ২০০ নৌকা ফুটো করে দেয়া হয়েছে এবং প্রায় ৪৯ লাখ মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা এবং ৭ জেলেকে আটক করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতরা হলেন- নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঢাকা হেডকোয়ার্টার) ফরিদা পারভীন (৩৬), ইন্সেপেক্টর মুজাহিদুল ইসলাম( ৪১), এস আই ইলিয়াস (৩০), নায়েক ইকবাল (৪০), নায়েক শাহজালাল (২৫), নৌ-পুলিশ ককনস্টেবল প্রসেনজিৎ (২৪), নিলয় দেব (২৫), হেলাল উদ্দিন( ৫০), আল  মামুন (২৮), ফেরদৌস শেখ (২৬), আল আলামিন (২৫), কাউসার (৩০), মোনায়েম (২৬)।

অভিযানে আটক সাত জেলে হলেন- ওমর ফারুক (১৫), কামিল হোসেন (১৮), মো. রুবেল (২২), খলিল (২২), শাহজালাল (২৫, নবীর হোসেন (২৫), মাহফুজ আলম (১৪)। তারা সবাই হামলার আগে আটক হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের বাড়ি মতলবের আমিরাবাদ এলাকায়।

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঢাকা হেডকোয়ার্টার) ফরিদা পারভীন জানান, সরকার ঘোষিত মা ইলিশ রক্ষায় অভয়াশ্রম সফল করতে শনিবার ভোরে তারা ঢাকা নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে নৌ পুলিশের। অতিরিক্ত ডিআইজিসহ বিশাল একটি টিম নদীতে অভিযানে নামেন। তারা মেঘনা নদীর মুন্সিগঞ্জ ক্যানেল থেকে রাতভর মেঘনা নদীতে অভিযান চালান। অভিযানে এয়ার ফোর্সের একটি টিমও আকাশ পথে অংশ নেয়। যৌথ অভিযানের টিম শরিয়তপুর ও চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ ধরার প্রায় ২০০ নৌকা ফুটো করে দেয়া হয়। প্রায় ৪৯ লাখ মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা এবং সাত জেলেকে আটক করা হয়। তারা সকালে অভিযান শেষ করে ফেরার জন্যে প্রস্তুতি নিতে গেলে চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্ব ইনিয়নের লক্ষ্মীর চর ও চিরারচর এলাকায় বিপুল পরিমান জেলে নৌকা মাছ ধরার জন্যে প্রস্তুতি নিতে দেখেন।

এসময় নৌ-পুলিশের টিম জেলেদের বাঁধা দিতে গেলে ওই এলাকার সকল জেলে এবং নারী-পুরুষে একজোট হয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় আত্মরক্ষার্থে তারাও প্রায় ৪৭ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১২ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছেন। পরে অভিযানে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ফরিদা পারভীন জানান, জেলেরা যে এতটা ভয়ঙ্কর তা আমাদের জানা ছিলো না। তারা রাষ্ট্রের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রশাসনের উপর হামলা করেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আহত ইন্সপেক্টর মুজাহিদ, কনস্টেবল প্রসঞ্জিত ও নীলয় দেব জানান, জেলেরা  জালের সাথে ব্যবহৃত পোড়া মটির চাক্কি, ইটপাটকে, লাঠি-৭সোটা নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা অভিযান শেষ করে ফিরে যাবার পথে আতর্কিতভাবে এই হমলা করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা, হেডকোয়ার্টারের এডিশনাল ডিআইজি নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, বসু মিয়া, ফরিদুল ইসলাম, মিনা মাহমুদ, এএসপি ফরিদা পারভিন।


এদিকে এর আগেও মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে রাজরাজেশ্বরী ইউনিয়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ জেলা ট্রাস্কফোর্সের উপর জেলেরা হামলা চালিয়েছে। ওই ঘটনার সাথে স্থানীয় একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে আজকের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বলে জানান রাজরাজেশ্বরের স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের দাবি রাজরাজেশ্বরী ইউনিয়নে মা ইলিশ নিধন জেলেদের মদদদাতা মৌসুমী আড়ৎদার ও দাদনদারদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিলে এই ইউনিয়নে ইলিশ নিধনের উৎসব বন্ধ হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের যমুনা রোড়, পুরাণবাজার, রণাগেয়াল, সদরের দোকানঘর, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর  হরিণা, আখনের হাট, তরপুরচন্ডি, আলুরবাজার সহ বিভিন্ন পয়েন্টে রাতভর ইলিশ বিক্রির মহোৎসব চলে। এসব এলাকায় একশ্রেণীর মৌসুমি আড়ৎদার জেলেদের জাল নৌকা দিয়ে মা ইলিশ নিধনে নদীতে নামতে সুযোগ করে দেয়। তাদের সাথে প্রশাসনের কারো কারো সাথে যোগসাযোগ রয়েছে বলে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের দাবী জেলেদের পাশাপাশি এই মৌসুমি আড়তদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলেই অভয়াশ্রম সফল হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh