সরিষাবাড়ীতে জুয়া কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুই পুলিশ প্রত্যাহার

ছবি: জামালপুর প্রতিনিধি

ছবি: জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জেগে ওঠা চরাঞ্চলে প্রতিরাতে অর্ধকোটি টাকার জুয়ার আসর বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশকে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়। 

গতকাল শনিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী ও কনস্টেবল মনির উদ্দিনকে জামালপুর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। 

সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. ফজলুল করীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে চর বাশুরিয়া এলাকার যমুনায় জেগে ওঠা চরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলছিলো। পার্শ্ববর্তী তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে প্রতিরাতে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৪০-৫০ জন জুয়ারি প্রতিদিন দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বাজিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার জুয়ার আসর চালাতো। জুয়ার আসরে আধিপত্য বিস্তার ও টাকার ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জুয়ারিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন আহত হয়। এদেরমধ্যে ঘটনাস্থলেই তিন জুয়ারি গভীর যমুনা নদীতে নিখোঁজ হয়ে যায়।

নিখোঁজ জুয়ারিরা হলেন- সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ছানোয়ার হোসেন ছানু (৪০), পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের মৃত জমসের খাঁনের ছেলে হাফিজুর রহমান খাঁন (৪৫) ও ভুয়াপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের ফজল মিয়া (৪০)। এছাড়া পিংনা নরপাড়া গ্রামের বাহেছ আকন্দের ছেলে জুয়ার আসরের সর্দার আব্দুল মান্নান সরকারকে (৫২) গুরুতর জখম অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নিখোঁজদের পরিবার পৃথক তিনটি জিডি করে। জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শিবলী সাদিকের নেতৃত্বে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শনিবার সকাল থেকে দিনভর ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। তবে এখনো কাউকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। 

তবে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের বালিয়ামেন্দা গ্রামের সোহেল মিয়া (৩৫) ও টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার চর রামাইল গ্রামের সজিব (৩৫)।

অভিযোগ রয়েছে, এসআই ইউনুস আলী, এসআই খন্দকার খালিদ মাসুদ ও কনস্টেবল মনির উদ্দিনের মধ্যস্থতায় তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম প্রতিরাতে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা নিয়ে আসর চালাতে দিতেন। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এসআই ইউনুস আলী ও কনস্টেবল মনির উদ্দিনকে জামালপুর পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেয় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

এ ব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শিবলী সাদিক বলেন, জুয়ার আসর চালানো নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনের সন্ধান পেতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সার্বিক বিষয় জানতে তদন্ত চলছে।

দুই পুলিশ সদস্যের প্রত্যাহার জুয়া সংক্রান্ত হিসেবে তিনি স্বীকার না করলেও কর্মস্থল পরিবর্তন পুলিশের নিয়মিত বিভাগীয় কার্যক্রমেরই অংশ বলে মন্তব্য করেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh