রাজশাহীতে আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সংঘর্ষ, গোলাগুলি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর (বর্তমান মেয়র) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে শতাধিক দোকান ভাংচুর ও লুটপাটসহ ৫টি মোটরসাইকেল ও ভাংচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষকালে ৬ রাউন্ড পিস্তলের ফাঁকা গুলি ও ৮-১০টি ককটেল বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে আড়ানী বাজারের তালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ও চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র (এএসপি) নুরে আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় বাঘা ছাড়াও চারঘাট, পুঠিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এবং রাজশাহী থেকে র‌্যাব-৫ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচ শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে আড়ানী বাজারের তালতলায় আড়ানী পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন কাটাখালি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই দলের বাইরে কোনো ভোট হবে না। বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুতরাং আপনরা তাকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।

মেয়র আব্বাস দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর বিপক্ষে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে জানান এলাকাবাসী।

এ সময় রাস্তার উত্তর দিক থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর ৮-১০টি মোটরসাইকেল গণসংযোগ করে নিজেদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ফিরছিল। তাদের দাবি, তাদের দেখে পেছন থেকে ধর ধর করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া করে শাহীদের লোকজন। এতে শাহীদ ও মুক্তারের লোকজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় দুই গ্রুপের ফের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এ সময় রাস্তার ধারে বসা সবজি ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুর করা হলে অনেক ক্ষতি হয়। ভাঙচুর করা হয় দুই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস। ঘটনার এক পর্যায় হাজার হাজার লোকবল লাঠি-সোটা নিয়ে পৌরভবনের সামনে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর পক্ষে অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে উত্তর পাশে খ্যাপা বাবার আশ্রম এলাকায় অবস্থান নেয় দলীয় প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের কর্মী-সমর্থকরা। তবে মুক্তার আলীর পক্ষে লোকজনের উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশসহ প্রশাসনের লোকজন অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তা না হলে বড় ধরণের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারতো।

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ জানান, তার আহত কর্মীদের মধ্যে আহত তুষার আলী ও লাল্টুকে পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তার কর্মীদের তিনটি মোটরসাইকেল ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর জানান, তিনি নিজেসহ তার কর্মী-সমর্থক নাজমুল হক, রানা, বকুল, মজনু, খোকন, ফারুক, জিসান, হৃদয়, জাহিদ, রাজু ও আরিফুল আহত হয়েছে। এদের মধ্যে নাজমুলের অবস্থা গুরুতর।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশ এবং র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাতে মুক্তার আলীর কর্মী মিলনকে আটক করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh