স্কুলে নেই শিক্ষার্থী-অবকাঠামো, হাতিয়ে নিচ্ছে বেতন-ভাতা

ছবি: পিরোজপুর প্রতিনিধি

ছবি: পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব পশারীবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো ছাত্র-ছাত্রী, কিংবা খেলার মাঠ, বেঞ্চ-টেবিল বা  লাইব্রেরি অফিস।

নাম মাত্র একটি টিনশেড ঘর দেখিয়ে সরকারি বেতন-বাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন বিদ্যায়লটির চার শিক্ষক। আবার জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এ শিক্ষকদের নিয়োগ হযেছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতির।

আর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। 

জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারীবুনিয়া গ্রামে ১৯৯৫ সালে ১৬৪ নং দক্ষিণ-পূর্ব পশারীবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে প্রথমে খলিলুর রহমান হাওলাদার বাড়ির সামনে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়টির নামে নিজস্ব জমি বরাদ্দ না থাকার কারণে মৌখিকভাবে স্কুলটি স্থানান্তর করা হয় স্থানীয় আব্দুস সালাম হাওলাদারের বাড়ির পাশের ৪ কাঠা জায়গায়। সেখানেই চলছিলো অল্প কিছু ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে পাঠদান। 

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম ও সদস্যরা জানান, ২০০৭ সালে সিডরে ব্যাপক ক্ষতি হয় বিদ্যালয়টির। প্রায় বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। পরে ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণ করা হলে একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজসে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুলের কর্মকর্তাদের না জানিয়ে বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান চার শিক্ষক। এ নিয়ে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। পরে পরিত্যক্ত বিদ্যায়ল ভবন থেকে সরে পাশের একটি জায়গায় নতুন করে একই নামে গড়ে তোলা হয় আরেকটি বিদ্যালয়। অবশেষে বিদ্যালয়টির মালিকানা দাবির বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এনিয়ে দুইটি মামলায়ও করেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি।         

এদিকে ওই শিক্ষকদের নতুন বিদ্যালয়ের ছয়টি শ্রেণিতে কাগজে-কলমে ৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে নেই পাঁচজন শিক্ষার্থীও বলে দাবি গ্রামবাসীর।

শুধু শিক্ষার্থীই নয় এ বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ, বেঞ্চ-টেবিল বা অফিস রুম। তবুও প্রায় দুই বছর ধরে ক্লাস না করিয়ে নাম মাত্র একটি  ঘর দেখিয়ে সরকারি বেতন-বাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন বিদ্যায়লটির তিন সহকারি শিক্ষকসহ প্রধান শিক্ষকা। 

এবিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে পাওয়া না গেলেও পরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা সীমা রানীর বাড়িতে গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তাকে পাওয়া য়ায়নি। 

এতো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে স্কুলটি সরকারিকরণ ও শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলো এবিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নাসির উদ্দীন খলিফার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন মিডিয়ায় ক্যামেরায় সাক্ষাৎকার দিতে উপর মহল থেকে নিষেধাজ্ঞা আছে। আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জেছের একই সুরে কথা বললেও পরে ফোন কলে বক্তব্য দিতে রাজি হন তিনি। পরে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারিভাবে পরিচালনা না করে বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা অতিরিক্ত ভুয়া ছাত্র-ছাত্রী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকাও উত্তোলনসহ প্রতিষ্ঠানের নামে পাওয়া সরকারি বই এনে তা কেজি মূল্যে বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh