চলনবিলের শুঁটকির কদর বাড়ছে

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে সিংড়া উপজেলার নিংগইন এলাকা শুঁটকির জন্য জনপ্রিয়। নাটোর চলনবিলের মাছের শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। সিংড়া অঞ্চলের দেশীয় শুঁটকির স্বাদে-ঘ্রাণে অতুলনীয়ভতাই সারাদেশে এর কদর রয়েছে।

নাটোর চলনবিলে নিংগইন এলাকার কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ওই শুঁটকিপল্লী। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার চাতালের মাছ কাটা-বাছাইয়ের শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাঁশের মাচায় ছৈ-এ ঢাকা চালার নিচে স্তূপ করে রাখা আধা-শুকনো দেশীয় চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসি, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শোল, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, কৈসহ বাহারি দেশীয় মাছের শুঁটকি। কয়েক বছর আগের তুলনায় এবার শুঁটকির চাহিদা ও মাছের উৎপাদন বেশি।

নিংগইন শুঁটকি পল্লীর ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম জানান, মাছের প্রজাতি, আকার এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শুঁটকির দাম নির্ধারণ করা হয়। সাইদুর রহমান জানালেন কীভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, জেলেদের কাছ থেকে মাছ সংগ্রহের পরে নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করে লবণ মেশানো হয়। তারপর বাঁশের মাচায় টানা তিন দিন রোদে শুকানো হয়। বড় মাছ হলে কেটে ছোট ছোট টুকরা করা হয়।

আড়তদার আবুবকর বলে, চলনবিলে মাছের সংকট এবার কম, তবু শুঁটকি তৈরিতে খরচ হচ্ছে। মাছ বেশি বা কম হোক শ্রমিকদের নির্ধারিত টাকাই মজুরি দিতে হয়। সব মিলিয়ে শুঁটকি তৈরিতে লাভের মুখ দেখছে তারা। চলনবিলের মাছের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চল থেকেও অল্পকিছু মাছ আসে ওই শুঁটকি পল্লীতে। শীত মৌসুমে শুঁটকিপল্লীতে কাজ করেই তাদের বাড়তি জীবিকা নির্বাহ করে। বিলের মাছগুলো কিনে বাইরের বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে।

এ বছর শুঁটকি চলে যাচ্ছে ভারতসহ নানা দেশে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লাহ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, চলনবিলে মাছের উৎপাদন বিগত দিনের চেয়ে ভালো। গত বছর ২১০ টন শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে। এবার উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, শুঁটকি শ্রমিক ও মালিকদের আমরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে সজাগ আছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলে এবং ব্যবসায়ীরা যেনো লাভবান হন সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা ব্যবসা সম্প্রসারণে কাজ করছি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh