সূর্যমুখীর অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

হলুদ রঙের নান্দনিক একটি ফুল সূর্যমুখী। দেখতে সূর্যের মতো ও সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তাই ফুলকে সূর্যমুখী বলে। সূর্যমুখী থেকে তৈরি তেলও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ। 

বিশ্বেজুড়েই সূর্যমুখী তেলের চাহিদা এখন ব্যাপক। আমাদের দেশেও ক্রমশ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর তেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুবই কম ও হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি ও ই। এই তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

পর্যটনসমৃদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলায় শিমুল বাগান, বারেকটিলা, শহীদ সিরাজ লেক, যাদুকাটা নদী, টাংগুয়ার হাওরের পর এবার পযর্টক ও দর্শনার্থীদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সূর্যমুখী বাগান। 

জেলার ১১টি উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী বাগানে এসে অনেকেই নিজে, বন্ধু-বান্ধবসহ ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। এ বাগানের ছবি এখন ফেসবুকে ভাইরাল। এসব পোস্ট দেখে সৌন্দর্যপ্রেমী ও পর্যটকদের মাঝে বাগানটি দেখতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ছে। একজন অন্যজনের কাছ থেকে খবর নিয়ে অনেকেই আসছে সূর্যমুখীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।


এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে সুনামগঞ্জে জেলার সদর উপজেলার আব্দুর জহুর সেতু পাড় হয়ে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক সংলগ্ন স্বাধীন বাজার,লালপুর গ্রামে স্বপ্ন ছোঁয়া সানফ্লাওয়ার গার্ডেনে। আর এই বাগানের এই দৃশ্য থাকবে আগামী কয়েক মাস। 

জেলা কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে বাণিজ্যিক ও পর্যটকদের আনন্দ দেয়ার উদ্দেশে দুই বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছে লালপুর গ্রামের স্থানীয় যুবক নজরুল ইসলামসহ তার তিন বন্ধু মিলে। তারা চারজন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় এক হাজার গাছের প্রতিটিতে ফুল ফুটেতে শুরু করেছে। সকালে সূর্যের দিকে মুখ করে ফুটে থাকা এসব ফুলের সমারোহ বিকালে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সৌন্দর্য প্রেমীদের কাছে টানছে। 

নজরুল ইসলাম জানান, সূর্যমুখীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে অনেকে দর্শনার্থী সমাগম ঘটেছিল বাগানে। এই মৌসুমি পর্যটন এলাকাটিকে ঘিরে জমে উঠেছে ছোটখাট কিছু দোকানপাটও। শুকনা খাবার, তরমুজ ও চা নিয়ে বসে গেছেন কয়েকজন স্থানীয় মানুষ। অনেক বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা, মোটর সাইকেলের চালকরা পযর্টকদের আনা-নেয়ায় বেশ ভালো আয় করেছে। বাড়তি রোজগারের উপায় পেয়ে ব্যবসা করতে পেরে খুশি অনেকেই।

জেলা শহরের বাসিন্দা বাবুল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম সুমন জানান, হাজারো ফুলের সমারোহে মুগ্ধ আমরা। ফুলের সৌন্দর্যে কিছু সময় আনন্দে থাকা যায়। সূর্যমুখী বাগান আসলে অন্যরকম, যা কোথাও আমি পাইনি। 


বাগানে বেড়াতে আসা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, শহরের অদূরে সূর্যমুখী বাগানটি খুবই সুন্দর। যাত্রাপথে এ ফুলের সৌন্দর্য আমাদের কাছে টেনে নিয়েছে। স্মৃতি ধরে রাখতে সূর্যমুখীর কাছে গিয়ে কিছু ছবি তুলেছি। ভাল লেগেছে।

বাগানের মালিক নজরুল আরো জানান, ১৫ মার্চের মধ্যে ফুলগুলো বীজ সংগ্রহের উপযোগী হয়ে উঠবে। তখন সূর্যমুখী গাছ কেটে বীজ সংগ্রহ করা হবে। 

তিনি আরো জানান, আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে জন প্রতি ১০ টাকা নিচ্ছি। বেড়াতে আসা লোকজন বাগানের ভেতরে বাগানে প্রবেশের জন্য একটি ছোট সেতু, একটি বসার ঘর ও শিশুদের জন্য দোলনা তৈরি করে দিয়েছি। আশা করি আমাদের দেখে স্থানীয় কৃষক ও বেকার যুবকরা এই সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হবে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh