ব্রোকলির সঙ্গে টমেটোর চাষে সফলতা

প্রায় ৬০ শতক জমিতে টমেটো গাছের ফাঁকে ফাঁকে ব্রোকলির ফলন হয়েছে। এসব সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক ফারুক আহমেদ। তিনি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চুনারুঘাটে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। 

চাকরিতে দায়িত্ব পালন করে বাকি সময় বারোমাসি সবজি চাষে যুক্ত আছেন। চলতি মৌসুমে গোপালপুরে বাড়ির কাছে ওই ৬০ শতক জমিতে ব্রোকলি চাষ করেন। ব্রোকলির গাছ বড় হওয়ার পর ফাঁকে ফাঁকে উন্নতজাতের টমেটো গাছ রোপণ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও ফলন ভালো হওয়ার কারণে তিনি ব্রোকলি ও টমেটো চাষ করে সাফল্য পান। তার এই সাফল্য দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন ব্রোকলির সঙ্গে টমেটো চাষের। 

ফারুক আহমেদ বলেন, ৬০ শতক জমিতে ব্রোকলির সঙ্গে টমেটো চাষে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর চাষাবাদে কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। আর ভালো ফলনের জন্য শুকনো গোবর ও কিছু পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হয়েছে। তবে বর্তমানে সবজির দাম কম। ব্রোকলি বিক্রি করছি। আর ১০ দিন পর থেকে টমেটো বিক্রি করবো । তাই টমেটোর দাম বাড়ার আশাও করছি। আশা রাখি লাভ হবে। 

তিনি আরও বলেন, ফুলকপির মতো দেখতে গাঢ় সবুজ রঙের এই ফসলটি হবিগঞ্জের আনাচে-কানাচেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন এটি এখানে পরিচিত সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে জেনে ভালো লাগছে। 

তিনি বলেন, চাকরির দায়িত্ব পালনের পর নিজ জমিতে কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকেন। তার রয়েছে সবজি চারার নার্সারি। সবজির নার্সারি থেকে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা টমেটো, ব্রোকলি, বেগুন, কাঁচা মরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ সবজি চারা ক্রয় করে নিয়ে নিজেদের জমিতে রোপণ করছেন। তারাও ভালো ফলন পাচ্ছেন জেনে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। 

কৃষক কাছুম মিয়া বলেন, অচেনা থাকা ব্রোকলি সবজিটি ক্রেতাদের কাছে খুবই প্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রেতারা আগ্রহের সঙ্গে এ সবজিটি ক্রয় করছেন। দিন দিন ব্রোকলির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী মৌসুমে আমার জমিতেও ব্রোকলি চাষ করতে প্রস্তুতি নিয়েছি।

উপজেলার কৃষি অফিসার রমজান আলী বলেন, মনের ইচ্ছে ও শ্রম কাজে লাগিয়ে ব্রোকলির সঙ্গে টমেটো চাষে সফলতা পেলেন ফারুক আহমেদ। ফসলগুলো চাষে সফলতা আশায়, অন্যান্য কৃষক উৎসাহিত হয়েছেন। অনেক কৃষকই ব্রোকলির সঙ্গে টমেটো চাষ করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। চাইছেন পরামর্শ। কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। 

 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, ফারুক আহমেদের সফলতা দেখে উৎসাহিত হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই সঙ্গে ব্রোকলি ও টমেটো চাষাবাদ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষকরা। বিশেষ করে ব্রোকলিতে ভিটামিন সি, ক্যান্সার প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণ, বয়স ঠেকায় ও ত্বক সুন্দর করে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh