যাদুকাটা নদীতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে গঙ্গাস্নান

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের যাদুকাটা নদীতে জেলা প্রশাসনের জারিকৃত সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গঙ্গাস্নান করছেন।একইভাবে শাহ আরেফিনের ওরসেও তার ভক্তবৃন্দ এসেছেন।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ভোর থেকেই হাজার হাজার ভক্ত কোনো রকম কার্যবিধির তোয়াক্কা না করে গঙ্গাস্নান করেন যাদুকাটা নদীতে।এর পূর্বে বৃহস্পতিবার রাতেই হিন্দু ধর্মের সাধক ও বারুণি স্নানের প্রবর্তক শ্রী অদ্বৈত আচার্যের জন্মস্থান যাদুকাটা নদী তীরে নবগ্রামে গিয়ে পৌঁছান হাজার হাজার দর্শনার্থী। এ সময় প্রশাসন তাদের বারণ করেও হিমশিম খায়।

এদিকে সচেতন মহল ক্ষোভের সাথে জানান, সরকারী নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধ মানছে না। মানছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। আর প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে করানোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত আরো ভয়াবহ হবে। এর ফলাফল আমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। 


জানা যায়, কয়েকশ’ বছর ধরে জেলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতি বছর বাদাঘাট ইউনিয়নের সীমান্তের যাদুকাটা নদীতে গঙ্গারূপী তীর্থ মনে করে মনোবাসনা পূরণের জন্য সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী অদ্বৈত আচার্যের আবির্ভাব উপলক্ষে শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধাম, লাউড় (নবগ্রাম) রাজারগাও গ্রাম সংলগ্ন জাদুকাটায় গঙ্গাস্নান ও লাউড়েরগড়ের শাহিদাবাদে এলাকায় হযরত শাহ আরেফিন (রহঃ) তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ওরস উৎসবে পুণ্যের আশায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়। দুই ধর্মের দুই আধ্যাত্মিক সাধকের লাখো ভক্তের আগমনে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়।  

প্রতি বছর জাদুকাটা নদীর দুইপাড়ে গঙ্গা স্নানোৎসব ও পণাতীর্থ মেলা উদযাপন হয় একই সময়ে। এই দুটি উৎসব শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলিমের মিলনোৎসব হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। এবার মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলা প্রশাসন গত ১ এপ্রিল পুণ্যস্নান ও শাহ আরেফিনের ওরস উৎসব স্থগিত করে। গত বছর ও একেই কারণে নিষেধাজ্ঞা ছিলো।

করানোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ বছরও নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হয় সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেই হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যস্নানে আসেন। দলে দলে তারা শুক্রবার সকালে পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেন। একইভাবে শাহ আরেফিনের ওরসেও তার ভক্তবৃন্দ আসছেন বলে জানা গেছে।


প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করানোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় শাহ আরেফিন (রহ.) এর ওরস, পণাতীর্থ মেলা ও স্নানোৎসব বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোতে জনসমাগম এড়াতে ১৪ দিনের নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় এবারের ওরস ও গঙ্গা স্নানোৎসবের সকল ধরনের আয়োজন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

শাহ আরেফিন ওরস উদযাপন ও পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আলম সাব্বির জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনানুযায়ী হযরত আরেফিন (রহ.) এর ওরস উদযাপন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূর-দূরান্তের অনেকে আসার আগ্রহ দেখালে আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এর পরও মানুষজন আসছে। আমরা তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছি। 

শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধাম, লাউড় (নবগ্রাম) কমিটির সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণ সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, পণাতীর্থ মেলার তারিখের সাথে মিল রেখে লক্ষাধিক ভক্তের উপস্থিতিতে শাহ আরেফিন ওরস ও গঙ্গা স্নানোৎসবের সকল কার্যক্রম বন্ধ। এরপরও শাহ আরেফিনের ভক্তরা আসছে আমাদের পক্ষ থেকে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।


তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল লতিফ  তরফদার জানান, এবার করোনার কারণে যাদুকাটায় বারুণি স্নানে আসতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে তারা পুণ্যস্নান সম্পন্ন করছেন। তবে আমরা কঠোর হওয়ায় এখন তাদের উপস্থিতি কমেছে।

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শাহ আরেফিন (রহ.) এর ওরস ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গঙ্গা স্নানোৎসবসহ সকল ধরনের জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা স্নান ও পণাতীর্থ বারুণী মেলায় গতবছরের মতো এবারো বন্ধ আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু ধর্মের মানুষজনকে ফিরিয়ে দিলেও অনেকে লুকিয়ে যাচ্ছে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh