১৮ বছর ধরে বাল্লা রেলপথ বন্ধ

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা-হবিগঞ্জ রেলপথ বন্ধ হয়ে আছে ১৮ বছর। পরিত্যক্ত রেল পথটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের নাম। রেলপথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ জংশন নামটি মুছে গিয়ে স্টেশন লেখা হবে। তাই জশংনের ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত এ রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালুর দাবি স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯২৮ সালে ব্রিটিশ সরকার হবিগঞ্জ জেলা শহর  থেকে শায়েস্তাগঞ্জ জংশন হয়ে বাল্লা সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপন করে। সে সময় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১৩টি বাগানের চা-পাতা রফতানি ও বাগানের রেশনসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র আমদানি করার একমাত্র মাধ্যম ছিল এ রেলপথ। স্বাধীনতার পর এ লাইনটি এরশাদ সরকারের প্রথম দিকে এ লাইনটি সর্বপ্রথম অঘোষিত ভাবে বন্ধ হয়। পরে আবার চালু হয়। এরপর ১৯৯১ ও ১৯৯৬ এবং সর্বশেষ ২০০৩ সালে এ লাইনে  ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অঘোষিতভাবে বন্ধ হওয়ার পর  থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল রেলের বিশাল সম্পদের দিকে নজর দেয়। পরে আবার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইনটি উঠিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়। তার সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেল লাইনের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের রেলের শিক, পাথর, সিগন্যাল, তার, নাটবল্টু ও ওজন মাপার যন্ত্রপাতি এবং ৭টি স্টেশনের অবকাঠামোসহ কোটি কোটি টাকার মালামাল লুটপাট শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ ভাগ লুটপাট হয়েছে। লুটপাটকারীরা অনেকেই এখন বিলাস বহুল বাড়ি ও গাড়ির মালিক।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-প্রকৌশলী (পথ) সাইফুল্লাহ রিয়াদ বলেন, শুধু যোগদান করেছি। পরিত্যক্ত স্টেশন ঘরগুলো ঝরে ঝরে পড়ছে। এ পথ পুনরায় সংস্কার করে  ট্রেন চালু হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আর যদি ট্রেন চালু না হয় তবে শায়েস্তাগঞ্জ জংশন নাম পাল্টে স্টেশন হবে। কারণ জংশন থাকতে হলে ফাঁড়ি রেলপথ থাকতে হয়।

রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. হারুনুর রশিদ বলেন, পরিত্যক্ত এ রেলপথের এরিয়া শায়েস্তাগঞ্জ ও চুনারুঘাট উপজেলার প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। বিশাল এ  রেলপথে এখন চুরি হচ্ছে না। চুরি হলে প্রকৌশল বিভাগ থেকে অভিযোগ আসবে। অভিযোগ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ তৎপর আছে। 

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //