করোনার পাশাপাশি বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

মহামারি করোনাভাইরাসের মতোই ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। প্রতিদিনই বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এমন চিত্রই দেখা গেছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 

এর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে কাঁঠাল গাছের নিচে চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। হঠাৎ করেই বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যবিভাগও। এমনকি ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে বরিশালে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআরের প্রতিনিধি দল। গ্রাম পর্যায়ে তারা ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে, ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লেও চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সঠিক সময়ে ওষুধ এবং আইভি স্যালাইন না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। এসব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। যদিও চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগী স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। তাদের দাবি সরকারিভাবে যতটা বরাদ্দ রয়েছে তার সবটুকুই দেয়া হচ্ছে রোগীদের। আবার রোগীর চাপ বাড়লেও জনবল সংকট আগের মতই রয়ে গেছে বলে দাবি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের।

এ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়শা আক্তার জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই আমাদের রোগী বেড়ে গেছে। এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তাদের ওয়ার্ডে এমনকি বারান্দায়ও জায়গা দিতে পারছি না। সংকট মোকাবেলায় ওয়ার্ডের বাইরে গাছতলায় চাদর বিছিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, আমাদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি মাত্র চার শয্যার। এর মধ্যে দুটি পুরুষ এবং অপর দুটি মহিলা ওয়ার্ডের জন্য। যেখানে প্রতিদিন বহুগুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। অথচ আমাদের চিকিৎসক, নার্স এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। তাই এতোগুলো রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে কিছুটা সংকট সৃষ্টি হতেই পারে। তবে নানা সংকটের মধ্যেও আমরা সাধ্য মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, গ্রাম অঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগ সময় গৃহস্থালির কাজে পুকুর এবং ডোবার পানি ব্যবহার করে থাকেন। আবার শহর পর্যায়ে বিশুদ্ধ পানি পান করলেও রাস্তার পাশে নোংরা এবং উন্মুক্ত স্থানে তৈরি অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন। এ খাবার থেকেই ডায়রিয়ার জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh