ভালো নেই চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা

ভালো নেই চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক ও কর্মচারীরা। ছবি : চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ভালো নেই চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক ও কর্মচারীরা। ছবি : চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ভালো নেই নগরীর হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক ও কর্মচারীরা। করোনাভাইরাসের কারণে চলমান বিধিনিষেধে হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো খোলা থাকলেও ব্যবসা হচ্ছে না আগের মতো। গতবছরের মতো এবছরও বিশাল অংকের লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা। 

প্রতি বছর রমজানের সময় হোটেল-রেস্টুরেন্টে ইফতার মাহফিল হতো। এতে বেশ জমজমাট থাকতো হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলো। কিন্তু দেশে করোনা পরিস্থিতিতে চলমান বিধিনিষেধের কারণে হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে ইফতার মাহফিলসহ ভেতরে বসে খাবারের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান গুনছেন বলে জানান নগরীর হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। 

এমন খারাপ দিন শুধু এবছরই নয়, গেল বছরও কাটিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যবসায়ীরা সরকার থেকে পায়নি কোনো প্রনোদনা। 

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি মহানগরের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম নগরীতে এই সমিতির আওতাভুক্ত ছোট-বড় মিলে পাঁচ হাজার হোটেল-রেস্টুরেন্ট আছে। এ হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে কাজ করে তিন লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। করোনায় বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসা হচ্ছে না এ ব্যবসায়ীদের। কিন্তু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এ তিন লাখ হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকের জীবন। অনেকে এরই মধ্যে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। 

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি ইলিয়াস আহমেদ ভূইয়া বলেন, দুই বছর ধরে আমরা হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকরা খুবই খারাপ সময় কাটাচ্ছি। অন্য সব ব্যবসায়ীদের কমবেশি সরকার অনুদান দিয়েছে। কিন্তু আমরা দুই বছরে দুই টাকা কানাকড়িও পাইনি। কেউ খবর রাখেনি আমরা কেমন আছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাথে এ বিষয় কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। প্রশাসককে লিখিতভাবেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি আমাদের চিঠির কোনো উত্তরই দেননি। অথচ আমরা সরকারকে বিশাল অংকের ভ্যাট ও প্রায় ৮-১০ রকমের লাইসেন্স ফি দিয়ে থাকি। আমাদের একটা রেস্টুরেস্টে মাসে এক থেকে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ থাকে। এছাড়া এখন ব্যবসা বন্ধ আমরা আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। কিভাবে তাদের বেতন দেব।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি ও নগরীর স্টেশন রোডের নিজাম হোটেলের সোনার বাংলা রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হোসোইন বলেন, গত বছর ও এবার মিলে ব্যবসার খুবই করুণ অবস্থা। আমার তিনটে হোটেল মিলে ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। সীমিত পরিসরে দোকান খোলা থাকলেও এই ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর খাবারের খরচও উঠছে না। আমার প্রতি বছর ১০ রমজানের মধ্যে যে আয় হয় তা দিয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বোনাসের টাকা দিয়ে দিতাম। কিন্তু গেল বছর ও এবছর মালিক পক্ষ যে টাকায় পণ্য কিনছে সে টাকাও উঠাতে পারছি না। এ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছি নিজের পকেট থেকে। এমন নাজুক অবস্থা থেকে কবে পরিত্রাণ পাবো তা আদৌ বুঝতে পারছি না।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের ক্রীড়া সম্পাদক নগরীর বহদ্দারহাটের ম্যানিলা হোটেলের মালিক মো. ফজল কাদের বলেন, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। আমার হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিকরা চাই আমাদের জন্য সরকার কিছু একটা ভাবুক। আমি আর্থিকভাবে একেবারেই ভেঙে পড়েছি। গতবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিয়েছি নিজের পকেট থেকে। এবছর কি করবো ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছি না। আমার কর্মচারীরা হোটেলের ভিতরে ঘুমাচ্ছে আর নামাজ পড়ছে। এদের যদি এখন আমি চাকরি থেকে বের করে দেই তবে তারা কোথায় যাবে। আমি এমনটা করতে পারি না তাদের সাথে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh