জেলেপাড়ায় হাহাকার

সাগরে মাছের দেখা নেই। তাই মানবেতর জীবনযাপন করছে সাগর পাড়ের জেলেরা। ট্রলার ঘাটে বাঁধা। ডাঙায় ছেঁড়া জাল জোড়া তালিতেই ব্যস্ত জেলেরা। কারও কাছ থেকে পাচ্ছে না কোনো সহায়তা বা ত্রাণ। অনেকেই সংসার টানতে হিমশিম খাচ্ছে আর জীবন বাঁচাতে পড়তে হচ্ছে বিপাকে। 

ককসবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার মাছ ধরে সাগরের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নিবাহের মাধ্যমে জীবন যাপন করে থাকে। একটানা ১০-১৫ দিন সাগরে ভেসে ভেসে যা পায় তা দিয়ে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে দুর্যোগের সংগে যুদ্ধ করে সারা বছর পার করতে হয়। তার ওপর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ।

জেলে হাবিবুর রহমান বলেন, আমি ২৭ বছর ধরে এই কাজে লিপ্ত। ট্রলারের দাদনভুক্ত স্থায়ী জেলে নয়। কোনো ট্রলারে জেলের প্রয়োজন হলে পরিচিতরা আমাকে ডাকলে যাই । ১০-১২ দিনের জন্য কোনো ট্রলারে সাগরে গেলে ৩ হাজার টাকা দেয়। মাছ বেশি ধরা পড়লে প্রতি লাখে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচের টাকা দেয় মালিক। এখন মাছ পড়ছে না । সবকিছু বন্ধের মধ্যে যাচ্ছে। পরিবার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

জেলে শরীফ উদ্দিন বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় অলসভাবে কাটছে সময়। ঘরে যতটুকু সঞ্চয় ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। এ কাজ করে সংসার চালাতে পারছি না। খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি। সুযোগ পেলে পেশা পরিবর্তন করব।

নাজিরারটেক মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আতিক উল্লাহ কোম্পানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ মিলছে না। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস কিংবা দস্যু, সবকিছুই মোকাবেলা করে সাগরে এসব জেলে মাছ শিকার করে থাকে। বর্তমানে করোনার কারণে তারা কাজে যেতে পারছে না। এ কারণে তিনবেলা খাবারও জুটছে না তাদের।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh