ভারতে তরুণী নির্যাতনে জড়িত আলামিন-তানিয়ার বাড়ি যশোরে

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ভাইরাল ভিডিওতে টিকটক হৃদয় বাবুর সহযোগী যশোরের এক যুবক ও এক নারী রয়েছে। আলামিন নামের ওই যুবকের বাড়ি যশোর শহরের চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকায়। তার পিতা ভ্যান চালক মনুমিয়া এবং লাল ফুলহাতা টপস পরা মেয়েটির নাম তানিয়া। তার বাড়ি যশোরের নওয়াপাড়ায়। 

ভিডিও প্রচার হওয়ার পর আলামিনের বাড়ির এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করলেও তাদের দাবি, আট মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করেছে। এদিকে, নির্যাতনকারী ওই চক্রের ব্যাপারেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। 

শনিবার (২৯ মে) যোগাযোগ করা হলে আল আমিনের পিতা মনু মিয়া বলেন, ‘আলামিন ভালো না। বাইরে থেকে আলামিনের কাছে লোক আসতো। ঘরে বসে তারা কিসব (ইয়াবা) খেতো। তাই আট মাস আগে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। শুনেছি, আলামিন ইনডিয়া গেছে, তার বউ বাপের বাড়ি। সেখানে সে কি করছে জানি না, তার সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

স্থানীয়রা জানিয়েছে, আগে থেকেই বেপরোয়া আলামিন দেশে দু’টি বিয়ে করেছে। দুই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের ফেলে সে ভারতে চলে যায়। ভিডিওতে সে গোলাপী ফুলহাতা গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরিহিত এবং তার পায়ে কালো রাবারের ব্যান্ড রয়েছে। ভিডিওতে থাকা লাল ফুলহাতা টপস পরা মেয়েটির নাম তানিয়া। তানিয়াকে আলামিন স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভারতে নিয়ে গেছে। আলামিন বা তানিয়ার কেউই এখনো আটক হয়নি। তারা ওই এলাকায় পালিয়ে রয়েছে। 

সূত্রটি আরো জানায়, গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আলামিন তানিয়াকে নিয়ে অবৈধ পথে বেনাপোল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। যাওয়ার আগে সে চাঁচড়া এলাকার ইয়াবা বিক্রেতা কামরুলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকার ইয়াবা কিনে নিয়ে যায়। ‘অরিজিনাল মাল’ হিসেবে ইয়াবা আসক্ত ‘রাফিকে’ উপহার দেয়ার জন্য এই ইয়াবা সে বেঙ্গালুরু নিয়ে গেছে। 

এদিকে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কথা হয় চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দার সাথে। তারা জানান, এলাকায় এটি জানাজানি হওয়ার পর অনেকে আলামিনের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন। এটি নিয়ে বাড়ির লোকজনও চাপের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় পুলিশও বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজখবর করছে। তারা ওই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রকিবুজ্জামান বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে অনুরোধ জানান। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) বেলাল হোসাইন বলেন, ভারতের তরুণী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনা তিনি জানেন। ওই ঘটনায় জড়িত কারো বাড়ি যশোরে এমন তথ্য এখন তারা পাননি। তবে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh