পাহাড়ি সড়ক সংস্কারে খুশি গ্রামবাস

সড়কটি সংস্কারের ফলে স্বস্তি ফিরেছে গ্রামের মানুষের মাঝে

সড়কটি সংস্কারের ফলে স্বস্তি ফিরেছে গ্রামের মানুষের মাঝে

একে তো পাহাড়ি পথ; তার মধ্যে বেশ সরু। অথচ এই সড়কেই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামের বাসিন্দাদের। স্থানীয় হাটবাজারে যাতায়াত, উপজেলা সদর ও জেলা সদরে আসতেও সেই একই পথ তাদের উপায়। এক কথায় বলতে গেলে যে সড়ক মানুষ চলাচলের জন্য অনুপযোগী; সেখানে কৃষি পণ্যসহ অন্যান্য পরিবহনে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ। তার মধ্যে বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে চলাচলে মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে; কিন্তু অসহায় গ্রামের মানুষদের এ সড়কটিই একমাত্র ভরসা। তবে সম্প্রতি সরকারিভাবে সড়কটি সংস্কারের ফলে স্বস্তি ফিরেছে গ্রামের মানুষের মাঝে। 

এটি রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত লংগদু উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কুসুমছড়ির একটি পাহাড়ি সড়কের চিত্র। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের (সিসিআরপি) অধীন কুসুমছড়ি গ্রাম থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কটি সংস্কার কাজ করা হয়েছে। পুরো সড়কের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। সিসিআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার কাজ করা হলো। জানা গেছে, ডেনমার্কভিত্তিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিসের (ডানিডা) অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইউএনডিপি যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল (সিসিআরপি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। 

কুসুমছড়িছড়া গ্রামের মুরব্বিরা জানান, পুরো গ্রামের মানুষদের কুসুমছড়ি থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এই পাহাড়ি সড়কে প্রত্যহ চলাচল করতে হয়; কিন্তু এটি এতটা পাহাড়ি সরু পথ যে, গ্রামের মানুষের এ পথে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আনা-নেওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। বর্ষায় তো ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এখন সড়কটি সিসিআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দুই কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। এতে সড়কটি প্রশস্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে।

কুসুমছড়ি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা প্রভাত শংকর চাকমা জানান, সড়কটির কিছু অংশ সংস্কারের ফলে গ্রামের মানুষের উপকার হলো। আরও কিছু অংশ সংস্কারের বাহিরে আছে। সেটি সংস্কার করা গেলে গ্রামের মানুষ পুরোদমে সুফল পাবেন। একই গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মঙ্গল কুমার চাকমা জানান, সড়ক সংস্কারের কাজটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এখন সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে এগিয়ে এসেছে; এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, না হয় সহজে নষ্ট হয়ে যাবে। 

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের রাঙামাটি জেলার টেকনিক্যাল অফিসার সুশীল চাকমা জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের (সিসিআরপি) অধীনে আমরা রাঙামাটি জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে বরকল উপজেলায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কুসুমছড়ি গ্রাম থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কটি সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। 

সম্প্রতি কুসুমছড়ি গ্রাম থেকে বুরবানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কটি পরিদর্শন করেছেন বরকল উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান শ্যাম রতন চাকমা। তিনি জানান, গ্রামীণ সড়কটি সংস্কারের ফলে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হলো। পাহাড়ের এরকম অনেক প্রত্যন্ত গ্রাম আছে, সেখানকার মানুষ সমতলের মানুষের চেয়ে অনেকটাই সুবিধাবঞ্চিত। ক্রমান্বয়ে এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের ফলে গ্রামের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরবে কিছুটা। সবার কাছে অনুরোধ আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাবেন। আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব। মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েছি। 

প্রসঙ্গত, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই পার্বত্য জেলায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প (সিসিআরপি)’ এর অধীনে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, আধুনিক কৃষি উপকরণ প্রদানসহ নানামুখী কাজ করা হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ডানিডা, ইউএনডিপি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য জেলা পরিষদ।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh