স্ত্রীকে দিয়ে প্রতারণা, দম্পতি গ্রেফতার

সেলিনা-হারুন দম্পতি

সেলিনা-হারুন দম্পতি

ডিভোর্সি পুরুষদের টার্গেট করে রূপসী পাত্রী দেখাতেন সেলিনা-হারুন দম্পতি। পরে রূপসী পাত্রীর পরিবর্তে নিজের স্ত্রীকে দিয়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয়া হতো লাখ লাখ টাকা। সর্বশেষ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রবাস ফেরত ডিভোর্সি এক যুবককে পাত্রী দেখানো নিয়ে ফেঁসে যায় এই দম্পতি।

চট্টগ্রামের রাউজানে নিজের স্ত্রীকে দিয়ে অভিনব কায়দায় এমন প্রতারণার অভিযোগে এই দম্পতিকে বুধবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গশ্চি গ্রামস্থ বসতঘর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টায় তাদেরকে চট্টগ্রাম আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত দম্পতি হলেন- রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের গশ্চি গ্রামের প্রয়াত মাওলানা মো. হারুনের ছেলে ওকার উদ্দিন (৩৮) ও তার স্ত্রী সেলিনা আকতার শিরিন (৩০)।

পুলিশ জানায়, ডিভোর্সি পুরুষদের টার্গেট করে রূপসী পাত্রী দেখাতেন তারা। পরে রূপসী পাত্রীর পরিবর্তে নিজের স্ত্রীকে দিয়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো। সর্বশেষ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রবাস ফেরত ডিভোর্সি যুবক মো. আজিজকে একাধিক পাত্রী দেখানোর পর একটা পাত্রী তার পছন্দ হয়। পছন্দের পাত্রীর নম্বর চাইলে ওই যুবককে তার স্ত্রী শিরিনের নম্বর দেয়া হয়। তার স্ত্রী আজিজের পছন্দের পাত্রী সেজে কথা বলে কয়েক ধাপে বিকাশের মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩০টাকা হাতিয়ে নেয়। মুঠোফোনে কথা বললেও বিভিন্ন অজুহাতে সরাসরি দেখা করতো না। 

পরে প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আজিজ। মামলার প্রেক্ষিতে রাউজান থানার ওসির নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল সেট, ৪টি রবি কোম্পানির সিম কার্ড জব্দ করা হয়। 

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতে করা এক প্রবাসীর প্রতারণা মামলার প্রেক্ষিতে থানার উপ-পরিদর্শক শাহাদাত হোসেনকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রতারণার প্রমাণ পেয়ে অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই দম্পতিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ 

গ্রেফতার আসামিরা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার ও আরো কয়েকটি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh