ভেঙে গেছে ব্রিজ, ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে ব্রিজ

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে ব্রিজ

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটি। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঈদগাঁও জালালাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ। ভোগান্তিতে পড়েছে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে  বৃষ্টির পানিতে ব্রিজটি ভেঙে গেছে।

বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই ইউনিয়নের সাথে ঈদগাঁও থানার যোগাযোগ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় বিক্রয় বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে তারাও।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদের দুই ভাই নদীতে নৌকা দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে। অতিমাত্রায় বালি উত্তোলনের ফলে ব্রিজের স্প্যান দুর্বল হয়ে পড়ে। যার ফলে পাহাড়ি ঢলেই ভেঙে পড়ে ব্রিজটি।

জালালাবাদ  ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান ওসমান সরওয়ার ডিপু বলেন, জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদের দুই ভাই তারেক হাসান ও মোর্শেদ হাসান ব্রিজের নিচ থেকে নৌকা বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে ব্যবসা করেছেন। বর্ষার আগে পর্যন্ত বালি উত্তোলন করেছে তারা। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে ব্রিজের পিলার নড়বড় হয়ে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে।


তিনি আরো বলেন, এ ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের বিশ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর পূর্বে ঈদগাঁও নদীতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাইদের লোভের কারণে ব্রিজটি ভেঙে গেছে। ব্রিজটি পুনরায় নির্মাণ করা না গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে পোকখালী ও জালালাবাদ ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার মানুষ।

ঈদগাঁও জালালাবাদের ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদ বলেন, ব্রিজ বিচ্ছিন্নের খবর পেয়ে পরিদর্শনে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে তার দুই ভাইয়ের বালি উত্তোলনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ব্রিজ ভাঙার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তাকে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। যেহেতু এটি বড়প্রকল্প সেহেতু সিদ্ধান্তটা উপর থেকে আসতে হবে। আপাতত দুই ইউনিয়নের লোকজন যেন চলাফেরা করতে পারে সে জন্য বিকল্প কী করা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //