লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং কমেছে, বেড়েছে সিস্টেম ইন্টারপাশন

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস

পঁয়তাল্লিশ বছর বয়স্কা বিধবা নারী রেহেনা বেগম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে তাঁকে সংসার চালাতে তিন হাজার টাকা পাঠান। তিনি থাকেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে। তাঁর ঘরে তিনটি বাতি ও দুইটি ফ্যান চলে। এতে করে তাঁকে আগে বিল দিতে হতো দুইশত থেকে আড়াইশত টাকা। কিন্তু গত কয়েকমাস যাবত বিল দিতে হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। যার প্রভাব পড়েছে সংসার চালানোর উপর। 

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার ধরণা দেয়ার পর দুইবার মিটার পরিবর্তনের ফলে কিছুটা কমেছে বিলের পরিমাণ। এতে করে গুণতে হচ্ছে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ। তবে মিটার রিডারদের গাফিলতি ও মিটারের সমস্যাকে দায়ী করছেন তিনি। শুধু রেহেনা বেগমই নন, এরকম ভুক্তভোগী পুরো জেলাতে কয়েক হাজার। 

অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং কমলেও বেড়েছে কম সময়ের জন্য বার বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা। এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাকে পল্লী বিদ্যুৎ বলছে সিস্টেম ইন্টারপারশন ফিকোয়েন্সি। আর সিস্টেম ইন্টারপারশন ফিকোয়েন্সি ফলে একজন গ্রাহক প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৫-৭ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছেন। 

সম্প্রতি জেলার ৫টি উপজেলার কমপক্ষে ১০ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিজ্ঞতার তথ্য নেয়া হয়। এসময় গ্রাহকরা জানায়, প্রতিমাসেই তাদের ব্যবহৃত মিটার রিডিংয়ের সাথে বিলের মিল থাকে না। কিন্তু অভিযোগ জানাতেও টাকা লাগে সে কারণে অনেকেই কোনো অভিযোগ না জানিয়ে প্রতি মাসে বাড়তি টাকা দিচ্ছে। 

অন্যদিকে রবিবার সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেলার কমলনগর উপজেলায় ৭ বার, রামগঞ্জে ৫ বার, রামগতিতে ৪ বার, রায়পুরে ৫ বার এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১০ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়েছেন গ্রাহকরা। 

রামগঞ্জের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, রামগঞ্জ শহরে ৫ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে একবার প্রায় ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিলো না। 

রামগতির বাসিন্দা শাহজালাল মাঝি জানান, এমন চলতি মাসে এমন কোন দিন পাওয়া যায়নি যেদিন এমন ঘটনা ঘটেনি। 

কমলনগর উপজেলার গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার জানান, নিয়মিত বিভ্রাট ছাড়াও ঝড় বাতাস হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। 

এছাড়াও কমলনগরের তোরাবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, ২ মাস আগে হঠাৎ করে এক মাসে তার বিল আসে ৩২ হাজার টাকা। পরে বহু দেন দরবার করে সেটা ১ হাজার টাকা করা হয়। বিল বিষয়ে প্রায় সকল গ্রাহকের একই রকম অভিযোগ রয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন মিটার রিডার জানান, প্রতি মাসে একজন মিটার রিডার প্রায় ২ হাজার মিটার রিড করতে পারে। কিন্তু সেখানে তাদেরকে রিড করতে হয় প্রায় ৭-৮ হাজার। সেজন্য সঠিকভাবে মিটার রিডিং আসছে না। সে কারণে গ্রাহক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। 

গ্রাহকদের এসকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু তাহেরের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুর জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১০১ মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী পুরো বিদ্যুৎই সরবরাহ করা হচ্ছে। 

কিন্তু গ্রাহক কেন বার বার ৫ মিনিট থেকে শুরু করে প্রায় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কম সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাটি লোডশেডিং না। সেটা সিস্টেম ইন্টারপারশন ফিকোয়েন্সি। এসময় তিনি জানান লাইন মেরামত বা কোন লাইনের ত্রুটি মেরামতে এমন সমস্যা হয়। 

অন্যদিকে মিটার রিডিং বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মিটার রিডার সংকটের কারণে সেবা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হলেও সেবা দেয়া হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় চলতি বছর পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের ৪ লাখ ৬২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকের তুলনায় মিটার রিডার খুবই কম ব্যবহার করছে পল্লী বিদ্যুতের এ সমিতি। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //