কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র

চার ইউনিটে উৎপাদিত হচ্ছে ১২৫ মেগাওয়াট

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফাইল ছবি

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফাইল ছবি

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি হওয়ায় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চার ইউনিট সচল রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত রয়েছে। 

জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে প্রতিবছরই রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু হওয়ার কারণে কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পায়। এবছরও একই কারণে হ্রদের পানি স্বল্প দেখা দেয়। এতে করে শুষ্ক মৌসুম থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছিল। বর্তমানে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বাড়ায় পুরনো উৎপাদনে ফিরেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেলের উপরেই নির্ভর করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা। পাঁচটি ইউনিট সম্পন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৩০ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহেও কেন্দ্রের দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো ১০০ মেগাওয়াটের নীচে। বর্তমানে গত কয়েকদিনে চারটি ইউনিটে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ১২২-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে ২নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এখনো বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি ইউনিট সচল আছে। এর মধ্যে ১নং ইউনিটে দৈনিক ২৯-৩৫ মেগাওয়াট, ৩নং ইউনিটে ৩০-৩৫ মেগাওয়াট, ৪নং ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৫নং ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১২২- ১২৫ মেগাওয়াট।

কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির ধারণ ১০৯ এমএসএল ((মীন সী লেভেল)। রবিবার (২৫ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ ছিলো ৮৪ দশমিক ৫৩ এমএসএল (মীন সী লেভেল)। স্বাভাবিক সময় হিসেবে কাপ্তাই হ্রদে পরিমাণ থাকার কথা ৮৭ দশমিক ৮৪  এমএসএল (মীন সী লেভেল)। চারটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কারণে কাপ্তাই হ্রদ থেকে কেন্দ্রের পাওয়ার হাউজ দিয়ে প্রতিদিন ২২-২৫ হাজার ফিট কিউফ পার সেকেন্ড পানি কর্ণফুলী নদীতে নির্গত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এটিএম আবদুজ্জাহের জানান, বর্তমানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২নং ইউনিটটি ছাড়া অন্য চারটি ইউনিট সচল আছে। প্রতিদিন ১২২-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে চার ইউনিটে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ এমএসএল কম আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা থাকলে হ্রদের পানির পরিমাণও কমতে থাকবে। 

প্রকৌশলী বলেন, ২নং ইউনিটটি দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক জটিলতার কারণে বন্ধ রয়েছে। আমরা সেটিও সারানোর কাজ করছি; এই ইউনিটটি সচল হলে আমরা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে পারব।

প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনার পর জাতীয় গ্রিডে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদনে মানোন্নয়ন করা হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম জলসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প ‘কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প’-এর অংশ হিসেবে এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপিত হয়েছে। এ বহুমুখী প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ছাড়াও কাপ্তাই বাঁধের ফলে নিম্নাঞ্চলের সেচ ও বন্যা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে কাজ করে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //