লালমনিরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী

লালমনিরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী।

লালমনিরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী।

লালমনিরহাটে পরকীয়া প্রেমে পড়ে স্বামী আব্দুল জলিলকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী মমিনা বেগম (২৭) ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। মৃত জলিল সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের শাহার আলী ছেলে।

মমিনা বেগম লালমনিরহাটের সাপটানা মাজাপাড়া এলাকার মোল্লা মিয়ার কন্যা এবং প্রেমিক গোলাম রব্বানী (২৮) একই এলাকার রমজান আলীর ছেলে। 

এদিকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করলেও  রহস্যজনক কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয় থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে থানার ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সদর থানার ওসি শাহ আলম বেশ জোর দিয়েই বলেন, আব্দুল জলিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে এটা মিথ্যা রটানো হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন হলো কেন? এ প্রশ্নের তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

ওই হত্যার ঘটনায় গতকাল রবিবার (২৫ জুলাই) লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত জলিলের ভাই সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ। তখন নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের শাহার আলীর ছেলে আব্দুল জলিল ৮ বছর ধরে পৌরসভার সাপটানা মাজাপাড়া এলাকায় স্ত্রীসহ বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার রমজান আলীর ছেলে গোলাম রব্বানীর পাশ্ববর্তী তিন পুকুর বাজারে ঔষধের দোকান হওয়ায় মমিনা বেগম প্রায়ই তার দোকানে ওষুধ আনতে যেত। ফলে তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে বাধ সাধে স্বামী আব্দুল জলিল। তাই মমিনা বেগমের ভাই আশরাফুল ইসলামের সহযোগীতায় পরকিয়া প্রেমিক গ্রাম্য ডাক্তার গোলাম রব্বানীকে সাথে নিয়ে ঈদুল আযহার পরের দিন (২২ জুলাই) রাতে মৃত আব্দুল জলিলকে কৌশলে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে মারধর করলে তার মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

পরের দিন সকালে মৃত আব্দুল জলিলকে গোসল করায়ে তার আত্মীয় স্বজনকে খবর দেয়। খবর পাওয়া মাত্রই আব্দুল জলিলের ভাই কয়েক জনকে সাথে নিয়ে সাপটানা মাজাপাড়া এলাকায় সকাল ১০টার দিকে গিয়ে দেখতে পান তখনও তার ভাইয়ের নাক ও গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত পড়ছে। 

এসময় তাদের জানানো হয় স্ট্রোক করে আপনার ভায়ের জলিল মৃত্যু হয়েছে। লাশ তাড়াতাড়ি দাফন করতে হবে। পরে মহূর্তের মধ্যেই এলাকার কয়েকজনকে ডেকে এনে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মমিনা বেগম ও গোলাম রব্বানীর পরকীয়া প্রেম কাহিনী আর আব্দুল জলিলের মৃত্যু এখন এলাকায় সমালোচনার ঝড় তুলেছে। 

স্থানীয় পৌর কাউন্সিল আওয়াল জানান, আমি ২২ জুলাই সকালে জলিলের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে গিয়ে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে চলে আসি। পরে সকাল ১০টার দিকে তড়িঘড়ি করে গিয়ে জানাযায় অংশ নেই। পরকীয়া প্রেমের কথা লোক মুখে শুনেছেন বলেও তিনি জানান। 

পরকীয়া প্রেমিক গ্রাম্য ডাক্তার গোলাম রব্বানী বলেন, সেবা করাই আমার কাজ। এসময় পরকীয়া প্রেমের কথা তিনি অস্বীকার করেন।

মৃত আব্দুল জলিলের ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এসপি মহাদয়ের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি তদন্ত করে সঠিক বিচারের দাবি করেন।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রয়োজনে লাশ কবর তোলা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //