রাতে ত্রাণ নিয়ে অসহায় দম্পতির বাড়িতে ইউএনও

রাতে ত্রাণ নিয়ে রিকশাচালকের বাড়িতে ইউএনও

রাতে ত্রাণ নিয়ে রিকশাচালকের বাড়িতে ইউএনও

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের উত্তর সিড্যা এলাকায় তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন খলিল শিকদার। অসহায় রিকশাচালক খলিল শিকদার সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে ভাড়ায় রিকশা চালাতেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ ও শারীরিক সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের উৎস। দৈনিক আয়ের উৎস রিকশার চাকা বন্ধের সাথে থমকে গেছে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। 

স্ত্রী সন্তানের মুখে কী তুলে দেবেন সেই চিন্তায় হয়ে গেছেন দিশেহারা। এই অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে একটি ভিডিও পোস্ট করেন দুই সাংবাদিক। বিষয়টি নজরে আসে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  সাদিকুর রহমান সবুজের। 

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ঘড়ির কাটায় রাত তখন ৯ টা ১০ মিনিট, হঠাৎ দরজায় কে যেন ঠক ঠক করল। খুলে দেখেন কয়েকজন ভদ্রলোক একটা শুকনো খাবারের পোটলা নিয়ে এসেছেন। পরিচয় জেনেই চোখ যেন কপালে উঠল ওই রিকশা চালকের। তিনি ডামুড্যা  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান সবুজ। ওই রিকশা চালকের  দুর্ভোগে পড়ার বিষয়টি জেনে খাবার ও নগদ অর্থ  নিয়ে ছুটে এসেছেন তিনি।

চোখ ছলছল করা কৃতজ্ঞতাপূর্ণ ওই মুখে যেন কোনো কথাই বের হচ্ছিল না। শুধু মুখ বিড়বিড় করে কী যেন বলছিলেন। সহায়তা পেয়ে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে খলিল শিকদার বলেন, আমি সত্যি কৃতজ্ঞ। আমার এক সন্তান খোঁজ নেয় না আরেক সন্তান প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ বয়সে ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে চার সদস্যের ভরন-পোষণ দিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এমনকি আমার থাকার ঘরও নেই বললেই চলে। বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার পক্ষে দুইবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আজ স্যারের সহায়তা পেয়ে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তিনি আমাকে ঘর নির্মাণের জন্য ১ বান ঢেউটিন ও নগদ ১২ হাজার টাকা ও ১ মাসের খাবার দিয়েছেন। আমি তার এই উপকারে কথা কোন দিন ভুলবো না। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ডামুড্যা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী রিয়েল, সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন খান প্রমুখ। 

এ বিষয় ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এ একটি ভিডিও দেখি। সেখানে এক অসহায় দম্পতির কথা তুলে ধরে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিলো।  সেটা দেখে আমি খুবই মর্মহত হয়েছি। তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত ভাবে নগদ ২ হাজার টাকা প্রদান করি। তাদের ঘর একেবারে ছোট এক চালা। তাই তাদের ঘর তোলার জন্য ১ বান ঢেউটিন স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনের কাছে দেই।  

তিনি আরো জানান, তাদের যতটুকু খাদ্য দেয়া হয়েছে তাতে তাদের প্রায় ১ মাস চলবে। তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //