ব্যতিক্রমি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ইতিহাস, শিক্ষা ও বিনোদন কেন্দ্র

মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের উত্তর বিরঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৩ সালে। বিদ্যালয়টিতে এখন শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই হয় নয় বরং স্থানীয় ইতিহাস, শিক্ষা ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করা হয়েছে।

পুরো বিদ্যালয়টি সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি দিয়ে এবং বারান্দাজুড়ে বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর শোভা পাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকার কর্তৃক ৫ কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যালয়টির বয়স আটাত্তর। হাজারও শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার সিঁড়ি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টি। 

বিদ্যালয়ের সামনে নিজস্ব উদ্যোগে শেখ রাসেল কচিকাঁচা সড়ক ও বঙ্গবন্ধু পুষ্পকানন, বিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বারে একটি দৃষ্টিনন্দন গেট তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে কোরআন, হাদিস, গীতা, বেদ, উপনিষদ, মুনি, ঋষি ও সাহিত্যিকদের অমিয় বাণী  শোভা পাচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিকের কক্ষটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। দ্বিতল ভবনের সিঁড়ির দুই পাশে লাগানো হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন দৃশ্য। বিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ জেলায় সুনাম কুড়িয়েছে। 

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মিনা জানায়, এই স্কুলটির মতো মাদারীপুরে আর কোনো স্কুল  নেই, দেখতে খুব সুন্দর লাগে তাই স্কুলে এলে বাড়ির কথা মনে পড়ে না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) দীপা রানী মণ্ডল জানান, আমার স্বপ্ন ছিল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিকে মনের মতো করে সাজানোর। সেই আলোকেই কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া তিনজন শিক্ষকের মধ্যে একজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় ২ জন শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি স্কুলটির পড়াশোনার পাশাপাশি সাজিয়েছেন একটি ইতিহাস, শিক্ষা ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহাদুজ্জামান মৃধা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপা রানী মণ্ডলের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিদ্যালয়টি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে এগিয়ে যাবে এই কামনা করছি।

মাদারীপুর রাজৈর সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক নিত্যনন্দ হালদার জানান, এই বিদ্যালয় যে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এর জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে ধন্যবাদ জানাই। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি একটি শিক্ষা বিনোদন কেন্দ্র।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, এত চৎমকারভাবে স্কুলটি সাজানোর জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই প্রধান শিক্ষিকা ও ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যকে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //