বরিশালে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ৭

বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় ফাঁড়িতে দায়িত্বরত মেহেদি হাসান নামে একজন কনস্টেবলকে মারধর করে তারা। তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

তারা হলেন- হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান, ছাত্রলীগের নেতা সৌরভ সিকদার, যুবলীগ কর্মী বশির উদ্দীন, মাসুদুর রহমান, সোলায়মান শরিফ, মঈন সিকদার ও  ভ্যানচালক মনিবর।

এ ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন ফাঁড়ি ইনচার্জ  উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান। এর আগে শনিবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর হরিনাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাদল সিকদারের নেতৃত্বে অন্তত দেড় থেকে ২০০ নেতা-কর্মী আকস্মিক এই হামলা চালায়।

শেওড়া সৈয়দখালী ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এনআই) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার রাত ৮ টার দিকে বাদল সিকদার ১৫০ থেকে ২০০ লোক নিয়ে ফাঁড়িতে আসেন। এরা সবাই স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী।

এ সময় তারা ফাঁড়িতে ঢুকে কনস্টেবল মেহেদী হাসানকে খুঁজতে থাকেন। পরে মেহেদি হাসানকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা এবং মারধর করতে থাকে। আকস্মিক এ হামলায় ফাঁড়িতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যায়। এসময় তারা ফাঁড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তাদের এ হামলার পুরো ঘটনাটি ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় হরিনাথপুর বাজারে মনির রাঢ়ী নামে এক ভ্যানচালক বেপরোয়াভাবে ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল মেহেদী হাসানকে ধাক্কা দেয়। এতে মেহেদি রাস্তায় পড়ে যান। পরে ভ্যানচালক মনিরকে থামিয়ে গালমন্দ করেন মেহেদি।

পরে মনির বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাদল সিকদারকে জানায়। এরপর রাতে বাদল সিকদার লোকজন নিয়ে ফাঁড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে মেহেদিকে মারধর এবং ফাঁড়িতে ভাঙচুর করেন।

আহত কনস্টেবল মেহেদি হাসান বলেন, শনিবার মাগরিবের পরে বাজার থেকে ফাঁড়ির দিকে আসছিলাম। হঠ্যৎ একটি ভ্যানগাড়ি বেপরোয়াভাবে এসে আমাকে ধাক্কা দেয়। তাই ভ্যানগাড়ি চালককে থামিয়ে রাগারাগি করেছিলাম। এ ঘটনাটি ভ্যানচালক নেতাকর্মীদের কাছে গিয়ে জানালে তারা সংঘবদ্ধভাবে ফাঁড়িতে এসে আমাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এসময় ফাঁড়িরে আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে তারা।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ফাঁড়ির সিসি টিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন ঢালী বলেন, বিষয়টি আমি ইউএনও সাহেবের কাছ থেকে শুনেছি। তবে যারা গ্রেপ্তার ও আসামি হয়েছে তারা আমাদের দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //