কদর বেশি মধুপুরের কলার হাটের

ভোর হলেই বিক্রির জন্য বিভিন্ন জাতের কলা নিয়ে মানুষ ছুটে আসে বাজারে। কেউবা ভ্যান ভর্তি করে, কেউ সাইকেলের দুপাশে বেঁধে, অনেকেই আসে ট্রলি ভর্তিসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে। আর এখানকার কলার কদর সব সময়ই বেশি। তাইতো চাহিদা অনুযায়ী এখান থেকে কলা কিনে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। ট্রাক ভর্তি করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরে পাঠানো হয় এ এলাকার কলা।

বলছিলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মধুপুর বাজারের কথা। এ বাজারটি জেলার ইবি থানার শেষ সীমানায় হওয়ায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার চাষিরা বিক্রির জন্য এখানে কলা নিয়ে আসেন। নির্দিষ্ট দিন ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই কলা বেচাকেনা হয় এখানে।

পবিত্র রমজান মাস ঘিরে এখন জমজামাট দেশের অন্যতম বৃহত্তম কুষ্টিয়ার মধুপুর কলার হাট। দেশব্যাপী এই এলাকার কলার প্রচুর চাহিদা থাকায় প্রতিদিনই ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৫০ ট্রাক কলা সরবরাহ হচ্ছে কুষ্টিয়ার এই হাট থেকে। দাম ভালো পাওয়া এতে যেমন লাভবান হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষক। তেমনি ভালো বিক্রির কারণে খুশি এখানকার ব্যবসায়ীরা। 

কুষ্টিয়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, লাভজনক হওয়ায় কলা চাষে বিপ্লব ঘটাতে নিরলসভাবে কৃষকের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত মধুপুর কলার হাট। মাসের ৩০ দিনই বসে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই কলার হাটটি। খুব সকাল থেকে এই হাটে সবরি, চাপা সবরি, সাদা সবরি, জয়েন্ট কলা, চাম্পা কলাসহ বিভিন্ন নামের কলা নিয়ে আসতে থাকে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের ছয় জেলার কৃষক ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। 

কলাচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশি লাভ হওয়ায় তারা নিয়মিত ভাবেই এই কলার চাষ করে থাকেন। আর রমজানকে সামনে রেখে অন্যান্য সময়ের চাইতে বেড়েছে কলার চাহিদা। আর চাহিদা বাড়ার কারণে এই কলার বাজারও বেশ চড়া। তাই এখানে কলা বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন তারা।

কুষ্টিয়ার উজানগ্রাম এলাকার কলাচাষি আনারুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর যাবৎ কলার আবাদ করেন। প্রতিবছরই তিনি বিশ থেকে বাইশ বিঘা জমিতে চাপা কলার আবাদ করেন। এই কলা খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ভালো। তাতে করে তিনি বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে ১০ লাখ টাকা লাভ করতে পারেন।

১৫ বছর ধরে কলার আবাদ করছেন কুষ্টিয়ার লক্ষ্মীপুর এলাকার চাষি মাহাবুল। তিনি জানান, একমাত্র কালবৈশাখী ঝড় ছাড়া কলা আবাদে ঝুঁকি কম। তাছাড়াও কলা আবাদে পরিশ্রম এবং খরচ দুটোই কম। এমনিতেই এখন কলার চাহিদা বেশি তার ওপর আবার রমজান মাস চলছে সেই কারণে বাজারে কলার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। যে কলা কিছুদিন আগেও ৬ থেকে ৮ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে। রমজানকে ঘিরে সেই কথা এখন ১২ থেকে ১৫ চাকা হালি পাইকারি ভাবেই বিক্রি হচ্ছে। আর এই হাটে কৃষকেরা সরাসরি কলা বিক্রি করতে পারার কারণে তারা নিজেরাই লাভবান হয়।

প্রতিদিনই খুব সকালেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কলা কিনতে মধুপুর কলার হাটে আসে ব্যাপারীরা। এখানকার কলা খুব সুস্বাদু। দেশব্যাপী এর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। মধুপুর হাটের কলাই লাভও হয় ভালো। এ জন্যই দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে কলা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে থাকেন বলে জানান তারা। তবে কৃষকেরা ভালো দাম পেলেও এবার কলার দাম অনেক বেশি বলেও দাবি তাদের।

শাহাদাৎ হোসেন নামের ঢাকা থেকে আসা এক ব্যাপারী বলেন, এখানকার মাটি কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সেই সাথে স্বাদেও খুব ভালো এবং এখানকার কলায় ক্যামিকেলের ব্যবহার না হওয়ায় এর চাহিদা ভালো। সেই কারণেই নিয়মিত ভাবে এখান থেকে কলা কিনে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করি।

এই হাটের ইজারাদার কাজী আব্দুস সাত্তার জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলে আসছে এই মধুপুর কলার হাট। বর্তমানে এই হাট থেকে বছরে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা রাজস্ব পায় সরকার। তাই এখানে আসা দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যাপারী ও কৃষকের নিরাপত্তা দিতে তারা সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এই হাটের জায়গা বৃদ্ধিসহ সংস্কারে দাবি তাদের।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে এবার কলার আবাদ হয়েছে।

কুষ্টিয়া কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, এখানকার কলা অত্যন্ত সুস্বাদু ও সহজ লোভ্য একটি রসালো ফল। কুষ্টিয়া জেলায় উৎপাদিত কলার দেশব্যাপী অনেক চাহিদা রয়েছে। মধুপুর কলার হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন প্রচুর কলা সরবরাহ হওয়ায় এখানকার কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। রসালো এই ফলের বিস্তার ঘটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //