রাত পোহালেই ভোটযুদ্ধ শুরু সেই আতঙ্কের জনপদ ভাঁড়ারায়

নানা শঙ্কা-আতঙ্কের মধ্যেও সব প্রস্তুতি শেষ, এখন শুধু রাতের অপেক্ষা। রাত পোহালেই আলোচিত পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। 

আগামীকাল বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ, বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সব কেন্দ্রেই ভোট হবে ব্যালটে। 

গত ডিসেম্বরে প্রচারণাকালে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনায় আসে এই ইউনিয়নটি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। স্মরণকালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে গোটা ভাঁড়ারা ইউনিয়ন জুড়ে। 

আতঙ্কের জনপদ খ্যাত এই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন প্রার্থী। আর ৯টি সাধারণ ও ৩টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৩ জন, এর মধ্য নারী সদস্য পদে ১৩ জন এবং পুরুষ সদস্য পদে ৪০ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৬টি, বুথ রয়েছে ১০৪টি। সবগুলো কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ ধরে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন ১৪ জন করে। 

পাবনার পুলিশ সুপারের তদারকিতে শুধু এই ভাঁড়ারাতেই দায়িত্ব পালন করবে চারজন এডিশনাল এসপির নেতৃত্বে ৪টি সেক্টর টিম। এখানে ২ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ২টি টিম, ফায়ার সার্ভিসের ২টি টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১১ জন, একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিম ১৬টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৮টি, চেকপোস্ট ৪টা, সিটিইউটি টিম থাকবে ২টা। 

এছাড়াও ১২ জনের একটি রিজার্ভ টিম রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সবমিলিয়ে ৫ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। 

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা কায়সার আহমেদ বলেন, নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এর আগে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য এতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বলতে গেলে ৩-৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে শুধু এই ইউনিয়ন ঘিরে। 

পাবনা পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে বিন্দু মাত্র ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে যা যা করণীয় তাই তাই করবে প্রশাসন। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খান (৫২) ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানের সাথে সংঘর্ষে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম (৩৫) নিহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সব (চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য, সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য) পদের নির্বাচন স্থগিত করে ছিলেন নির্বাচন কমিশন। পরে গত ২৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন থেকে ১৫ জুন ভোটগ্রণের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করা হয়।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //