দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরার মেয়র বরখাস্ত

সাতক্ষীরা পৌরসভার ১১ কাউন্সিলরের করা ১০টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হওয়ায় মেয়র তাজকিন আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

গতকাল বুধবার (১৫ জুন) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদের বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়। ১০টি অভিযোগের মধ্যে পানির বিল, পৌরকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও পৌরসভার হাট বাজার ইজারা বাবদ ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদেশে আরো বলা হয়, সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র মো. তাজকিন আহমেদ চিশতির বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৭০১ টাকা পানির বিল মওকুফসহ বিল যথাযথভাবে আদায় না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়র এককভাবে মওকুফ করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এছাড়া, ১৪২৩-১৪২৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয় বছরে সাতক্ষীরা পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা বাবদ ৬৬ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫৫১ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ভ্যাট, আয়কর বাবদ ৩৬ লক্ষ ৭০ হাজার ৯৭০ টাকা আদায় ও সরকারি খাতে জমা করা হয়নি এবং উক্ত সময়ের ইজারা লব্ধ অর্থ হাট-বাজার ইজারা নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী বন্টন না করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আবার, বিদ্যমান বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে মার্চ ২০১৬ হতে তদন্তকালীন সময় পর্যন্ত মোট এক কোটি ২৬ লক্ষ ২২ হাজার ৯৪৩ টাকার পৌরকর মওকুফ করা হয়েছে।

উক্ত পৌরকর যথাযথভাবে আদায় না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়র কর্তৃক এককভাবে মওকুফ করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করে মার্চ ২০১৬ হতে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত সময়ে ১৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৭২৬ টাকা ট্রেড লাইসেন্স ফি মওকুফ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি যথাযথভাবে আদায় না করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়র কর্তৃক এককভাবে মওকুফ করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১(১) মোতাবেক, যেক্ষেত্রে কোনো পৌরসভার মেয়র অথবা কোনো কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থী অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবে।

সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র মো. তাজকিন আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে উল্লিখিত অভিযোগসমূহ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (১)(ঘ) মোতাবেক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে একই আইনের ধারা ৩১(১) অনুযায়ী মো: তাজকিন আহমেদকে সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ জনস্বার্থে জারী করা হলো এবং এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে, মেয়র তাজকিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত মেয়রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সুপারিশ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ১৫ জুন ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

দুদকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র মো. তাজকিন আহমেদের (সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের ক্রমিক-১, ২, ৪ ও ৫ এর অভিযোগসমূহ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। 

এদিকে মেয়র তাজকিন বরখাস্ত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্যানেল মেয়র-১ কাজী ফিরোজ হাসান।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //