হলুদ তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন রানা মাতুব্বর

দূর থেকে তাকালে মনে হবে যেন বাঁশের মাচায় লতার সাথে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে কতকগুলো হলুদসদৃশ বল। তবে আরেকটু কাছে গেলে মনে হবে বড় কোনো সাইজের পাকা শসা। এটি আসলে কোনো বল বা শসা নয়। এটি এক প্রকার তরমুজ। যাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ বা হলুদ তরমুজ।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই, পরীক্ষামূলকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে এই হলুদ তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মাদারীপুরের যুবক রানা মাতুব্বর। 

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কমলাপুর এলাকার কৃষক এমদাদ মাতুব্বরের ছেলে রানা মাতুব্বর। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর আর পড়াশোনা করা হয়নি তার। বর্তমানে করেন কন্সট্রাকশনের ঠিকাদারির কাজ। বন্ধু সামিউলের সহযোগিতায় ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সাহায্য নিয়ে শুরু করেন মালচিং পদ্ধতিতে হলুদ তরমুজ চাষ। এতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া এই জমিতে হলুদ তরমুজের পাশাপাশি চাষ হচ্ছে ‘রক মেলন’।

ফেব্রুয়ারির শেষ সময়ে এই জমিতে হলুদ তরমুজ ও রক মেলন মিলিয়ে রোপণ করেন ১৭০০টি চারা। যা এপ্রিলের শেষ সময় হয়েছে বিক্রির উপযোগী। তবে চলতি মৌসুমে শুষ্ক আবহাওয়া থাকায় দিতে হয়েছে ৫ বার সেচ। তার জমিতে ফলানো তরমুজের এক একটির ওজন হয়েছে ৩ থেকে ৪ কেজি। যা বর্তমান বাজারে বিক্রি করছে প্রতি পিস ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে তরমুজের আকৃতি বড় রাখতে প্রতি গাছে রাখা হয়েছে শুধু ২টি করে তরমুজ।

স্থানীয় নাজমুল মোড়ল ও বিধান মজুমদার বলেন, এ তরমুজটির গায়ের রঙ হলুদ হওয়ায় দেখতে খুব সুন্দর এবং ভেতরে টকটকে লাল। খেতেও খুব সুস্বাদু। তরমুজের পাশাপাশি তিনি রক মেলনও চাষ করছেন। দুটি ফলই মাদারীপুরে নতুন। প্রথমবারেই তিনি অনেকটা সফল হওয়ায় এলাকার অনেকে এখন আগ্রহী এই ফল চাষে।

হলুদ তরমুজ চাষি রানা মাতুব্বর বলেন, মাদারীপুরে আর কোথাও এ দুটি ফলের চাষ কেউ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্পপরিসরে এই বাগান করেছি। বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা রয়েছে এ ফলের। আমি শতভাগ সফল না হতে পারলেও অনেকটাই সফল বলা যায়। অনেকেই আসছেন পরামর্শ নিতে। তারও চাষ করার কথা ভাবছেন। বেকার যুবকরা যদি এমন উদ্যোগী হয়, তাহলে তারা নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব কমবে।

মাদারীপুর কালকিনি উপজেলা কৃষি অফিসার মিল্টন বিশ্বাস বলেন, এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ এবং রক মেলন চাষের জন্য উপযোগী। রানা শুধু এলাকায় নয় জেলায় প্রথম দুটি নতুন ফল আবাদ করেছেন। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হবে আগামীতেও।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //