বদলিই যেনো এলজিইডি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের সর্বোচ্চ শাস্তি!

বদলিই যেনো তার সর্বোচ্চ শাস্তি। সম্প্রতি এক এলজিইউডি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশ পেলেও তাকে শাস্তির ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বরং তাকে হেফাজত করতে তড়িঘড়ি করে বরিশাল থেকে ভোলায় বদলি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদার এবং জনসাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি বরিশাল এলজিইডির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে কাজের বিল ছাড়াতে ঠিকাদারের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ গ্রহণ করছেন। তবে এলজিইউডি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশ পেলেও তাকে শাস্তির ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভিডিওসহ প্রমাণাদি থাকার পরেও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা ঘুষ গ্রহণে কর্মকর্তাদের উৎসাহী করার শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন ঘুষ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আরো উৎসাহিত হবে। সমাজ থেকে ঘুষের ব্যাধি দূর করা সম্ভব হবেনা। তাই এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ঠিকাদাররা।

ভাইরাল হওয়া ঘুষ গ্রহণের ভিডিওয়ের সূত্র ধরে জানা গেছে, বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম তার অফিস কক্ষে বসে একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে একটি কাজের বিল ছাড়ানোর জন্য এক লাখ ৩৭ হাজার টাকার ঘুষ গ্রহণ করেন এবং আরো ঘুষের টাকার জন্য ঠিকাদারকে চাপ দিচ্ছেন। তখন ওই ঠিকাদার নিজের মুঠোফোনের মাধ্যমে কোনো এক ব্যক্তির সাথে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বলিয়ে দেন।

মুঠোফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির কাছেও তিনি ঘুষের জন্য বাড়তি টাকা দাবি করতে শোনা যায়। এসময় ঘুষ আদান প্রদানের পুরো দৃশ্যটি তার কক্ষে থাকা অপর এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

ভিডিওতে সাইফুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেওয়ার কথা বলে ঘুষের টাকা গ্রহণ করছেন। আরো দু-একজনকে ঘুষের টাকার ভাগ দিতে হবে বলে প্রকাশ করেন। পরে মোবাইল ফোনে কথা শেষ করে টেবিলের ওপরে রাখা ঘুষের টাকা গুণে রাবার দিয়ে পেঁচিয়ে অফিসের ডেস্কের ড্রয়ারে রাখেন।

এদিকে, এলজিইডির কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ‘ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি সম্প্রতি প্রকাশ পায়। এমনকি ভিডিওটি এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর হাতে পৌঁছায়। এরপরই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামকে তড়িঘড়ি করেই অনেকটা গোপনে বরিশাল থেকে ভোলা এলজিইডিতে বদলি করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার তদন্ত, শোকজ বা শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, এলজিইডিতে কাজের বিল ছাড়াতে হলে ঘুষ দেওয়াটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ঘুষ গ্রহণ করে আসছেন সাইফুল ইসলাম। যিনি টাকা দিচ্ছেন না তার কাজের বিল ফাইল চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঠিকাদাররা বলেন, সাইফুল ইসলামের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হলো। অথচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করলো না। বরং তাকে বরিশাল থেকে বদলি করে ভোলায় পাঠানো হয়েছে। অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদাররা।

অভিযোগের বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

তবে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিনের কাছে প্রশ্ন করা হলে প্রথম তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। পরে অবশ্য স্বীকার করে বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিওর বিষয়ে জেনেছি। সে এখন আর আমাদের এখানে নেই। এটা কি আমাদের জানার কথা? বিষয়টি তার কাছেই জিজ্ঞাসা করেন।’

আপনার অফিসে বসেই ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আপনার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, এ ঘটনায় আপনার দায়ভার আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘আমার অফিসে ঘটলেও সব জিনিসের উপর কি আমি নজরে রাখতে পারি?’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ঘুষ গ্রহণের অপরাধে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে ভোলায় শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ। তবে এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //