কুমিল্লায় ১৮ মডেল মসজিদ নির্মাণে ধীরগতি

কুমিল্লায় তৈরি হচ্ছে ১৮টি মডেল মসজিদ। ৯ উপজেলার মডেল মসজিদের কাজ এখনো ৫০ শতাংশের থেকে কম হয়েছে। বরুড়া ও মেঘনা উপজেলায় এখনো কাজ শুরু হয়নি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ, করোনার প্রভাব ও অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে কাজে ধীরগতি। সরকার অর্থ দিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। 

সূত্রমতে, ২০১৪ সালে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ এ মডেল মসজিদ। ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ১৮টিসহ দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার। মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প শিরোনামে এ কাজে জেলা শহরে লিফট-এসিসহ চারতলা, উপজেলা শহরে তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে জেলায় ১২শ ও উপজেলায় ৮শ মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করার সুযোগ পাবে।

এছাড়াও নারী-পুরুষের পৃথক অজু ও নামাজের স্থান, পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র, হজ যাত্রীদের নিবন্ধন, পর্যটকদের আবাসন ব্যবস্থা, দাওয়াতি কার্যক্রম, হিফজ মাদ্রাসা, মক্তব বিভাগ, মৃত ব্যক্তির গোসলের ব্যবস্থা, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসন প্রকল্পসহ বহুমুখী ইসলামি কার্যক্রম ও সেবার কথা বলা আছে। যা প্রথমে এপ্রিল ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে এ প্রকল্পের সময় ও খরচ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে সকল মডেল মসজিদের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের সূত্রমতে, জেলার ১৮টি মডেল মসজিদের মধ্যে বরুড়া ও মেঘনা উপজেলায় এখনো কাজ শুরু হয়নি। একমাত্র দাউদকান্দি মডেল মসজিদের কাজ শেষ। তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। চান্দিনায় সীমানা প্রাচীর ও দরজার কাজ হয়নি। বুড়িচংয়ে প্লাস্টারের কাজ চলমান। তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। নাঙ্গলকোটে এখনো তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই হয়নি। চৌদ্দগ্রামের কাজ শেষ পর্যায়ে। মুরাদনগরে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। মেঘনায় চুক্তি হয়েছে, কাজ শুরু হয়নি। তিতাসে জমি নির্ধারণ করা হয়নি। হোমনায় কাজ হয়েছে তিন শতাংশ। লাকসাম, দেবিদ্বার, লালমাই ও সদর দক্ষিণে নিচতলার আংশিক কাজ হয়েছে। বরুড়া ও মনোহরগঞ্জে কাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি। ব্রাহ্মণপাড়ায় তৃতীয় তলার কাজ শেষের পথে। কুমিল্লা সদর ও জেলা সদরে ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুমিল্লার উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এটি গণপূর্ত বিভাগের কাজ। শুরু থেকে কাজে ধীরগতি। ফাউন্ডেশন নিয়মিত পরিদর্শন করে। গত ২০ আগস্ট মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান কুমিল্লার কয়েকটি মডেল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। সেপ্টেম্বরে চৌদ্দগ্রাম ও চান্দিনা মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, জমি অধিগ্রহণ, করোনার প্রভাব ও অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। এখন কাজ নিয়মিত চলবে। যদি অর্থ বরাদ্দ ঠিক থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে। একই সঙ্গে আমরা কাজের গুণগত মানের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //