ICT Division

গড়াই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে ৮ গ্রাম

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গড়াই নদীতে নতুন করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে উপজেলার সারুটিয়া, হাকিমপুর ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের।

ইতোপূর্বে নদীগর্ভে সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব। এমন ভাঙন রোধে আগাম কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতাকে দুষচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এতে করে চরম ক্ষুদ্ধ ওই এলাকার ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া, কৃষ্ণনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা এবং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রাম।

প্রায় দুই যুগের ধরে চলা ভাঙনের কারণে বদলে গেছে গড়াই নদীর গতিপথ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড়ুরিয়া, কৃষ্ণনগর, খুলুমবাড়ি, মাদলা, কাশিনাথপুর ও লাঙ্গলবাঁধ। ভিটেবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পাউবোর প্রধান সেচ খালের কাছে।

সারুটিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের রহিম মিয়া বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে একদম আমার বাড়ির কাছে চলে এসেছে। সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকি কোন সময় ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। প্রায় ২ মাস ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমছে আর ভাঙন ভয়াল রূপ নিচ্ছে। ইতোপূর্বে নদীগর্ভে ভিটেমাটি চাষাবাদের জমি ও সহায়-সম্বল হারিয়েছি আমরা।

গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে গ্রামের একটি কলাবাগান। ছবি: ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।

হাকিমপুর ইউনিয়নের পূর্ব মাদলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সোবহান বলেন, গড়াই নদীর ভাঙনে এলাকার অনেক বাড়িসহ ফসলি জমি যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। এখনই নদী ভাঙন রুখতে না পারলে গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর ভিটেমাটি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাবে।

সহায় সম্বল হারানো একই গ্রামের রেবেকা খাতুন বলেন, নদীগর্ভে সবকিছু হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। নদীর ভয়াল আচরণে গত বিশ বছরে চারবার জায়গা পরিবর্তন করেছি, আবারো আমরা ভাঙনের হুমকির মুখে। আমার স্বামী মারা গেছে, এক ছেলেকে নিয়ে স্বামীর ভিটা আঁকড়ে ধরে আছি। বর্তমানে খুব কষ্টে দিন পার করছি। আমরা যে কষ্টে আছি এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বাররা খোঁজ নেয় না। এই ভাঙন রোধে আগাম কোনো ব্যবস্থা নিলে হয়তো এতো ভয়াবহ রুপ নিতো না সর্বনাশা গড়াই।

এ বিষয়ে ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুন ও ৮নং ধলরাহচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাস উভয়ই জানান, নদী ভাঙন রোধে ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলীর এসব এলাকায় পরিদর্শন করার কথা ছিল। তিনি তা না করে দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। যদি আগাম ব্যবস্থা নিতেন হয় তো এমন ভাঙন হতো না। অতি দ্রুত ভাঙনরোধে পদক্ষেপ না নিলে হইতো পরিবারগুলো সব হারিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে যাবে। তারা অতি দ্রুত ভাঙন রুখতে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, আমি সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি। বেশ ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছে সেখানকার লোকজন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি। দ্রুতই বরাদ্দ আসবে। তখন কাজ শুরু হবে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছি। আশা করি, দ্রুতই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে।

গড়াই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে একটি বসতঘর। ছবি: ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //