ট্রেনে চড়ে সৈকত ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণের পথে

২০২৩ সালের জুনে শুরু হবে ঢাকা-কক্সবাজার রেল চলাচল। ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এ কথা বলেছেন। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রেলপথটি যাবে কক্সবাজারের সমুদ্রতীরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে।

ঝিলংঝা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া এলাকায় তৈরি হচ্ছে পর্যটন নগরীর প্রতিনিধিত্বকারী ঝিনুক আকৃতির ওই রেলস্টেশন। এই স্টেশনে থাকছে লকার, যেখানে লাগেজ রেখে পর্যটকরা সমুদ্রসৈকতে বেড়িয়ে এসে আবার ফিরতি ট্রেন ধরতে পারবেন।

এই রেলপথে আছে কর্ণফুলীসহ ৫টি বড় নদী এবং রামু ও কক্সবাজারের কয়েকটি অভয়ারণ্যসহ বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চল। যেখানে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী চলাচল করে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে ট্রেন কক্সবাজারে সারা দেশের সাথে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। একই সাথে বাংলাদেশ যুক্ত হবে মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের করিডোরে।

শেষ পর্যায়ে রয়েছে কক্সবাজারে ঝিনুকের আদলে তৈরি করা দেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের কাজও।

কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, আগামী জুনের মধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালু হবে। তখন সারাদেশ থেকে ট্রেন সরাসরি কক্সবাজারে যাবে। 

ট্রেন চড়ে কক্সবাজার ভ্রমণ একসময় স্বপ্ন ছিল, এখন বাস্তবায়নের পথে। কক্সবাজারবাসী যেমন অপেক্ষায় আছে, তেমনি সারা দেশের মানুষ ট্রেনে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজার আসার জন্য অপেক্ষায় আছে। আশা করছি- নির্ধারিত সময়ে মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। কক্সবাজারে চলাচলের জন্য ট্যুরিস্ট কোচের আদলে উন্নতমানের কোচ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এজন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় ৫৪টি কোচ কেনা হবে, যেগুলোর জানালা সুপ্রশস্ত। এতে মানুষ অনায়াসে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবে। ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারে ঝিনুকের আদলে একটি আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন ভবন নির্মিত হচ্ছে। ৬ তলাবিশিষ্ট এ ভবনে থাকবে প্রায় সব ধরনের সুবিধা। নির্মাণাধীন আইকনিক স্টেশন বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন তলা ঘুরে দেখেন রেলমন্ত্রী। এ সময় প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, এপ্রিল মাসের মধ্যে স্টেশন বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। 

চট্টগ্রামের দোহাজারী হয়ে কক্সবাজারের রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা, যার শুরু হয় ২০১০ সালে। চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এ প্রকল্পের কাজ করছে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //