আশা জাগাচ্ছে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রথমবারের মতো কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করার জন্য ধানশাইল গ্রামের মাঠে ট্রে পদ্ধতিতে হাইব্রিড ধানের চারা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পদ্ধতি অবলম্বনে চাষিরা লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, আধুনিক কৃষি যন্ত্রগুলো অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ করে। আর এগুলো চালনার জন্য লোকও লাগে অতি অল্প। কিন্তু যান্ত্রিকীকরণের জন্য দরকার যৌথ খামার বা সমবায়ী কৃষিব্যবস্থা। যান্ত্রিকীকরণের আরেকটি অন্তরায় সব কৃষক একই সময়ে চাষাবাদ করেন না। সবার বীজতলা একসময় গজায় না, স্বভাবতই তাই চারা রোপণের সময়ও হয় ভিন্ন, ধানও তাই এক সময়ে পাকে না।

একই কাজের জন্য বিভিন্ন জমিতে আলাদা সময়ে কৃষি যন্ত্রগুলোর ব্যবহারে অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হয় না। তাই কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ হয়নি। কৃষিপণ্য চাষের পুরো প্রক্রিয়াকে যদি একই সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা যেত, তাহলে কিন্তু জমির আল বজায় রেখেও লাভজনকভাবে যন্ত্র ব্যবহার করা যেত। বোরো চাষে এ রকমেরই একটা কার্যকরী উপায় বের করেছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। পদ্ধতিটির নাম দিয়েছেন সমলয়।

এ পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে ফসল কাটা, সবই এক সময়ে একযোগে করা হবে। স্বল্প মানুষের সাহায্যে কাজটা করবে যন্ত্র। জমির অপচয় রোধে এ পদ্ধতিতে প্রচলিত রীতিতে বীজতলা তৈরি না করে প্লাস্টিকের ফ্রেম বা ট্রেতে লাগানো হয় ধানের বীজ। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা হবে।

তারপর রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করা হবে। একটা ট্রান্সপ্ল্যান্টার এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে চারা লাগাতে পারে, বেঁচে যায় সাড়ে চার হাজার টাকা। চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। একই সময় রোপণ করায় নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধান পাকেও একই সময়। মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যাবে। বড় পরিসরে হবে বলে সব প্রক্রিয়াতেই যন্ত্রের ব্যবহার হবে সাশ্রয়ী। 

এ বছর চলতি মৌসুমে ৬১টি জেলার ১১০টি উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় একযোগে চাষ চলছে। এ পদ্ধতি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে উৎপাদন বাড়বে। কম শ্রমিক কম লাগবে বলে প্রতিবছরই কৃষি খাতে যে শ্রমিক সংকট হয়, তাও কাটবে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধানশাইল গ্রামের মাঠে সমলয় পদ্ধতিতে ৫০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হবে। এ কারণে ওই এলাকার মাঠে ৪ হাজার ৫০০টি ট্রেতে ৩০০ কেজি বীজ বপন করে চারা তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে এই প্রথমবার বীজতলা ও চারা তৈরির কাজে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন দিলদার এবং ধানশাইল ব্লকের উপসহকারী  কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন।

শুধু তাই নয়, এবার ট্রেতে বীজতলা, যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ ও কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটাও হবে। এবার এ ৫০ একর জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতেই কৃষি কাজ সম্পন্ন হবে। এ পদ্ধতিতে চাষিরা কম খরচে তাদের ধান ঘরে তুলতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন দিলদার বলেন, আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে কৃষিতে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাচ্ছে, ধানের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমাতে এবং সমলয় পদ্ধতিতে ধানের চাষ বিস্তারের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় প্রথমবারের মতো ধান চাষ করা হবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2023 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //