সাদিক না থাকলেও শামীমকে ভাবাচ্ছেন অনুসারীরা

সংসদ নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেরা হচ্ছে না বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদ ও বরিশাল সদর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর।

কেননা প্রার্থিতা ফিরে পেতে শাম্মী আহমেদের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। সেই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিষয়ে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ চলমান থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের এই বেঞ্চ।

এর ফলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীহীন বরিশাল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য পংকজ নাথের ‘ঈগল’ প্রতীকের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছেন তাদের অনুসারীরা। তবে সাদিকের বিদায়ের পরেও ভাবতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমকে। কেননা আওয়ামী লীগের বৃহৎ অংশ সাদিক আবদুল্লার অনুসারী। সাদিকের অবর্তমানে তারা কোন দিকে যাবেন তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অনেকের মতে বিজয় নিশ্চিত হবে সাদিক অনুসারীদের ভূমিকা থাকবে নির্বাচনের মাঠে।

তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খুলতে রাজি হননি দুটি আসনের বাদ যাওয়া প্রভাবশালী দুই প্রার্থীর পক্ষের অনুসারীরা। তারা জানিয়েছেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে তাদের যাওয়া না যাওয়া।

এর আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে আপিল করে বিফলে যান। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গেলে ‘নো অর্ডার’ পান শাম্মী। এরপর আপিল বিভাগে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। মঙ্গলবার ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে তার সেই আবেদনটিও খারিজ করে দেয়।

অপরদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে মনোনয়ন পত্রের বৈধতা পেলেও দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আটকে যায় বরিশাল সদর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে নির্বাচনী প্রতীক ‘ঈগল’ বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম ও নির্বাচন কমিশন।

এরপর গত ১৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে সাদিক আবদুল্লাহ আবেদন করেন। ২ জানুয়ারি তার আবেদনের বিষয়ে শুনানি করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। শুনানি শেষে সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতার ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ চলমান থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

জানা গেছে, বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। অন্যদিকে বরিশাল-৪ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য পংকজ নাথ।

এর মধ্যে সদর আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীম ও বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হন সাদিক আবদুল্লাহ ও পংকজ নাথ। এদের মধ্যে সাদিক আবদুল্লাহর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম ও শাম্মী আহমেদের বৈধতার চ্যারেঞ্জ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী পংকজ নাথ।

এদিকে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া দলীয় এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন জেলা, মহানগর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বৃহৎ অংশ। এর মধ্যে শুরু থেকেই সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের বৃহৎ অংশ।

অপরদিকে শাম্মী আহমেদ মনোনয়ন পাওয়ার পর পরই প্রকাশ্যে আসে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পংকজ বিরোধীরা। তারা নির্বাচনী এলাকায় পংকজ অনুসারীদের ওপর হামলা-নির্যাতন শুরু করে। সবশেষ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হন পংকজ অনুসারী কৃষকলীগ নেতা। এ ঘটনায় আহত হন পংকজ নাথের অনুসারী অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। সবশেষ ৩১ ডিসেম্বর ভাঙচুর করা হয় মেহেন্দিগঞ্জে পংকজ নাথের নির্বাচনী কার্যালয়।

তবে শাম্মী আহমেদ ও সাদিক আবদুল্লাহর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আপিল বিভাগের আদেশের পর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন দুই প্রার্থীর অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। চ্যালেঞ্জের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভূমিকা থাকবে কী তা নিয়েও কোনো ঘোষণা আসেনি।

যদিও দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বরিশাল এবং হিজলা-মেহেন্দিঞ্জে বাতিল হওয়া দুই প্রার্থীর অনুসারীরা কেউ নাঙ্গল, আবার কেউ যাবেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে। এর মধ্যে হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনে পংকজ নাথকে পরাজিত করতে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমানের ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে অবস্থান নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন পেলেও পংকজের বিজয় ঠেকানো দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

অপরদিকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ বরিশাল সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপনকে সমর্থন দিবেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে ভোটের মাঠে সাদিক না থাকায় তার অনুসারীরা নৌকার বিজয় ঠেকাতে পারবে না বলে দাবি জাহিদ ফারুক অনুসারীদের।

যদিও শেষ পর্যন্ত তারা কোন পথে যাবেন তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাদিক অনুসারীদের কাছ থেকে। এ বিষয়ে জানতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু বলেন, দল যখন করি নির্বাচনে তো অবশ্যই যাবো। নির্বাচনে নৌকা আছে, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন রিপন রয়েছেন যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। কোন একদিকে তো যাবোই। তবে সেটা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্তের পর।

অপরদিকে হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা জানিয়েছেন, পংকজ নাথের ঈগল প্রতীকে ভোট দিবেন না তারা। এটা স্থানীয়ভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে কোন দিকে যাবেন, নাকি ভোট কেন্দ্রে যাবেন না বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই নেতা।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কামাল খান বলেন, আমরা নৌকা প্রতীকের লোক। প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের পরে কোন দিকে যাবো তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবকের (আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ) সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি। ‘ভাই’ যেদিকে যেতে বলবেন আমরা সেই দিকেই যাবো।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //