শেরপুরে দুর্লভ প্রাণী উদ্ধার

শেরপুর পৌর এলাকার দীঘারপাড় মহল্লা থেকে দুর্লভ প্রজাতির ‘হগ ব্যাজার’ স্থানীয় ভাষায় গোর খোদক বা বালি খোদক শূকর বলে পরিচিত দুর্লভ প্রাণী উদ্ধার করেছে জেলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ। পরে প্রাণীটিকে গারো পাহাড়ের রাংটিয়া রেঞ্জের গভীর বনভূমিতে অবমুক্ত করা হয়।

বন্যপ্রাণী বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাণীটি ৪ এপ্রিল শনিবার দুপুরে শহরের দিঘার পাড় মহল্লায় লাল মিয়া নামক এক ব্যক্তি জমিতে দেখতে পান। অদ্ভুত প্রাণীটি দেখে লাল মিয়া আশপাশের লোকজনকে ডাক দেন। পরে তারা প্রাণীটি শিকল দিয়ে বেঁধে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে খবর দেন।

পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন এসে প্রাণীটি উদ্ধার করে শনিবার বিকেলে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকার রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বনে অবমুক্ত করে দেন।

এসময় রেঞ্জের বন প্রহরী জিয়াউর রহমান, আব্দুল হান্নান, মনির হোসেন এবং শেরপুর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের বন প্রহরী আবু হানিফ উপস্থিত ছিলেন।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মনজুরুল ইসলাম জানায়, হগ ব্যাজারে মুখ মূলত বেশ লম্বা, মুখের সম্মুখভাগ গোলাকার। গায়ের রং ধুসর ও বাদামি। মুখের তুলনায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কালো। সামনের দু’পায়ের আঙ্গুল বেশ লম্বা নখ রয়েছে যা অনেকটা শুকরের মতো। এ প্রাণীটি দৈর্ঘ্যে ৬৩ সেন্টিমিটার এবং লেজ ১৫ সেন্টিমিটার। মাটি খুঁড়ে গর্ত করে এই প্রাণীটি বসবাস করে। দিনের বেলায় সাধারণত এরা গর্তে ঘুমিয়ে কাটায়। রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে গাছের মূল-শিকর, কাণ্ড, কীটপতঙ্গ এবং ছোট প্রাণী। এ প্রজাতির প্রাণী প্রায় বিলুপ্তের পথে। শেরপুরসহ সিলেট ও পার্বত্য চট্টগামে কালেভদ্রে এদের দেখা মেলে। 

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ড. মনিরুল খান জানান, ইউরেশিয়ান ওয়াইল্ড জগতের প্রাণী এই হগ ব্যাজার। হগ ব্যাজারকে শূকর বলা হলেও এটি আসলে শুকর প্রজাতির নয়।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //