করোনায় বিশ্বে ১৭ শতাংশ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত

বিশ্বব্যাপী ১০ বছর বয়সীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু লেখা পড়তে (রিডিং) অক্ষম হতে পারে বলে ওয়ান ক্যাম্পেইন নামক সংস্থার নতুন এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। এমনকি কোনো বাক্য সঠিকভাবে বুঝতেও পারবে না বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (২২ মার্চ) দারিদ্র্য নির্মূলে কাজ করা ওয়ান ক্যাম্পেইন নামক সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।

সংস্থাটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ২০২১ সালে ৭ কোটি শিশু শিক্ষার্থী লেখা দেখে পড়তে এবং সঠিকভাবে কোনো বাক্য বুঝতে পারবে না। বিশ্ব ব্যাংক, ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘের সরবরাহকৃত জনসংখ্যাবিষয়ক তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বে ১৭ শতাংশ শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে একটা প্রজন্মের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বিশ্বব্যাপী গত বছর জুড়ে দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাড়ানো হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা ছাড়াও বহাল ছিলো অন্য অনেক বিধি নিষেধ। 

ইউনেস্কো বলছে, গত বছর বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ১৭০ কোটি শিশু শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

মহামারির কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই সুযোগটিও বিশ্বের সকল স্থানের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে পায়নি। প্রযুক্তি ও যথাযথ অবকাঠামোর অভাবের কারণেই অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি।

জাতিসংঘের ধারণা, দারিদ্র্য পীড়িত বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ কোটি শিশু শিক্ষার্থী পুরোপুরি অনলাইন ক্লাসের বাইরে ছিলো।

ওয়ান ক্যাম্পইেন সর্তক করে দিয়ে বলেছে, ১০ বছর বয়সের মধ্যে মৌলিক স্বাক্ষরতার জ্ঞান থাকবে না; এমন শিশুর সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ৭৫ কোটিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। যা বিশ্বের প্রায় প্রতি দশজনের একজন।

ওয়ান ক্যাম্পেইনের গ্লোবাল পলিসি বিষয়ক পরিচালক ডেভিড ম্যাকনায়ার কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, কোনো শিশুর দশ বছর বয়স পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো বাক্য পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারা বা শেখানোটা বড় ধরনরে অর্জন।

তিনি বলেন, এর ফলে শিশুরা ছোট অবস্থায়ই নিজে থেকেই জীবনভর কোনো কিছু শেখা বা আবিষ্কারের দিকে ধাবিত হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে শিশুদের মনে শিক্ষা, নতুন কিছু উদ্ভাবন, চাকরি খোঁজা, উপার্জন করাসহ অনেক কিছুর বিষয়ে সক্ষমতা গড়ে ওঠার বিষয়ে জড়িত।

তিনি আরো বলেন, আমরা যদি জরুরি কোনো পদক্ষেপে গ্রহণ না করি, তাহলে আরো লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা শিশু পাব যারা একটি পৃষ্ঠায় থাকা কোনো শব্দের মানে বুঝবে না।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh