দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা দক্ষ মানব শক্তি তৈরিতে বিশ্বাসী এবং এজন্য উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারও শিক্ষার এই গুরুত্ব উপলব্ধি করে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ লক্ষ্যের উপর জোর দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যেই সরকার বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে। ভবিষ্যতে সকল জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। 

করোনা মহামারির কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাওয়ার পথ সহজ করতে অনলাইনে ৪র্থ সমাবর্তন সম্পন্ন করেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। শনিবার (১৯ জুন) আয়োজিত এই সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। 

সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তারাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে সফলতার প্রমাণ রেখেছে; যা সবসময় আমাদের অনুপ্রাণিত করে আসছে।

দীপু মনি বলেন, অনেক সন্দেহ ও সংশয় নিয়ে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ইতোমধ্যেই তারা সেই সংশয় মিথ্যা প্রমাণিত করে নিজেদের প্রমাণ দিয়েছে। আগামীতে তারাও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে স্থান পাবে- সেই বিশ্বাস আমাদের আছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, রূপকল্প ২০৪১ ছাড়াও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা তাতে নিঃসন্দেহে বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এসময় আগামীতেও ব্লেন্ডিং মুডের শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু চাকরির চিন্তা করলে চলবে না। নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তাও রাখতে হবে। 

দীপু মনি বলেন, জ্ঞানার্জনের পথ কখনো শেষ হয় না। নিজের জানার পথ সব সময় খোলা রাখতে হবে। পরিস্থিতি ভালো কিংবা খারাপ হোক, নিজের শিক্ষার দ্বার সব সময় চালু রাখতে হবে। কারণ, মানুষের শিক্ষার সিংহভাগই প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে অর্জিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থের পেছনে ছুটলে চলবে না। কারণ, অর্থের চেয়ে মেধা ও সময়ের মূল্য অনেক বেশি। নেতিবাচকতা নয়, সব সময় ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করতে হবে। অর্থের প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় পরিণত না করে। এ সময় তিনি করোনাকালীন গ্রিন ইউনিভার্সিটির অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে যতগুলো স্মরণীয় দিন আসে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই সমাবর্তন। 

তিনি বলেন, ডিগ্রীপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা আমাদের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। তবে প্রত্যেক গ্রাজুয়েটকে মনে রাখতে হবে- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলেও জীবনের পাঠশালা তোমাদের প্রতিনিয়ত শেখাবে। তোমাদের নতুন নতুন চিন্তাধারাই সমাজ এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে সরকারের ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন।

সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সমাবর্তনের মাধ্যমে শুধু গ্রাজুয়েশন পর্বের সমাপ্তির ঘটছে না, বরং আজ থেকে জীবনের আরো একটি পর্বের সূচনা হচ্ছে। আর তা হলো ব্যবহারিক জীবন, নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়া ও নিজের অবস্থান তৈরি করার জীবন। গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক গ্রাজুয়েটকে সেই চ্যালেঞ্জে মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রিন ইউনিভার্সিটিকে উত্তরোত্তর এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, সমাবর্তনের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী বৃহত্তর কর্মজীবনে প্রবেশ করে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতাও বাড়ে এই সমাবর্তন থেকে। সুতরাং গ্রিন ইউনিভার্সিটির প্রত্যেক গ্রাজুয়েটকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে। 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি এমন এক সময়ে সমাবর্তন আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি দিচ্ছে, যখন বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পণ করেছি। শুধু তাই নয়, একই বছরে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উৎসব করছি।

সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। 

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। 

বক্তব্য রাখেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সামদানী ফকির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফায়জুর রহমান। সমাবর্তনে মোট ১ হাজার ৪৬৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং ১৩ জনকে ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল দেয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফয়জুর রহমান। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সদস্যগণ, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গ্রিন ইউনিভার্সিটির যাত্রা ২০০৩ সালে। ২০১১ সালে ইউএস-বাংলা গ্রুপ দায়িত্ব নেয়ার পর বৃহৎ আকারে এর পরিবর্তন আসে। ১৮ বছর আগে স্বল্প পরিসরে যে প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল, কালক্রমে তা এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //