বিপাকে শিক্ষার্থীরা

এসএসসির প্রশ্নপত্রে ভুল নির্দেশনা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, চলতি বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। দেড় ঘণ্টায় দুটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নপত্রে আটটি প্রশ্ন থাকবে। ২৫টি মাল্টিপল চয়েজ কোশ্চেনের (এমসিকিউ) জন্য ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ মিনিটে এসবের উত্তর দিতে হবে।

অথচ পরীক্ষা শেষে দেখা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণা ও প্রশ্নপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি আছে। সারা দেশে ‘ক’ সেটের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষার নির্ধারিত সময় দেড় ঘণ্টার বদলে ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পাঁচটি বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

প্রশ্নের মধ্যে এ ধরনের ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা উত্তর লেখার সময় বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেকে তিনটি বা চারটি প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন। দেড় ঘণ্টার মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর মিরপুর-১০ এর আইডিয়াল মহিলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী বলেছেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণা এক ধরনের, প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে আরেক ধরনের। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর চমকে যাই। শুরুতে স্যাররা দেড় ঘণ্টা সময়ের কথা বলেছেন। এ সময়ের মধ্যে পাঁচটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। পরীক্ষার এক পর্যায়ে স্যারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন। এর মধ্যে এক ঘণ্টা সময় চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্রে ভুল নির্দেশনা থাকায় হলের অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। পরীক্ষার শুরুতে স্যাররাও বিষয়টি পরিষ্কার না করায় অনেকের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও ভুল নির্দেশনার কারণে ভালো পরীক্ষা দিতে পারেননি অনেকে।’ পুনরায় এ পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই পরীক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, ‘এটি আসলে ভুল নয়। এসএসসির প্রশ্ন আগেই ছাপানোর কারণে এ সমস্যা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সব শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনে সারা দেশে ক সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারি করে সেট নির্বাচন করা হয়ে থাকে। সেটি আগে কারো দেখার সুযোগ থাকে না। তাই, এটিকে ভুল বলা যাবে না।’

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে জানা গেছে, সব জেলায় ‘ক’ সেটের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে। আগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ সেট তৈরি করা হয়েছিল। সেটি আর বাতিল করা হয়নি। এ কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর কারণে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে ভালো প্রস্তুতি নিয়েও আশানুরূপ উত্তর লিখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //