সাম্প্রদায়িকতার নতুন পাঠ

জাকির তালুকদার।

জাকির তালুকদার।

সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে যেসব পাঠের সঙ্গে আমরা পরিচিত, আজ এই একবিংশ শতকে এসে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রদায়িকতার প্রকৃত অবস্থা তার চাইতে অনেক বেশি ভয়াবহ। এখন জানা যাচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার উৎস আমাদের চিন্তার চাইতে অনেক বেশি দূরবর্তী, ভিত্তি অনেক বেশি দৃঢ়, ইতিহাস অনেক বেশি প্রাচীন, ব্যাপ্তি আমাদের কল্পনার চাইতেও বেশি। অবস্থা যখন এতটাই ভয়াবহ, তখন তার অনুপুঙ্খ পাঠ না থাকলে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কর্মপন্থা নির্ধারণ অপ্রতুল এবং কখনো কখনো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা ভাবতে পছন্দ করি যে, এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়, ইংরেজ আমলেই তার আমদানি। আমরা এই ভেবেও নিজেদের প্রবোধ দিয়ে থাকি যে, সাম্প্রদায়িকতা নিতান্তই সমাজের ওপরের বা রাষ্ট্রীয় স্তরের ব্যাপার এবং আমাদের দেশের বা পার্শ্ববর্তী দেশের সাধারণ মানুষ, যাদের আমরা জনগণ বলে থাকি, তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে মুক্ত।

কিন্তু এখনকার বাস্তবতা জানাচ্ছে যে, সাধারণ মানুষ, সমাজের সবচাইতে নিম্নস্তরের মানুষও বিভিন্ন মাত্রার সাম্প্রদায়িকতায় আচ্ছন্ন। আর ইতিহাস পাঠ জানাচ্ছে যে, ইংরেজ আগমণের অনেক আগে থেকেই সাম্প্রদায়িকতা এই উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার শিকড় ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রোথিত। ইতিহাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যা হওয়ার কথা ছিল শ্রেণিদ্বন্দ্বের ইতিহাস, তা এই উপমহাদেশে পরিণত হয়েছে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাসে।

এই উপমহাদেশে বস্তুত সাম্প্রদায়িকতার শুরু সেই আর্য-অনার্যের দ্বন্দ্বের সময় থেকেই। বহিরাগত, আগ্রাসী এবং বিজয়ী আর্যরা প্রথমেই আর্যাবর্তকে বেঁধে ফেলেছিল বর্ণাশ্রম নামের সাম্প্রদায়িকতায়। এই মাটির সর্বপ্রাণবাদী ধর্মসমূহ আর্যদের বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মের তুলনায় অনুন্নত বলে ঘোষিত হলো। বিজয়ী আর্যদের কাছে এই মাটির সন্তানরা ছিল দাস এবং দস্যু। আর্যদের আগমণের পূর্বে এই উপমহাদেশে ‘দাস’ শব্দটি ছিল অচেনা। ঋগ্বেদে এসে দেখা যাচ্ছে রাজা ‘গরু ঘোড়া ও দাস বিতরণ করছেন’।

এমনকি ঋগ্বেদে পশু শব্দটি মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে দ্বিপদ ও চতুষ্পদ জন্তুর কথা বলা হচ্ছে। আর একবার দাস তো চিরকালীন দাস। ব্রাহ্মণ ঘোষণা দিচ্ছেন-  ‘স্বীয় প্রভু যদি শূদ্রকে দাসত্ব হইতে মুক্তি দেন, তাহা হইলেও শূদ্র দাসত্ব হইতে মুক্ত হয় না; কারণ দাসত্ব তাহার স্বভাবজাত, কে তাহা লঙ্ঘন করিতে পারে?’

বর্ণাশ্রমকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ছাড়া অন্য কিছু আখ্যা দেওয়া সম্ভাববই নয়, কারণ বর্ণাশ্রমের বিধানসমূহ আসছে ধর্মগ্রন্থ থেকে। চতুর্বর্ণেরও বাইরে যে চণ্ডাল, তার সম্পর্কে বলা হচ্ছে- ‘কোনো চণ্ডালকে স্পর্শ করা, তার সঙ্গে কথা বলা বা তার দিকে তাকানোও পাপ। তাকে স্পর্শ করলে শুদ্ধ হবার জন্য সারা শরীর ডুবিয়ে স্নান করতে হবে। তার সঙ্গে কথা বললে (পবিত্র) ব্রাহ্মণের সাথে কথা বলতে হবে; আর তার দিকে তাকালে সূর্যরশ্মির দিকে তাকিয়ে থেকে চোখের পাপ স্খলন করতে হবে।’ এমনকি ‘কোনো শ্রাদ্ধের উৎসর্গীকৃত সামগ্রী যদি চণ্ডাল ও অন্য অন্ত্যজরা দেখে ফেলে তাহলে তা অপবিত্র হবে।’

ব্রাহ্মণ্যবাদ ‘আর্য’ শব্দের অর্থ নির্ধারণ করেছিল- সুন্দর, সভ্য, কৃষ্টিবান। অন্যদিকে ভূমিপুত্র অনার্য মানেই- দাস এবং দস্যু। অধ্যাপক কোশাম্বি যাদের বলেছেন উদ্বৃত্ত বা সারপ্লাস সৃষ্টিকারী শ্রেণি। তাদের শ্রম নিয়োজিত হচ্ছিল জমিতে, কিন্তু ফসল ভোগের অধিকার ছিল কেবলমাত্র ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের।

এই আর্য সাম্প্রদায়িকতার পাল্টা প্রতিবাদ হিসেবে প্রথম আবির্ভূত হয়েছিল লোকায়ত দর্শন। ‘লোকেষু আয়তোঃ’- জনসাধারণের মধ্যে পরিব্যাপ্ত বলেই এই দর্শনের নাম লোকায়ত। এই লোকায়ত বিপ্লবীরা প্রচার করলেন- ‘অজ্ঞ পৌরুষহীন অকর্মণ্য পুরোহিত সম্প্রদায়ের জীবিকার উপায় করে দেবার জন্যই তৈরি হয়েছে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মন্ত্র, তিন তিনটি বেদ’। তারা আরও বলতে শুরু করলেন যে, ‘আসলে স্বর্গ পারলৌকিক আত্মা বলে কিছু নেই’। স্বভাবতই ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় অক্ষশক্তি এদের দমন করেছিল নির্মমভাবে। 

পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহ এসেছিল অনেক শত বৎসরের পরে বৌদ্ধধর্মের হাত ধরে। শিবনাথ শাস্ত্রীর ভাষায়- ‘প্রাচীন আর্য সমাজে ব্রাহ্মণদিগের প্রবল প্রতাপে হীন জাতি সকল যখন কাঁপিতে লাগিল, রাজাদের শক্তি পর্যন্ত যখন নামেমাত্র পরিণত হইল, আধ্যাত্মিক দাসত্বে প্রজাকুলের মনুষ্যত্ব যখন বিলীন হইল, মানব যখন পশুপ্রায় হইয়া পড়িল..’ সেই সময় বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব।

আদি বৌদ্ধধর্ম ক্ষত্রিয়দের দ্বারা প্রবর্তিত হলেও তার প্রধান ঝোঁক ছিল জনসাধারণের দিকেই। এ ধর্মে বস্তুবাদ ও সাম্যের প্রবণতা ছিল অনেকখানিই। ব্রাহ্মণ্যবাদের অনেক মনগড়া তত্ত্বের সরাসরি বিরোধিতা করেছিল বৌদ্ধধর্ম। প্রাণীহত্যার বিরোধিতা করা ছিল বৌদ্ধধর্মের প্রধান স্তম্ভ। ‘তাহারা বলে ছাগল আদি পশুকে মন্ত্র দ্বারা পবিত্র করিয়া যজ্ঞে বধ করিলে তাহারা স্বর্গে যায়। যদি স্বর্গে যাইবার পথ ইহাই হয়, তবে তাহারা তাহাদের বাপ-মা-ভগিনীদের সেই উত্তম পথে স্বর্গে পাঠাইয়া দেয় না কেন?’ 

প্রথম পর্বের নির্ভেজাল বৌদ্ধ ও জৈনধর্মে ব্রাহ্মণ্য পূজা-অর্চনা সম্পূর্ণই বর্জিত হয়েছিল। ব্যাপক জনতার প্রিয় উৎসবগুলিই স্বীকৃতি পেয়েছিল গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত ধর্মে। এই দুই ধর্মকে দুটি শ্রেণির মানুষ বরণ করেছিল সাগ্রহে। শূদ্র তো বটেই, তাদের সঙ্গে বৈশ্যরাও। 

হিন্দু ধর্মের তাত্ত্বিকরা বলে থাকেন যে, বৌদ্ধধর্মকে গ্রাস করে নিয়েছে হিন্দুধর্ম। যেমন- ‘ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু’ গ্রন্থের লেখক প্রফুল্ল সরকার লিখেছেন- ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ধীরমস্তিষ্ক ব্রাহ্মণ মনীষী ও ধর্ম্মাচার্যেরা অপূর্ব কৌশলে বৌদ্ধ ধর্মকে হিন্দু ধর্মের মধ্যে আত্মসাৎ করিয়া ফেলিতে লাগিলেন।’

কিন্তু বাস্তবে সেটি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রত্যক্ষ মদদে সাম্প্রদায়িক উচ্ছেদের দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার ফসল। সেই ‘অপূর্ব কৌশলে’র একটি উদাহরণ কর্ণসুবর্ণের রাজা শশাঙ্ক। তিনি সেতুবন্ধ থেকে হিমগিরি পর্যন্ত বালক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সমস্ত হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন। এমনকি এই আদেশ প্রতিপালনে যে শৈথিল্য দেখাবে, তার জন্যও মৃত্যুদণ্ডের বিধান ঘোষণা করেছিলেন।

ইতিহাসে রাজা শশাঙ্কের অনেক কৃতিত্বের মধ্যে বুদ্ধগয়ার বোধিদ্রুম ধ্বংসের সার্বিক চেষ্টা এবং মগধের বৌদ্ধদের ওপর ‘অগ্নি ও তরবারি’ দ্বারা ভীষণ অত্যাচারের কথাও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে লিপিবদ্ধ হয়েছে। 

এরপর অষ্টম শতকে হিন্দুত্বের পুনরুত্থানকালে কুমারিল ভট্ট তো রীতিমতো বৌদ্ধ নিপীড়নের যথার্থতা দান করেছিলেন শাস্ত্র উল্লেখ করে। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে- ‘বৌদ্ধ মাত্রই বধ্য।’ মাদুরার রাজা শূলে চড়িয়েছিলেন আট হাজার জৈন পণ্ডিতকে। সপ্তম শতকে কুমায়ুনে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল বৌদ্ধধর্ম। অথচ শঙ্করাচার্যের আন্দোলন সেখানে একটি বৌদ্ধ মন্দিরকেও অবশিষ্ট রাখেনি। ‘বৌদ্ধধর্ম বিনাশ’ করার পরে অন্য অঞ্চল থেকে ব্রাহ্মণদের নিয়ে এসে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল প্রধান প্রধান মন্দিরের ভার।

এই সাম্প্রতিক অতীতেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিচলিত বোধ করেছেন এই কথা ভেবে যে, যে-পূর্ববঙ্গে এক কোটিরও বেশি বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং বাস করতেন ১১৫০০ বৌদ্ধভিক্ষু, সেই পূর্ববঙ্গে তিনি ৩০ বছর অনুসন্ধান চালিয়ে বৌদ্ধধর্মের একটি পুস্তিকার সন্ধান পর্যন্ত পাননি।

ইসলাম এই উপমহাদেশে এসেছিল সেই খেলাফতের যুগেই আরব-মুসলিম বণিক এবং সুফি ধর্মপ্রচারকদের হাত ধরে। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামের আবির্ভাব মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে। আর বাংলায় এলো ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি অশ্বারোহী বাহিনীর পিঠে চেপে। তার আগে বল্লাল সেন চতুর্বর্ণ সমাজকে আরও বেশি বিভক্ত করেছেন। চার বর্ণে কুলাচ্ছিল না। করা হলো ছত্রিশ বর্ণ। ষোড়শ শতকে স্মার্ত রঘুনন্দন সেই ছত্রিশকে পরিণত করেছিলেন ২৩৬-এ। 

সুদীর্ঘকাল মুসলিম শাসকরা এই উপমহাদেশে শাসন পরিচালনা করেছেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক এটা প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকেন যে, মুসলমান শাসকরা ছিলেন পুরোপুরি হিন্দুবিদ্বেষী এবং সাম্প্রদায়িক। এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন রমেশচন্দ্র মজুমদার এবং যদুনাথ সরকার।

রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে- ‘সকল ধর্ম সম্পর্কে শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার যে উদার চেতনা হিন্দুরা প্রচার ও প্রয়োগ করে এসেছে তা এখনও সভ্য মানব সমাজের কাছে একটি আদর্শ।’ আরেকজন, আচার্য স্যার যদুনাথ সরকারের মতামত হচ্ছে- ‘যে ধর্ম (ইসলাম) তার অনুগামীদের ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে শেখায় লুঠতরাজ ও হত্যা সেই ধর্ম মানব সমাজের প্রগতি বা বিশ্বশান্তি- দুয়েরই পরিপন্থী।’

এই দলের মতামত এবং সিদ্ধান্তগুলির সারসংক্ষেপ করলে দাঁড়ায়- ১. হিন্দুধর্ম উদার ও পরমতসহিষ্ণু। ২. ইসলাম ঠিক তার বিপরীত। ৩. হিন্দুধর্মের উদার আহ্বান উপেক্ষা করে দুই সম্প্রদায় চিরকাল বিচ্ছিন্ন থেকেছে ইসলামের অনুদারতার কারণেই। ৪. হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই ছিল তিক্ততার সম্পর্ক। ৫. মুসলমান শাসকরা ছিলেন সাম্প্রদায়িক। অস্ত্র হাতে স্বধর্ম প্রতিষ্ঠা ও বিধর্মী বিনাশই ছিল তাদের ব্রত।

আরেক দলের মতে, মুসলমান সম্রাটরা মোটেই সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার বেশি কিছুই করেননি তারা হিন্দুদের বিরুদ্ধে। এই মত পোষণকারী দলের মধ্যে রয়েছেন মানবেন্দ্রনাথ রায়, মুহম্মদ হাবিব, ইরফান হাবিব প্রমুখ। 

প্রথমোক্ত দলের সপক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। সুলতান মাহমুদের বর্বর বিধ্বংসী আক্রমণ- মথুরা, থানেশ্বর, কনৌজ এবং সর্বোপরি সোমনাথের জগৎ-বিখ্যাত মন্দির লুঠ ও ধ্বংসের কথা তাদের জানা। তারা জানেন ইসলামে আছে তরবারির মুখে ধর্ম প্রচারের কথা, দার-উল-ইসলাম এবং দার-উল-হারবের তত্ত্ব। তারা জানেন, তথাকথিত ওলামাদের হিন্দুবিদ্বেষের কথা, তাদের জেহাদি কার্যকলাপের কথা, কাফি খান, বারানি প্রমুখ ঐতিহাসিকদের সঙ্কীর্ণতার কথা, ধর্মান্ধ ফিরোজ তুঘলক কিংবা আলমগীরের বহুবিধ কার্যকলাপ এবং অন্য ধর্মীয়দের ওপর জিজিয়া কর আরোপের কথা।

কিন্তু অনেক প্রশ্নেরই আবার কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। যেমন- মুহম্মদ বিন কাশিম সিন্ধুজয়ের পরে যে মন্দিরগুলি ভেঙেছিলেন, সেগুলি তাকে আবার গড়ে দিতে হয়েছিল কেন? যে আলমগীরকে চরম হিন্দুবিদ্বেষী বলে জানা যায়, সেই আলমগীর উমানন্দের মন্দির তৈরির জন্য জমি দান করছেন কেন? আবার ধর্মবোধই যদি মূল চালিকাশক্তি হয়ে থাকে, তাহলে সিকান্দার লোদীই বা কেন জৈনপুরে হিন্দু মন্দিরের ওপর গড়ে ওঠা সব মসজিদ ধ্বংসের আদেশ দিলেন? যে সুলতান মাহমুদ হিন্দুবিদ্বেষী হিসাবে ঘৃণিত, সেই মাহমুদের হিন্দু সৈন্যরা কেন তার হয়ে মধ্য এশিয়ায় লড়াই করেছে?

মাহমুদের বিরুদ্ধে তার প্রধান সেনাপতি নিয়ন্তিজিন বিদ্রোহ করেছিলেন। সেই বিদ্রোহ দমনে সুলতান মাহমুদ যে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন, তার সেনাপতি ছিলেন হিন্দু ধর্মের অনুসারী তিলক। এটি কীভাবে ঘটল? বাবর মৃত্যুর সময় পুত্র হুমায়ুনের জন্য ৬টি আদেশ রেখে যান। সেগুলির সার কথা হচ্ছে- ‘বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে ভারতে। এই দেশের সরকারের গুরুদায়িত্ব তোমার ওপর ন্যস্ত হচ্ছে এর জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। কখনো ধর্মীয় সংস্কার যেন তোমার মনকে প্রভাবিত না করে। সমস্ত সম্প্রদায়ের দেশবাসীর ধর্মীয় স্পর্শকাতরতা ও ধর্মীয় আচার-আচরণের প্রতি প্রয়োজনীয় শ্রদ্ধার ভাব রেখে নিরপেক্ষ বিচার করবে।’ মুসলমানীত্বের নাম করে ভারত দখল করার পরে এই রকম পরধর্মসহিষ্ণুতার উপদেশ কেন?

সমাজের নিচের তলায় বসবাসকারী মানুষ ইসলামের সাম্যের বাণীর কারণে না হয় ধর্মান্তরিত হয়েছিল? কিন্তু সিংহাসন দখলে রাখার জন্য রাজা গণেশের ছেলে যদুর জালালউদ্দিনে পরিণত হওয়া কিসের ইঙ্গিত করে? বেরিলির ধরম রায় ফৌজদারকে চিঠি লিখে জানাচ্ছেন যে, তার কাকাকে দেওয়া জমিদারি তাকে দিলে তিনি মুসলমান হতে রাজি। জমিদারি এবং মনসবদারি পেলে রাজা কাল সিং, দেবী খাত্রী, মাত্রুক, কেশরী, শিউ দত্ত, জ্বালানাথ, ভগবান দাসের পুত্র রামানন্দ- এরা সবাই মুসলমান হয়েছিলেন মনসবদারির বিনিময়ে। ঘোড়াঘাট দুর্গের অধ্যক্ষ ভান্দসী রায়ের অভিযোগে বারবাক শাহ নিজের প্রিয় পাত্র ইসমাইলকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন কেন?

১৫৯৪-৯৫ সালে ১২টি আঞ্চলিক অর্থমন্ত্রীর মধ্যে ৮ জনই হিন্দু ছিলেন কেন? জাহাঙ্গীরের সিংহাসনে আরোহনের তৃতীয় বছর থেকেই অমুসলিম মোহন দাস সম্রাটের দেওয়ান হিসাবে দায়িত্ব পেলেন কেন? শাহজাহানের রাজত্বকালে রায় চন্দ্রভান সচিবালয়ের প্রধান ছিলেন কেন? 

এইসব প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এমন হতে পারে যে, সাম্রাজ্য পরিচালনার প্রয়োজনে যোগ্য অমুসলিমদের নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। আবার একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তেও আসা যেতে পারে যে, ভেতরে ভেতরে সাম্প্রদায়িক হলেও বাইরে একটি সম্প্রীতির বাতাবরণ, অন্তত দেখানোর জন্য হলেও, প্রয়োজন ছিল মুসলমান সম্রাটদের।

তবে একটা ব্যাপারে সবাই একমত যে, শ্রমজীবী কোটি কোটি প্রজাদের শোষণ করার ব্যাপারে প্রত্যেকেই ছিলেন সিদ্ধহস্ত। সম্রাটের অনুগ্রহভাজন আমির খসরুকেও তাই বলতে হয়েছিল যে, ‘সম্রাটের মুকুটের প্রতিটি মুক্তা আসলে দরিদ্র মানুষের জমাট বাঁধা রক্ত এবং কান্না দিয়ে তৈরি।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপমহাদেশের ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস না হয়ে পরিণত হয়েছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতারই ইতিহাস।

দুই.

ইংরেজ এবং পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ আমল দুটিকে বাদ দিয়ে আমরা চলে আসতে চাই সমসময়ের বাংলাদেশে। একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের পরে এই দেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, দার্শনিক এবং প্রায়োগিক লড়াই শুরু করার একটি বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণ প্রস্তুত ছিল সেই লড়াইতে যোগ দিতে। কিন্তু তদানীন্তন সরকার প্রস্তুত ছিল না। তাদের অসংখ্য ব্যর্থতার মধ্যে সবচাইতে বেদনাদায়ক ব্যর্থতা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটনের কাজে আত্মনিয়োগ না করতে পারা। রাষ্ট্রকে সব ধর্মের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব না বুঝে তারা রাষ্ট্রের চোখে সব ধর্মের সমান মর্যাদার তত্ত্বটি প্রচারে নামলেন। সেই প্রচারও ছিল লোকদেখানো। কারণ শেষ পর্যন্ত দেখা গেল যে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিকারী সব প্রতিষ্ঠানই পাচ্ছে রাষ্ট্রের আনুকূল্য। 

জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠের সাম্প্রদায়িকতা খুব বিপজ্জনক। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটিকে সাম্প্রদায়িকতার পরিবর্তে জাতীয়তাবাদ বলে মনে হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের ধর্মটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হলো। আবার বাঙালি সাম্প্রদায়িকতার বেদিতে আত্মাহুতি দিতে আহ্বান জানানো হলো সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতিসত্তাগুলোকে। বজায় থাকল নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা। শ্রেণি বৈষম্যমূলক এবং ধর্মীয় বৈষম্যমূলক। গরিব মানুষের সন্তানদের জন্য রাষ্ট্র আধুনিক ও ইহজাগতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের ছেড়ে দিল ধর্মীয় পুরোহিতদের খপ্পড়ে। পরবর্তীতে গড়ে উঠল বিশাল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা। কেমন চেহারা সেইসব মাদ্রাসা, তাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর?

কওমী মাদ্রাসার তালেবে এলেম তিনি জানেন, বা একসময় জেনে যায় যে, এই পৃথিবীর চলমানতার সঙ্গে নিজের সাযুজ্য খোঁজার চেষ্টামাত্রই তার কাছে অর্থহীন। কারণ তাকে তৈরি করা হয়েছে পুরোপুরি পরকালের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু জীবন তো চূড়ান্ত মাত্রায় ইহকালীন। রোজকার প্রতি-লোকমা ভাতের মতো বাস্তব থাকতে হবে। তাকে বোঝানো হয়েছে যে, কওমের সর্বোচ্চ খেদমত করছে সে আল্লা-রসুলের বাণী এবং বিধান শিক্ষা করে। বিনিময়ে খোদা তার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু সে তো ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে শিখলে নিজের জন্য একরাশ অন্ধকারই কেবল দেখতে পায়। তাই ভবিষ্যতের দিকে তাকানো বন্ধ করে সে নিজের বর্তমান জীবনের মধ্যেই মনকে গুঁজে দিতে চায় মরুভূমির উটপাখির মতো। বাইরে তাকাতে নিষেধ করেছেন ওস্তাদরা। কিন্তু বাইরে তো তাকাতেই হয়। বাইরে না তাকাতে চাইলেও ‘বাহির’টা শত বাধা সত্ত্বেও হুড়মুড় করে ঢুকে পড়তে চায় ভেতরে। ‘বাহির’ কী বাতাসের মতো সর্বত্রগামী!

তাকে শেখানো হয়েছে তার পরনের যে পোশাক, একমাত্র সেটাই ইসলামসম্মত, আল্লাহর নির্দেশিত পোশাক। ইহুদি-নাসারাদের পোশাক পড়া চলবে না। এই পোশাকটাই আল্লাহর চোখে সবচাইতে সম্মানীত এবং সুন্দর। সে এই পোশাককে যতখানি পারে সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করে রাখার চেষ্টা করে। নিজের হাতে পরিষ্কার করে। সেই পোশাকের জেল্লা বজায় রাখার জন্য যতদূর সম্ভব চেষ্টা করে যায়। কিন্তু সে যখন রাস্তায় বের হয়, নিজেকে তার অন্য সবার চেয়ে সুন্দর মনে হয় না। এই পোশাক কারো চোখে সৌন্দর্যবোধের দৃষ্টি কারে না। বরং কারো কারো দৃষ্টিতে তাচ্ছিল্যের ভাব দেখা যায়। সেই দৃষ্টির সামনে সে কুঁকড়ে যায়। পারলে নিজের শরীরটাকে বেঁকিয়ে মাটি-আশ্রয়ী সরিসৃপের মতো গোল বানিয়ে ফেলে। এদেশের মেয়েরা পথে-ঘাটে রোজ শত শত এই পোশাকের মানুষ দেখে।

তবু তার পোশাকের দিকে তাকায় এমনভাবে যেন ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী দেখছে। কোনো কিশোরী-তরুণী-যুবতীর স্বপ্নকল্পনায় এই রকম পোশাকধারী কারো কোনো অস্তিত্ব নাই। তারা স্বপ্নে যে রাজপুত্তুরকে দেখে, তার পরনে এমন পোশাক দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করা যায় না। কেউ তাকে বলেনি মেয়েদের এই স্বপ্নবৃত্তান্ত। কিন্তু সে বুঝে নিয়েছে নিজের ভেতরের এক বাসিন্দার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে।

হাটবারে অন্যদের সঙ্গে তাকেও মাঝে মাঝে পাঠানো হয় হ্যান্ডমাইক আর মাটিতে বিছানোর দুটি খেজুর-চাটাই দিয়ে। তারা হাটের ভিড়াক্রান্ত একটি জায়গায় নিজেরা বসে একটি পাটিতে, আরেকটি বিছানো থাকে সামনের মাটিতে হাটুরেদের করুণা ধারণ করার জন্য। তারা মাইকে অবিশ্রাম এবং তারস্বরে হাটের মানুষকে পরপারের পাড়ানির কড়ি সঞ্চয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দান-ধ্যানের আহ্বান জানাতে থাকে। যতক্ষণ হাট চলবে ততক্ষণ তাদের এই কাজ।

মাঝে মাঝে চাঁদার রসিদ বই হাতে তাকে পাঠানো হয় দোকানে দোকানে, বাড়িতে বাড়িতে। কখনো কখনো তাকে উঠতে হয় দূরগামী বাসগুলোতেও। যাত্রীদের করুণা আকর্ষণে বাসের ইঞ্জিন আর হর্ণের সঙ্গে পাল্টা দিয়ে গলা ফাটাতে হয় তাকে। এসব করতে যে লজ্জা ঘিরে ধরত প্রথম প্রথম, একসময় সেই লজ্জা উধাও হয়ে যায়। মনে হতে থাকে এটাই তার কাজ। অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এটাই তাকে করে যেতে হবে। 

খেতে বসে চিরদিনের বঞ্চনার পুনরাবৃত্তি দেখতে পায়। তারা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে যারা থাকে, তাদের জন্য একরকম খানা। আর ওস্তাদ এবং মধ্যবিত্ত ঘরের ছাত্রদের জন্য অন্য রকম। তাদের নিজেদের কী খেতে ইচ্ছা করে না তার কোনো মূল্য নেই।

তার বড় ইচ্ছা বিকাল হলে মাঠে খেলতে যাওয়া। পাশের হাইস্কুলের মাঠে ছেলেরা ফুটবল খেলে, ক্রিকেট খেলে, ভলিবল খেলে। কিন্তু সেখানে যোগ দেওয়া তার নিষেধ। ওই সব ছেলেদের থেকে সে আলাদা। তাদের সঙ্গে খেলতে গেলে তাদের চিন্তা এবং মনোভঙ্গি তাকে আক্রান্ত করবে। তাদের ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হবে তারও। সেগুলি শয়তানি নফসের কৌশল। শয়তানের ফাঁদে ফেলার কৌশল।

টেলিভিশন তার কাছে একটা শয়তানি বাক্স। সেখানে চব্বিশ ঘণ্টা কেবল শয়তানি ওসওয়াসা। টেলিভিশন মানে সেখানে নারীপ্রাধান্য। আর নারী হচ্ছে দোজখের দরজা।

এই হচ্ছে একজন কওমী মাদ্রাসাছাত্রের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের চিত্ররেখা। সে জানে সমাজের মূলধারার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। পৃথিবী, সভ্যতা এবং বিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে। সেগুলির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্তি তো দূরের কথা, সেগুলি নিয়ে যে ভাবতে হয়, এটাও তার মনে আসে না। সে সমাজ এবং আধুনিক মননের একজন প্রান্তিক অধিবাসী। তাকে নিয়ে সমাজও যেমন গভীরভাবে চিন্তা করে না, রাষ্ট্রও তার কথা ভাবে না। উদ্বোধনী সমাবেশে কোরআন তেলাওয়াত, মানুষের মৃত্যু হলে লোবানের ধোঁয়ার পাশে বসে ঢুলে ঢুলে কোরআন পড়া, মসজিদে সিন্নি বাঁটা, চল্লিশায় খতম দেওয়ার মধ্যেই সমাজে তার ভূমিকা সীমাবদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে কোনো মানুষের পক্ষে কি ব্যক্তিত্ববান হয়ে ওঠা সম্ভব?

হীনম্মন্যতা থেকে আসে নিদারুণ অনাসক্তি। সেই অনাসক্তি উপযুক্ত ইন্ধন পেলে জ্বলে যে উঠবে তা তো আমরা দেখছি মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে। হীনম্মন্যতা ও অবহেলা থেকে অবচেতনে গড়ে ওঠে চরম প্রতিহিংসাপ্রবণতা এবং বিকৃতি। আর ব্যক্তিত্বহীনতা তাকে ধাবিত করে যে কোনো পথে। তার প্রকাশ আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে। দেখা গেছে বিভিন্ন সময়। তাদের সিঁড়ি বানিয়ে ক্ষমতার ধাপে পা রাখতে চায় তাদের বড় ওস্তাদরা। প্রয়োজনে তাদের বানাতে চায় তালেবান। তার নিজের ইচ্ছার যেহেতু মূল্য নাই, তাই সে ওস্তাদদের হাতে একতাল নরম মাটির মতো তিনি যে আকার দেন সেই আকার ধারণ করতে বাধ্য হয়। অন্য ধর্মের নামে নিবেদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাচিত্রও মোটামুটি একই রকম।

তিন.

আমরা ভাবতে অভ্যস্ত যে, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ মোটেই সাম্প্রদায়িক নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমাদের সেই ভাবনাতে চিড় ধরিয়েছে। যে লোক ধর্ম-কর্ম কিছুই করে না, তাকেও অনায়াসে ধর্মের নামে লিঞ্চিং মবে টেনে আনা সম্ভব হচ্ছে। এই দেশে আজ হাজার হাজার শিশুসন্তানের নাম সাদ্দাম বা লাদেন রাখেন। নিতান্ত সাধারণ নর-নারীও অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে স্বার্থের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেও মোক্ষম গালিটি দেয় ‘শালা মালাউন’ বা ‘শালা নেড়ে’ বলে। যার শরিক হওয়ার কথা ভাত-কাপড়-জমি-কাজ-শিক্ষা-ইনসাফের লড়াইতে, সে যোগ দেয় তথাকথিত ধর্মরক্ষার মিছিলে। ধর্ম আদৌ কোনো হুমকির মুখে নেই জেনেও। 

বামপন্থীরা নিজেদের আত্মসমালোচনা করেন এই বলে যে, তারা সাধারণ মানুষের কাছে তাদের বক্তব্য নিয়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই আত্মসমালোচনা আংশিক ঠিক। একই সঙ্গে তিক্ত সত্য হচ্ছে যে, এই দেশের মানুষ বামদের বক্তব্য গ্রহণ করেনি। বামদের বক্তব্য গ্রহণ না করতে তাদের সবচাইতে বেশি উদ্বুদ্ধ করেছে তাদের মধ্যে শত শত বছর ধরে শিকড় গেড়ে বসে থাকা সাম্প্রদায়িকতা। তাই তারা ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ বা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ গঠনে যতটা আগ্রহী, ততটা আগ্রহী নয় ‘সমতার রাষ্ট্র’ বা ‘মানুষের রাষ্ট্র’ গঠনে। 

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh