ঘুরে দেখা আল্পসকন্যা লিখটেনস্টাইন

লিখটেনস্টাইন নিয়ে একটা লেখা অনেক দিন আগে পড়েছিলাম সম্ভবত ‘সানন্দা’ পত্রিকার কোনো এক সংখ্যায়। সে অনেক দিন আগে। ছোট্ট একটা দেশ। ছিমছাম আর গোছানো। একদিকে ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা আর অন্যদিকে রাইন নদীর অববাহিকা। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর অন্যদিকে আল্পস অঞ্চলের কৃষ্টি-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের বাহক-  লিখটেনস্টাইনকে আমার কাছে মনে হয়েছে আল্পসের আসল মেয়ে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ইউরোপের বাইরে বেশির ভাগ মানুষের কাছে এক অজানা নাম লিখটেনস্টাইন। খুব কম মানুষই জানে যে পৃথিবীর মানচিত্রে এই নামে একটি দেশ আছে। অবশ্য তাদের দোষও দেওয়া যায় না। মাত্র ১৬০ বর্গ কিলোমিটার (৬২ বর্গমাইল) এলাকার এই দেশ আকারে পৃথিবীতে ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম। জনসংখ্যা মাত্র ৩৮,৫৫৭ জন। সুইজারল্যান্ড আর অস্ট্রিয়ার মাঝে থাকা এই দেশ এতোই ছোট যে ম্যাপে তা খুঁজে বের করাই কঠিন। 


২০১৮ সালের জুন মাসে সুযোগ হয় সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের। সহধর্মিণী লুবনাসহ উঠেছিলাম লুজার্ন শহরে। সেখান থেকেই একদিনের ট্রিপে ঘুরে এসেছিলাম লিখটেনস্টাইনে। আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম সকাল সকাল। লুজার্ন থেকে ট্রেনে আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল জুরিখ। এক ঘণ্টায় জুরিখে পৌঁছে আমরা রওনা দিলাম আরেকটি ট্রেন ধরে সারগানসের স্টেশনের উদ্দেশ্যে। দিনটা ছিল রোববার, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। এমনিতে ট্রেন বেশ ফাঁকা। কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যাকপ্যাক, গিটার আর নানা যন্ত্রানুষঙ্গ নিয়ে একদল তরুণ-তরুণী ট্রেনে উঠে পড়ল।

একটু পরে বুঝতে পারলাম সারগানস শহরের আশেপাশে কোথাও কোনো মিউজিক ফেস্টিভ্যাল শুরু হচ্ছে। তরুণ-তরুণীরা দলে দলে যাচ্ছে সেই উৎসবে যোগ দিতে। ট্রেনের বগিভর্তি তরুণ-তরুণী থাকলেও আমাদের সামনের সিটে বসেছিলেন বয়স্ক এক মহিলা। এই সংগীতপ্রেমীরা কোথায় যাচ্ছে তা জানলাম এই মহিলার কাছেই। এটি আমার সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় সফর। সুইসদের যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে এরা অতটা মিশুক জাতি না। সব সময় নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তবে তাদের ব্যবহার অমায়িক। কিন্তু নতুন কারও সঙ্গে কখনই তারা নিজে থেকে এসে আলাপ শুরু করে না। তবে এই বৃদ্ধাকে একটু ব্যতিক্রমী মনে হলো।


আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের মধ্যে আলাপ জমে উঠল। উনি থাকেন সুইজারল্যান্ডের আরেক প্রান্তে। দেখা করতে যাচ্ছেন তার মেয়ের সঙ্গে। মেয়ের সঙ্গে তিন মাস পর দেখা হচ্ছে। বলার সময় তার চোখেমুখে আনন্দের ঝলক দেখতে পেলাম। আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি জেনে বললেন, তোমাদের দেশে তো অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। প্রতি বছরই তো বন্যা হয়। অনেক মানুষ অনেক কষ্টে থাকে। বুঝলাম এই হলো ট্রিপিকাল ওয়েস্টার্ন মিডিয়ার কল্যাণে বাংলাদেশের চিত্র। লুবনা তখন সুন্দর করে ব্যাখ্যা করল যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের দেশের নিয়মিত ঘটনা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বন্যা বা সাইক্লোন প্রায় প্রতি বছরই ঘটে। এখন তো আরও বেশি ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের আসল পরিচয় হলো- এইসব প্রাকৃতিক অভিঘাতের সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকার। গত দুই দশকে উন্নয়নের সব সূচকে বাংলাদেশের অর্জনের কথাও আমরা জানিয়ে দিলাম। এশিয়ার অন্যতম বড় অর্থনীতির বিকাশ যে বাংলাদেশে ঘটছে তাও জানালাম। আলোচনার পরে সেই বৃদ্ধার সঙ্গে এতোটাই খাতির হলো যে, তিনি তার বাসার ঠিকানা দিয়ে আমাদের সেখানে বেড়াতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। আমরাও তাকে বাংলাদেশ বেড়াতে আসার দাওয়াত দিলাম। সব সুইসরা যে অমিশুক না এই বৃদ্ধা তা আমাদের দেখিয়ে দিলেন। অথবা পশ্চিমা দেশের বৃদ্ধারা কথা বলার মানুষ পেলে খুশি হয়ে অনেক কথা বলেন সেটাও সত্যি হতে পারে। নানা কারণে তারা যে বড় একা!


ট্রেন লাইনের দুধারে উঁচু উচুঁ পাহাড়ের চূড়া দৃশ্যমান হচ্ছে। চূড়ায় সাদা সাদা তুষার জমে আছে। পাহাড়গুলো পাথুরে। পাথুরে পাহাড়ের গাজুড়ে দেখা মিলছে বৃক্ষরাজির সারি। অপরূপ সেই ল্যান্ডস্কেপ যেন চিত্রকরের আঁকা ছবির ক্যানভাস।অনেক সময় ভুল হয়, এই কি সেই পাহাড় যা আমার ম্যাকবুকের ওয়াল ফটো। সোয়া ঘণ্টা পরে আমরা সারগানস রেল স্টেশনে এসে নামলাম। এবার বাস ধরে যেতে হবে লিখটেনস্টাইন। স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাস স্টপেজে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম বাস ছাড়বে আরও৩৫ মিনিট পর। বসে পড়লাম কফি শপে। বাইরে তাকিয়ে দেখি শহর দাঁড়িয়ে আছে এক পাহাড়ে হেলান দিয়ে। পাহাড়ের নাম মাউন্ট গনজেন। সারগান একটি পৌরসভা। এই শহরের পূর্ব প্রান্তে রাইন নদী আর লিখটেনস্টাইন। আশপাশের কয়েকটি শহরের সংযোগ স্থল হওয়ায় শহরটির আলাদা একটা বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। 


কফি শেষ করেই আমরা বাসে উঠে বসলাম। লক্ষ্য প্রথম সিট দুটি দখল করা। নতুন জায়গা ভালো করে দেখার উদ্দেশ্যে এ কাজটা করতেই হয়। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর বাস শহর ছাড়িয়ে মোটামুটি নির্জন এক রাস্তা ধরলো। রাস্তার দু’ধার সবুজ। মাঝে মাঝেই ছোট ছোট পাহাড়। আর ছবির মতো ছোট ছোট শহরতলি পেরিয়ে বাস চলতে থাকল। কোথাও কোথাও বাস থামলো। প্রায় ৪০ মিনিট চলার পর আমরা নামলাম ভাদুস শহরে। লিখটেনস্টাইনের রাজধানী ভাদুস হলেও দেশটির সবচেয়ে বড় শহর; কিন্তু শান।

ভাদুসের উত্তর দিকে অবস্থিত শান শহরের মোট জনসংখ্যা ৬,০৩৯ জন, যদিও ঘনত্বের দিক দিয়ে ভাদুসই সবচেয়ে ঘন বসতিপূর্ণ। ১৭.৩ বর্গ কিলোমিটার (৬.৭ বর্গমাইল) আকারের ভাদুসের মোট জনসংখ্যা ৫ হাজার ৬৯৬ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৮৮ জন। আমাদের ঢাকা শহর ভাদুসের চাইতে প্রায় ৫ দশমিক ৬ গুণ বড়। আর জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৮০ গুণ বেশি মানুষ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ঢাকায় থাকে ২৩ হাজার ২৩৪ জন)। ফলে এই ঘনবসতি যে আমাদের কাছে কিছুই না এটা আর কাকে বলি! নতুন একটা দেশে ঢুকলাম আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম যে ইমিগ্রেশন পার হতে পারে। ব্যাকপ্যাকে পাসপোর্ট সব রেডি করে রাখা। কিন্তু নতুন যে একটা দেশে ঢুকলাম তা তো বাঝারই কোনো উপায় নেই। তবে তা একদিক দিয়ে ভালোই হলো। সময় নষ্টের কোনো বালাই নেই। নেই লম্বা ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা। 



বাস স্টপ থেকে ১০০ মিটার এগিয়ে গেলেই ভাদুসের কেন্দ্রস্থল। একটা লম্বা রাস্তার দু’ধারে নানা ধরনের স্থাপনা। মানুষজন দল বেধে হাঁটছে। বেশির ভাগই আমাদের মতো টুরিস্ট। ভাদুস শহরটা অন্যান্য শহর থেকে আলাদা তা রাস্তা দিয়ে একটু হাঁটলেই বোঝা যায়। ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন বা রোমের মতো শহরগুলো ধারণ করে আছে বিশালত্বকে। ইউরোপের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের অনেক কিছুই মেলে এসব মেগা শহরে। আর ভাদুস ধারণ করে আছে আল্পস উপত্যকা আর রাইন অববাহিকার ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে। সেই ধারণ খুবই পরিশীলিত, শৈল্পিক এবং পরিচ্ছন্ন। শহরটির একদিকে রয়েছে ঐতিহ্য আর অন্যদিকে রয়েছে আধুনিকতা। নেই অন্য বড় শহরগুলোর মতো ব্যস্ততা। বরং ঘড়ির কাঁটা যেন এই শহরে এসে একটু ধীরেই চলে। 

বাস থেকে নেমে আমরা প্রথমে ঢুকলাম ট্যুরিস্ট কেন্দ্রে। কেন্দ্রের হাস্যোজ্জ্বল কর্মীর কাছ থেকে জেনে নিলাম দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে। কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা ম্যাপ ঘেঁটে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথমে দেখে ফেলব রাজদুর্গটি। ট্যুরিস্ট কেন্দ্র থেকে জেনেছি যে, রাজদুর্গটি দেখতে গেলে পাহাড়ি পথ ধরে উপরে উঠতে হবে। হেঁটে গেলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগবে এবং হেঁটে যাওয়াই ভালো কারণ রাস্তাটা অনেক সুন্দর। আমরা সেই হাঁটা পথ ধরে এগোতে থাকলাম। প্যাঁচানো সরু পাহাড়ি রাস্তা সবুজে ভরা। চোখে পড়লো নানা ধরনের পাহাড়ি ফুল।


মজার ঘটনা হলো একটু পর পর পাহাড়ের গায়ে বোর্ডে ঝোলানো আছে লিখটেনস্টাইন সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য। এই দেশের রাষ্ট্রভাষা জার্মান। রাষ্ট্রধর্ম রোমান ক্যাথলিসিজম। দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এখনো প্রিন্স হ্যান্স-অ্যাডাম সেকেন্ড নিজেই। ২৫ সদস্যের পার্লামেন্ট রয়েছে। সদস্যরা নির্বাচিত হন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। কিন্তু যে কোনো সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ‘ভেটো’ প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে প্রিন্সের। প্রিন্স চাইলে যে কোনো সময় পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী এবং চারজন মন্ত্রী মিলে দেশ পরিচালনা করেন। পার্লামেন্ট সদস্যরা নির্বাচন করেন কারা হবেন মন্ত্রী আর প্রধানমন্ত্রী। পার্লামেন্টের পরামর্শ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার নিয়োগ দেন প্রিন্স। অন্যদিকে দেশটি ‘সরাসরি গণতন্ত্র’র মডেল অনুসরণ করে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জনগণ চাইলে গণভোটের সহায়তা নেয়ার বিধান রয়েছে। 

এই অঞ্চলে মানুষের বসতি অনেক পুরোনো। মধ্য-প্যালিওলিথিক সময়ে এখানে মানুষের বসতির অস্তিত্ত্ব মিলেছে। নিওলিথিক সময়েও এখানে কৃষিভিত্তিক বসতির প্রমাণ মিলেছে। আরও সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চল ছিল রোমান সভ্যতার অংশ। লিখটেনস্টাইন নামের দেশের সূচনা মূলত ১৭১৮ সালে যখন ভাদুস এবং শেলেনবার্গকে একীভূত করা হয়। ১৮৬৬ সালে লিখটেনস্টাইন আলাদা হয় জার্মান কনফেডারেশন থেকে। আর ২০০৩ সালে জনগণের ভোটে গৃহীত সংবিধান অনুযায়ী এখন দেশটি পরিচালিত হচ্ছে। সব দেখে মনে হতে পারে যে দেশটিতে তো এখনো রাজার শাসনই চলছে। ২০০৩ সালের গণভোটে কিন্তু প্রিন্সের প্রস্তাবিত সংবিধানের পক্ষে ৭৬ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছে যে লিখটেনস্টাইনে প্রিন্স এবং তাঁর পরিবারের জনপ্রিয়তা এখনো অনেক। 


প্রায় ৪০ মিনিট হাঁটার পর রাস্তার বাঁক ঘুরতেই চোখে পড়লো সেই বিখ্যাত ভাদুস ক্যাসল বা রাজদুর্গ। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজদুর্গটিকে দেখতে ছবির মতো সুন্দর লাগে। চারদিকে সবুজ চারণ ভূমি। বাঁ দিকে সবুজ গাছে ভরা আরও উঁচু পাহাড়। চারদিকে নির্জন প্রকৃতি। মাঝে মাঝে দু’একটা গাড়ি রাস্তা দিয়ে আরও উপরে উঠে যাচ্ছে। আমরা রাস্তা ধরে মুগ্ধতা নিয়ে এগুতে থাকলাম রাজদুর্গের দিকে। একেবারে রাজদুর্গের গেটে পৌঁছে গিয়েও অবাক হলাম যে, কোনো নিরাপত্তা রক্ষী নেই। অথচ এই দুর্গেই প্রিন্স হ্যান্স-অ্যাডাম বাস করেন। গেটে শুধু একটা ছোট্ট নোটিশ লাগানো যে সর্বসাধারণের ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। রাজদুর্গের পাশেই একটা বিশাল ফুল বাগান।

অবশ্য সেটিতে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় অনেক পুরোনো রাজদুর্গ দেখা হয়েছে। কিন্তু রাজপরিবার বাস করছে এরকম রাজদুর্গের সদর দরজা পর্যন্ত আসার অভিজ্ঞতা হলো প্রথমবারের মতো। একটা বড় ডোমকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভাদুস রাজদুর্গটি স্থাপত্য হিসেবেও বেশ লাগছে। আমরা বেশ কিছুক্ষণ সময় ব্যয় করলাম রাজদুর্গটির বেশকিছু ছবি তুলতে। 


ভাদুস রাজদুর্গটির ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১২ শতকের ঐতিহাসিক অনেক দলিলপত্রে এই রাজদুর্গের মূল টাওয়ারটির বর্ণনা পাওয়া যায়। ১৩২২ সালে এটি সৈনিকদের দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। এরপর শবিয়ান যুদ্ধের সময় ফোর্টটির বেশ ক্ষতি হয়। ১৬ শতকে এটি যখন পুনর্নিমাণ করা হয় তখন গোলাকার ডোমটি সংযুক্ত করা হয়। এই সময়ই এখনকার দৃশ্যমান চক্রাকার দেয়ালও দুর্গে যুক্ত হয়। এই রাজদুর্গে ১৬০টি কক্ষ রয়েছে। তবে বাহির থেকে বোঝার উপায় নাই যে,এতোগুলো কক্ষ এই দুর্গে থাকতে পারে। ১৮৭০ সালের পর থেকে এটি আর সৈন্যদের দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।

কিছুদিন এটি পরিত্যক্ত ছিল। এমনকি দুর্গটি কিছুদিন জেলখানা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান প্রিন্স এই রাজদুর্গে ওঠেন ১৯৩৮ সালে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এটি লিখটেনস্টাইনের রাজপরিবারের আবাস স্থল। রাজদুর্গ দেখে পায়ে হেঁটেই আমরা নেমে এলাম নিচে ভাদুসের কেন্দ্রস্থলে। ফেরার সময় চোখে পড়লো পুরো ভাদুস শহরের ল্যান্ডস্কেপ। বেশ কিছু ছবি তুলে যখন ফিরলাম, তখন সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গিয়েছে।

পাহাড়ি পথে হাঁটাহাটির ফলে দুপুরে একটা ভালো লাঞ্চ পাওনা হয়ে গিয়েছিল। ফলে অন্য কিছু দেখার আগে পেট পুজাটাই আগে করতে হয়েছিল। ট্যুরিস্টদের কথা মাথায় রেখে অনেক ধরনের রেস্টুরেন্ট সাজানো হয়েছে। এমনকি ভারতীয় রেস্টুরেন্টও চোখে পড়লো। সময় নষ্ট না করে দ্রুত লাঞ্চ সেরে আমরা এবার ভাদুসের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে বের হলাম।


আগেই বলেছি ছোট হলেও ভাদুস শহর এখনো নানা ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এই শহরে রয়েছে বেশকিছু বিখ্যাত জাদুঘর। এরই একটি হলো ডাকটিকেটের জাদুঘর। ছোটবেলায় ডাক টিকেট জমানোর শখ ছিল। বড় একটা সংগ্রহও ছিল। জাদুঘরে ঢুকে সেই ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। কক্ষগুলোতে ড্রয়ারের পর ড্রয়ারে ডাকটিকেট সাজানো। ড্রয়ারের গায়ে টিকেটের সময়কাল লেখা। যে সময়ের ডাকটিকেট দেখতে চাই তা মিলিয়ে নিয়ে ড্রয়ার ধরে টান দিলেই সব বেরিয়ে আসে। বেশ কিছুক্ষণ সময় ব্যয় করলাম লিখটেনস্টাইনের ডাকঘরের সমৃদ্ধ ইতিহাস বুঝতে। ১৮৫০ সালে লিখটেনস্টাইনে প্রথম ডাকটিকেট চালু হয়।


তবে ১৯১২ সাল পর্যন্ত দেশটির ডাক ব্যবস্থা অস্ট্রিয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো। ১৯১৮ সালে দেশটি ডাকীয় স্বাধীনতা অর্জন করে। আর ১৯২০ সালে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন ডাক ব্যবস্থা এবং লিখটেনস্টাইন প্রকাশ করে তাদের প্রথম ডাকটিকেট। ১৯ শতকের ইউরোপের ডাকঘরের ইতিহাসের অনেক কিছুই সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। ১৯৩৬ সালে চালু হওয়া এই জাদুঘরে নিয়মিত নানা ধরনের প্রদর্শনী চলে। সেদিন চলছিল বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। বিশ্বখ্যাত দাবারু আনাতলি কারপভ বিশ্বকাপ চলার সময় আয়োজক দেশের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ডাক টিকেটের একটি সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন। ডাক টিকেট জমানো তাঁর শখ এবং আবেগ। সেই সংগ্রহই প্রদর্শিত হচ্ছে এই জাদুঘরে।

আমি বিশ্বকাপ ফুটবল দেখি ১৯৮২ সাল থেকে। ফলে আমার আগ্রহ ছিল এই সময়কে ঘিরেই। লিখটেনস্টাইন কিন্তু ১৯৫৪ সালে জার্মানীতে হওয়া বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের সময়ই একটি করে স্মারক ডাকটিকেট বের করেছে। সেগুলোরও প্রদর্শনী চলছিল ওই দিন।উল্লেখ্য যে, ডাক টিকেটের এই জাদুঘর লিখটেনস্টাইন জাতীয় জাদুঘরেরই একটি অংশ। এদের জাতীয় জাদুঘরটিও বেশ আকর্ষণীয়। জাতীয় ও আল্পস অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে নিয়মিত প্রদর্শনী তো আছেই, তার সঙ্গে প্রায় নিয়মিতই সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরের নানা আকর্ষণীয় বিষয়েরও প্রদর্শনী চলে বছরজুড়ে। আমরা এরকমই একটা প্রদর্শনীতে ঢুকে গেলাম আর উপভোগ করলাম সমসাময়িক বেশকিছু ভাস্কর্য্য-কর্ম।


ভাদুসের আরেকটি আকর্ষণীয় জাদুঘর হলো-কান্ট্স মিউজিয়াম। আকর্ষণীয় স্থাপত্যরীতির কারণে এই জাদুঘর সবার দৃষ্টি কাড়ে সবার আগে। দেখতে কালো চৌকোনা বাক্সের মতো এই জাদুঘর। সূর্য্যরে আলো যেন এই ভবনে পড়ে ঠিকরে বেরিয়ে যায়। দোতলা এই ভবনের ওপর তলায় দিনের আলো ছাদ দিয়ে ঢোকে। ২০০০ সালে যখন এই জাদুঘর চালু হয় তখন থেকেই সারা বিশ্বের আগ্রহ একে ঘিরে। মূলত তিন ধরনের ঐতিহ্যের প্রদর্শনী চলে এই জাদুঘরে- ভাস্কর্য্য বা স্কাল্পচার, স্থাপন বা ইনন্সটলেশন এবং বিষয়বস্তু বা অবজেক্ট। বিশ এবং একুশ শতকের পোস্ট-মিনিমাল শিল্পকর্মের এক বিশাল সংগ্রহ আছে কান্টস মিউজিয়ামে।

২০১৫ সালের পর এই জাদুঘরের সঙ্গে যুক্ত হয় হিল্টি আর্ট ফাউন্ডেশনের প্রদর্শনী। আর লিখটেনস্টাইনের বিভিন্ন নাগরিকদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ যুক্ত হওয়ায় এই জাদুঘর অনেক সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। ধ্রুপদ আধুনিক আর সমসাময়িক শিল্পকর্মের বিশাল সংগ্রহ কান্ট্স মিউজিয়ামকে ভিন্ন মাত্রা দান করেছে। সারা বিশ্বের শিল্পরসিকদের জন্য এই জাদুঘর বিশেষ আগ্রহের বিষয়। 


কান্ট্স মিউজিয়াম থেকে আরেকটু এগিয়ে দেখা পেলাম লিখটেনস্টাইনের নতুন পার্লামেন্ট ভবনের। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই ভবনের স্থাপত্যরীতিও অসাধারণ। মিউনিখের প্রখ্যাত স্থপতি হ্যান্সজর্গ গরিজ এই ভবনের নকশা করেছেন। অনেকটা আমাদের টিনের চালের মতো ত্রিকোণ ছাদ এই ভবনকে করেছে আলাদা। ছাদটা করা হয়েছে পাথরের ছাদের আদলে। লম্বা বাড়ি, উঁচু বাড়ি আর যুক্ত বাড়ি - এই তিন ধারণাকে কাজে লাগিয়ে স্থপতি এই ভবন দাঁড় করিয়েছেন। আর পুরো ভবনের রঙও করা হয়েছে পাথরের রঙে। ভবনটির সামনে গিয়েই মনটা প্রশান্তিতে ভরে যায়। পার্লামেন্ট ভবনের পাশেই রয়েছে সরকারি দাপ্তরিক ভবন। আছে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। আর সেগুলো ছেড়ে আরেকটু এগিয়ে দেখা মিলল পুরনো একটি ক্যাথলিক চার্চের। সেখান থেকে বেজে ওঠে ঘণ্টাধ্বনি। মনে করিয়ে দেয় সময় ধীরগতিতে চললেও এই শহরেও সময় থেমে থাকে না। 


ভাদুসের পুরো রাস্তাটাই যেন একটি বড় মিউজিয়াম। একটু পর পর দেখা মেলে বিভিন্ন শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হওয়া বিভিন্ন ভাস্কর্য্য। ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার এসব ভাস্কর্য্য সব সময় মনে করিয়ে দেয় পৃথিবীটায় এখনো সৃষ্টিশীল শিল্প তৈরি হয়। নাগরিকদের বসার জন্য যে সব স্থান তার আশপাশটাও সুন্দর করে গোছানো যেন কোনো শিল্পী পুরো প্রাঙ্গণটা শিল্পকর্ম হিসেবেই সাজিয়ে রেখেছে। আমরা এসব আমাদের ক্যামেরায় ধরে রাখার চেষ্টা করতে থাকলাম।

ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে অনেক কথা বললেও যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এখনো উল্লেখ করা হয়নি তা হলো দেশটির অর্থনীতি। লিখটেনস্টাইন দেশ হিসেবে ছোট হলেও এর অর্থনীতি কিন্তু অনেক বড়। মাথাপিছু জিডিপি’র হিসেবে লুক্সেমবার্গ এবং কাতারের পরেই কিন্তু লিখটেনস্টাইনের স্থান। ২০০০ সালের শুরুর দিকেও দেশটি বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পেরেছে বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা দিয়ে। এখন অবশ্য বিশেষ কর অবকাশের সেই সুযোগ নেই।

দেশটি যেমন একদিকে শিল্পকর্মে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে তেমনি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানেরও প্রনোদনাদানকারী। একটা উদাহরণ দেই। সারা পৃথিবীতে এই মুহূর্তে যত কৃত্রিম দাঁত তৈরি হয় তার একটা বড় অংশ উৎপাদিত হয় এই দেশে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে নকল দাঁত সরবরাহ করে এই দেশ। ইউরোপের অনেক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি তাদের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে লিখটেনস্টাইনে। সারা পৃথিবীর সব বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও অবকাঠামো গড়ে উঠেছে এই দেশে। 


এতো বড় অর্থনীতির দেশ অথচ এদের নিজস্ব কোনো মুদ্রা নেই, নেই নিজস্ব সেনাবাহিনী। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন প্রয়োজনই পড়ে না, কারণ অপরাধ এই দেশে প্রায় শূণ্যের কোটায়। অল্পকিছু অপরাধীদের জন্য ছোট্ট একটা জেলখানা আছে। কারও যদি দুই বছরের বেশি সাজা হয় তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অস্ট্রিয়ার জেলখানায়। ২০০৭ সালে একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল। সুইস সেনাবাহিনীর ১৭০ সদস্যের একটি দল মহড়া চলাকালে ভুল করে লিখটেনস্টাইনে ঢুকে পড়ে।

তারপর তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ ক্ষমা চায়। লিখটেনস্টাইনের সরকার তখন সুইসদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, ভাগ্যিস তোমরা বলেছিলে, তা না হলে তো আমরা জানতেও পারতাম না, তোমরা আমাদের এলাকায় ঢুকেছো। লিখটেনস্টাইনের সরকার জাতিসংঘে এ নিয়ে অভিযোগ করেছিল কিনা তা আমার জানা নেই!

যদিও জার্মান হলো লিখটেনস্টাইনের রাষ্ট্রীয় ভাষা, কিন্তু এই জার্মান মূল জার্মান ভাষা থেকে একটু আলাদা। এই ভাষার মিল বরং সুইস-জার্মান বলে পরিচিত ভাষার সঙ্গে বেশি। এদের জাতীয় সংগীতও মজার। ‘আপ অ্যাভাব দ্য ইয়ং রাইন’ সংগীতটির সূর কিন্তু হুবহু মেলে উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে। আরেকটি বিশেষ ব্যাপারও বলতে হয়। লিখটেনস্টাইন একটি ভূমিবন্দী দেশ। এর একদিকে অস্ট্রিয়া আর আরেক দিকে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু দেশটি শুধু ভূমিবন্দি নয়, ডাবল ভূমিবন্দি। কারণ অস্ট্রিয়া আর সুইজারল্যান্ডের কারোরই সঙ্গে সরাসরি সমুদ্রের যোগাযোগ নেই। পৃথিবীতে লিখটেনস্টাইন ছাড়া আর একটি দেশ এরকম ডাবল ভূমিবন্দী।দেশটির নাম উজবেকিস্তান।


আরও একটি মজার তথ্য দেই যা লিখটেনস্টাইন সম্পর্কে পাঠকদের ভালো ধারণা দেবে। দেশটিতে দুপুর বারোটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সময়টাকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘শব্দহীন’ সময় হিসেবে। তার মানে এই সময়টাতে সব নাগরিক চেষ্টা করবে নিশ্চুপ থাকতে। একইভাবে রাত দশটার পর কেউ কোনো শব্দ করবে না। সেটা শুধু চিৎকার না করা করা না, সেটা গেট খোলার শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আবার গাড়ি চালানোর জন্যও প্রযোজ্য। পুরো বিষয়টা হয়তো একশ ভাগ সফল হয় না। কিন্তু নাগরিকদের মধ্যে একটা বড় ধরনের সচেতনতা তৈরির কাজটাতো হয়। ভেবে দেখুনতো রাত দশটার পর যদি ঢাকা শহরকে আমরা ‘শব্দহীন’ করে তুলতে পারি তাহলে তার কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আমাদের জীবনে? সহনশীলতার এই সংস্কৃতি যদি আমরা শিখতে পারি, তাহলে হয়তো আমাদের অনেক সমস্যারই সমাধান সহজ হয়ে যাবে।


লিখটেনস্টাইনের জাতীয় দিবস ১৫ আগস্ট। প্রতি বছর এইদিনে বর্তমান প্রিন্স এবং তার ছেলে মিলে দেশের সবাইকে বিয়ার পানের নিমন্ত্রণ করেন নিজের বাসায়। সবাই দল বেধে আসেন রাজদুর্গে বিয়ার পান করতে। এই দিনে নাগরিকেরা সবাই একটা র‌্যালিতেও অংশ নেন। সেই র‌্যালিতে তারা সবাই আল্পস অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আসেন। আবার এই দেশে আসলে আগস্টের ১৫ তারিখকে ঘিরেই পরিকল্পনা করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। 

মজার ব্যাপার হলো আপনি যদি দেশটিকে এক সন্ধ্যার জন্য ভাড়া নিতে চান তাও পারেন। এর জন্য আপনাকে ব্যয় করতে হবে ৭০ হাজার ডলার। আপনি সঙ্গে আনতে পারবেন ১৫০ জন অতিথিকে। ২০১০ সালে এক র‌্যাপ সংগীত শিল্পী তার একটি মিউজিক ভিডিও শুটিং করার জন্য দেশটি ভাড়া করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় সরকার সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল। পরে তারা মনে করেছিল যে ব্যাপারটা তো মন্দ না। এয়ার বিএনবি’র সঙ্গে পার্টনারশিপে ৭০ হাজার ডলারের বিনিময়ে এক সন্ধ্যা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ভাড়া দেওয়ার সুযোগ তারা তৈরি করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত সে সুযোগ কেউ নেয়নি। আগ্রহ থাকলে প্রিয় পাঠক আপনিও এয়ার বিএনবি’র মাধ্যমে চেষ্টা করে দেখতে পারেন!


লিখটেনস্টাইনে ঘোরার সময় বার বার মনে হচ্ছিল এরা যদি একটা ছোট্ট দেশ হয়েও নিজের স্বকীয়তাকে বজায় রেখে বড় বড় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে পারে, উন্নতি করতে পারে, আমরা বাংলাদেশে পারবো না কেন? দুইশ বছর আগেও এই দেশ ছিল পশুপালনকারীদের এবং কৃষকদের। আজ তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির একটি। আমাদের বাস্তবতার সঙ্গে লিখটেনস্টাইনের সবকিছু মিলবে না তা মানি। সেই তুলনা করার কোনো মানেও হয় না। কিন্তু এই ছোট্ট দেশটা থেকে আমাদের হয়তো অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে তাদের বিদেশ নীতি এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রনয়ণের সময় কাজে লাগতে পারে। আমাদের তো বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকেই শিখতে হবে।

ভাদুসে ঘুরতে ঘুরতেই সময় গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল। একটা নতুন দেশ আর একটা নতুন রাজধানী দেখা হলো। কিন্তু এই ছোট্ট দেশেরও একটা বড় অংশ দেখা বাকি রয়ে গেল সময়ের অভাবে। পাহাড় ধরে উপরে উঠে আল্পসের সৌন্দর্য্য অবলোকন। মাইলের পর মাইল নিরাপদ পথ ধরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে ট্রেকিং করা। লিখটেনস্টাইনের বিখ্যাত ক্যাবল কারে করে আল্পস দেখা। আবার যদি সুইজারল্যান্ডে আসার সুযোগ হয় লিখটেনস্টাইনেই অন্তত দু’রাত থাকব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্পস কন্যার আসল রূপ যে দেখা বাকি রয়ে গেল।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh