আজ আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন

আসাদুজ্জামান নূর

আসাদুজ্জামান নূর

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শ্রদ্ধেয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিন আজ। ৭৫ বছরে পা রেখেছেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা। 

১৯৪৬ সালের আজকের দিনে (৩১ অক্টোবর) নীলফামারী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আসাদুজ্জামান নূর।

বেশ কয়েকটি পরিচয় বসানো যাবে তার নামের সঙ্গে। থিয়েটারকর্মী থেকে আবৃত্তিকার, রাজনীতিবিদ থেকে মন্ত্রীও। এত শক্ত পরিচয়ের ভিড়ে মানুষ তাকে মনে রেখেছে ২৮ বছর আগের বিখ্যাত নাট্যচরিত্র হিসেবে।

ছাত্রজীবনের বামপন্থী রাজনীতিক থেকে হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রযন্ত্রের একজন মন্ত্রী। সাধারণ এক থিয়েটারকর্মী থেকে হলেন অসাধারণ এক অভিনেতা। তিনি বরেণ্য অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর।

বিখ্যাত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বাকের ভাই চরিত্রে অনন্য, অনবদ্য অভিনয় করেছেন। রাজপথে নেমে এসে দর্শক যার অভিনয়কে স্বীকৃতি দিয়েছিল। রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি একাধিকবার নির্বাচিত সাংসদ। পালন করেছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের মন্ত্রির দায়িত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৭২ সালে তৎকালীন বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক চিত্রালীতে কর্মজীবন শুরু করেন আসাদুজ্জামান নূর। এক বছর পর ছাপাখানায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দূতাবাসের (বর্তমানে রাশিয়া) প্রেস রিলেশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।

জীবনের বাঁকবদলে একটা সময়ে এসে হয়ে গেলেন সাংস্কৃতিক যোদ্ধা। আসাদুজ্জামান নূর ‘নাগরিক’ নাট্যদলের মাধ্যমে অভিনয় জীবনের শুরু করেন। এই নাট্যদলের ১৫টি নাটকে তিনি ৬০০ বারের বেশি অভিনয় করেছেন। তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিটিভির সোনালি যুগে প্রচার হওয়া নাটকের মাধ্যমে। বিশেষ করে আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশকের বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটকে তিনি দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে কালজয়ী সব চরিত্রে অনন্য হয়ে আছেন দর্শকের অন্তরে। এর মধ্যে ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’, ‘সবুজ ছায়া’, ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।

তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ‘রঙ্গের ফানুস’। প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শঙ্খনীল কারাগার’।

আসাদুজ্জামান নূরের ক্যারিয়ারে বিশেষ এক প্রভাব দেখা যায় তারই বন্ধু কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের৷ তার বিখ্যাত হওয়া বা কালজয়ী চরিত্রগুলোর প্রায় সবগুলোই হুমায়ূন আহমেদের রচিত৷ হুমায়ূনের পরিচালিত অনেক নাটক-সিনেমাতেও অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর।

এত সব নাটক আর সিনেমার ভিড়ে আসাদুজ্জামান নূর আজও কালজয়ী সেই ‘বাকের ভাই’ হিসেবে বেঁচে আছেন দর্শকহৃদয়ে। নাটকের প্রয়োজনে বাকের ভাই ফাঁসির আদেশ হলে ঢাকার রাজপথে ফাঁসি না দিতে মিছিল পর্যন্ত হয়েছিল।

আসাদুজ্জামান নূর রাজনীতিতে যোগ দেন ১৯৬৩ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে। এরপর দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রেখে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন। ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আবারো প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। 

অভিনয় আর রাজনীতিবিদের বাইরে আবৃত্তিকার হিসেবে বেশ সুনাম রয়েছে আসাদুজ্জামান নূরের। সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য ২০১৮ সালে পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। 

ব্যক্তিজীবনে আসাদুজ্জামান নূর চিকিৎসক শাহীন আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির রয়েছে দুই সন্তান।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //