একজন ঋত্বিক ঘটক

১৯২৫ সালে আজকের এই দিনে ঢাকার জিন্দাবাহার লেনে জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটক। ৫১ বছরের জীবনে ২৫ বছরই চলচ্চিত্র নিয়ে কাটিয়েছেন ঋত্বিক ঘটক। পশ্চিমের অনেক মহান চলচ্চিত্রস্রষ্টার মতোই ঋত্বিক হাতেগোনা কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেই হয়ে উঠেছেন বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্রষ্টায়। এই সময়ে মাত্র আটটি চলচ্চিত্র, ১০টির মতো তথ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যরে চিত্রও নির্মাণ করেছেন তিনি।

ঋত্বিক ঘটক নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো হলো ১৯৫২ সালে ‘নাগরিক’, ১৯৫৮ সালে ‘অযান্ত্রিক’, ১৯৫৯ সালে ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ১৯৬০-এ ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ১৯৬১-তে ‘কোমল গান্ধার’, ১৯৬২-তে ‘সুবর্ণরেখা’, ১৯৭৩-এ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’।

ঋত্বিক কুমার ঘটকের জন্ম ১৯২৫ সালে। ঋত্বিক যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তা পারিবারিক ঐতিহ্যের দিক থেকে সমৃদ্ধ, সংস্কৃতিবান এবং ধনী ছিলেন। ঋত্বিকের জন্মের সময় তার পিতা সুরেশ চন্দ্র ঘটক সে সময়কার ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। মা ছিলেন ইন্দুবালা দেবী। তারা থাকতেন পুরান ঢাকার ঋষিকেশ দাস লেনের জুলন বাড়িতে।  

তার ভাই লোকেশ ঘটক ছিলেন ভারতের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, ছবি আঁকতেন এবং ছবি তুলতেন। তিনি ঋত্বিকের চলচ্চিত্রস্রষ্টা হওয়ার পেছনের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণাদাতা ছিলেন।

১৯৪০ দশকে তৎকালীন পূর্ববাংলা থেকে দলে দলে উদ্বাস্তু কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন। তেমনি এক অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে ঋত্বিক ঢাকা ছাড়েন। তাই তার চলচ্চিত্রগুলোয় উদ্বাস্তু-জীবনের বিভিন্ন দিক লক্ষ্য করা যায়।

১৯৪৮ সালে ঋত্বিক তার প্রথম নাটক ‘কালো সায়র’ লেখেন। ১৯৫১ সালে যোগ দেন ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনে (আইপিপিএ)। তার লেখা শেষ নাটক ‘জ্বালা’ লেখেন এবং পরিচালনা করেন ১৯৫৭ সালে। ক্ষণজন্মা এই পুরুষ একাধারে লিখতেন, পরিচালনা করতেন এবং অভিনয়ও করতেন।

বাঙালি চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এবং মৃণাল সেনের সঙ্গে ঋত্বিককেও ২০ শতকের ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা চিত্র পরিচালক হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়।

তার তৈরি প্রথম সমাপ্ত চলচ্চিত্র ‘নাগরিক’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫২ সালে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি অন্যতম প্রধান একটি চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। ঋত্বিকের চলচ্চিত্রে মঞ্চ, সাহিত্য ও প্রামাণ্যচিত্র্যের সংমিশ্রণ প্রবাদতুল্য।

তার প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র ‘অযান্ত্রিক’ মুক্তি পায় ১৯৫৮ সালে। হাস্য-রসাত্মক গল্পে ঘটেছে সায়েন্স ফিকশনের মেলবন্ধন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি এমন এক অভিনব ছবি যেখানে একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এর গল্প।

১৯৬৬ সালে কিছুদিনের জন্য পুনায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে শিক্ষকতা করেছিলেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ায়। ১৯৭০-এর দশকে আবার ফিরে আসেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। সে সময় বাংলাদেশি প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান অর্থ লগ্নি করেন ঋত্বিকের বিখ্যাত ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর জন্য। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। তার শেষ চলচ্চিত্র ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ (১৯৭৪) তারই আত্মজীবনী।

অনেক স্বল্প ও পূর্ণদৈর্ঘ্য ছায়াছবি অসম্পন্ন রেখে ঋত্বিক কলকাতায় মারা যান ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //