বাংলা ছোটগল্পে সর্বজনীন মুক্তিযুদ্ধ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জাতীয় জীবনে সবচেয়ে সংগ্রামবহুল ও গৌরবময় এক অধ্যায়ের নাম। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় চিহ্নিত করার ইতিহাস। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্য জগতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বাংলার সাহিত্যকে করেছে আরও সমৃদ্ধ এবং স্বতন্ত্র। পৃথিবীর যে কোনো যুদ্ধজয়ী ও যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের সাহিত্য যতটা জীবন ঘনিষ্ঠ, যতটা বাগ্ময়- নিপীড়নের ক্ষত তাদের সাহিত্যকে যতটা সমৃদ্ধ করে, আপোষ রফায় পাওয়া স্বাধীনতায় তা মেলে না। বাঙালির সাহিত্যের এক ভিন্ন বাতাবরণ তৈরিতে মুক্তিযুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মূলত শোষণ, নিপীড়ন, সংগ্রাম, আপোষহীনতা, সর্বোপরি রুখে দাঁড়িয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন একটি জাতির সাহিত্যে তৈরি করে এক ভিন্ন মাত্রা, এক আলাদা শক্তি। সাহিত্যের পটভূমিকায় ফুটে ওঠে একটি জাতি তথা- একটি রাষ্ট্রের জীবন প্রণালি। প্রতিফলিত হয় সেই রাষ্ট্রের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সংস্কৃতিক পটভূমি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির আপোষহীন সত্তাকে শনাক্ত করা যায়। 

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের ভাষায়, ‘গল্পের গায়ে নানা সময়ের দাগ, ক্ষত, অহংকার স্বাভাবিকভাবেই লেগে আছে, থাকবে। এতে মানুষের মুক্তির লড়াই সংগ্রাম যেমন আছে, তেমনি মানব বিকাশের নানান কথকতা এর গয়ে লেগে থাকবে এই তো স্বাভাবিক। ১৭৫৬, ১৮৫৭, ১৯০৫, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬১, ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০-এর রাজনৈতিক সামাজিক কথকতা তো আছেই, আরও নানা ভূরাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক আবহ আমাদের গল্পে আছে।’ (২০১২: ১৯৭)। 

শুধু মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমাদের সাহিত্য জগতে গড়ে উঠেছে এক স্বতন্ত্র অধ্যায়, মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প সংকলন ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। একাত্তরের মার্চ থেকে নভেম্বর- এই কালপর্বে মুক্তিযুদ্ধের নিকট-বাস্তবতার নানা চিত্র ফুটে উঠেছে এ-গল্প সংকলনে। গ্রন্থটির ভূমিকায় সম্পাদক লিখেছেন, ‘যুদ্ধ সাহিত্যের সমাদর সব দেশেই রয়েছে। যে সাহিত্যে কেবল যুদ্ধই মুখ্য নয়, যুদ্ধের পেছনের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিগন্ত বিস্তৃত, তা রসোত্তীর্ণ হলে যুগজয়ী সাহিত্যের ধ্রুপদী-চরিত্র লাভ করে- যেমন টলস্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পিস, এরেনবুর্গের ফল অব পারি’। ...ভাষা আন্দোলন থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সাহিত্য নানা মোড় ফিরেছে, সমৃদ্ধ হয়েছে, জনমানসের প্রতিরোধ চেতনাকে বিস্তার লাভে আরও সাহায্য করেছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের গল্প ও কবিতার ভূমিকা তাই গৌণ নয়। ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ গ্রন্থে সন্নিবেশিত বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো তাই নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয় মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা।’ এ সংকলনে মোট ষোলোটি গল্প স্থান পায়। এগুলো হলো বিপ্রদাশ বড়ুয়ার ‘সাদা কফিন’, নির্মলেন্দু গুণের ‘শেষ যাত্রা নয়’, আবদুল হাফিজের ‘লাল পল্টন’, সুব্রত বড়ুয়ার ‘বুলি তোমাকে লিখছি’, ফজলুল হকের ‘চরিত্র’, আসফ-উজ-জামানের ‘রক্ত প্রজন্ম’, বুলবন ওসমানের ‘সোলেমান ভাই’, কামাল মাহবুবের ‘নীল নকশা’, অনু ইসলামের ‘শব্দতাড়িত’, আসাদ চৌধুরীর ‘কমলা রঙের রোদ’, সত্যেন সেনের ‘পরীবানুর কাহিনী’, ইলিয়াস আহমদের ‘অন্যের ডায়েরি থেকে’, জহির রায়হানের ‘সময়ের প্রয়োজনে’, কায়েস আহমেদের ‘শেষ বাজি’, শওকত ওসমানের ‘আলোক-অন্বেষা’ এবং আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘রোদের অন্ধকারে বৃষ্টি’। এসব গল্পে মুক্তিযুদ্ধের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে।

এর প্রায় বারো বছর পরে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের গল্পকারদের লেখা মুক্তিযুদ্ধের গল্পের আরও দুটি সংকলন। সেগুলো হলো- আবুল হাসনাত সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ (১৯৮৩) ও হারুণ হাবীব সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ : নির্বাচিত গল্প’ (১৯৮৫)। মুক্তিযুদ্ধের গল্প গ্রন্থে সংকলিত গল্পগুলো হলো- শওকত ওসমানের ‘দুই ব্রিগেডিয়ার’, সত্যেন সেনের ‘পরীবানুর কাহিনী’, আবু জাফর শামসুদ্দীনের ‘কালিমদ্দি দফাদার’, আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘রূপান্তর’, জহির রায়হানের ‘সময়ের প্রয়োজনে’, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘কেয়া, আমি এবং জার্মান মেজর’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘কথোপকথন : তরুণ দম্পতির’, শওকত আলীর ‘কোথায় আমার ভালোবাসা’, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ‘ঘরে ফেরা’, সুচরিত চৌধুরীর ‘নিঃসঙ্গ নিরাশ্রিত’, রাবেয়া খাতুনের ‘যে ভুলে যায়’, হাসান আজিজুল হকের ‘ঘর গেরস্থি’, রাহাত খানের ‘মধ্যিখানে চর’, মাহমুদুল হকের ‘কালো মাফলার’, জাহানারা ইমামের ‘উপলব্ধি’, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘অপঘাত’, হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্যামল ছায়া’, রশীদ হায়দারের ‘এ কোন ঠিকানা’, সেলিনা হোসেনের ‘ভিটেমাটি’, কয়েস আহমদের ‘আসন্ন’, রবিউল হুসাইনের ‘মাটির মেডেল’, বিপ্রদাশ বড়ুয়ার ‘সাদা কফিন’, তাপস মজুমদারের ‘মাটি’, সিরাজুল ইসলামের ‘যাত্রার নায়ক’, আহমদ বশীরের ‘অন্য পটভূমি’, রিজিয়া রহমানের ‘ইজ্জত’, ইমদাদুল হক মিলনের ‘প্রস্তুতি পর্ব’, মইনুল আহসান সাবেরের ‘কবেজ লেঠেল’। 

এই দুই সংকলনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোট গল্পগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর বহুমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়। মাহবুবুল হক (২০১৬)।

আজহার ইসলামের (১৯৯৯) মতে, ‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পের ধারা দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের পাকিস্তানি সৈন্য ও পাকিস্তানপন্থীদের নারকীয় অত্যাচারের কাহিনি নিয়ে যেসব গল্প রচিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক জীবনে যে শূন্যতা আসে হঠাৎ ক্ষমতা পাওয়ায় কিছু ব্যক্তির প্রভুত্ব বিস্তারে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয়, এই অবস্থায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হতাশা ও মানসিক বিপর্যয়, নয় মাসের প্রবাসজীবন শেষ করে স্বদেশে ফিরে আসা লোকদের দুর্দশা- এসব বিষয় নিয়ে যেসব গল্প রচিত হয়েছে।’ 

‘কোটি কোটি মুখ, পাথরে খোদাই করা চেহারা, মুষ্টিবদ্ধ হাত সীমানা ছাড়িয়ে লক্ষ কোটি বজ্রের শব্দ কিংবা ঢেউয়ের ধ্বনি সে নিখিলের গর্জনের কাছে অর্থহীন।’ ‘সময়ের প্রয়োজনে’ ছোটগল্পে জহির রায়হান এই বাক্যগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবলভাবে পাঠককে উপলব্ধি করান একাত্তরের উত্তাল সময়কে। বাঙালি জাতি সেদিন কোন সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করেছিল? সাড়ে সাত কোটি বাঙালির বিপণ্নতাবোধের রুদ্ধশ্বাস বর্ণনা এ গল্পটিতে উঠে এসেছে। গল্পটিতে লেখকের লেখনী শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধকে তিনি দেখেছেন সর্বমাত্রায় মানুষের তাগিদের ভিত্তিতে। শোষণ, বঞ্চনা, অবহেলা, লাঞ্ছনার যে বাস্তবতা নিয়ে একাত্তরে যুদ্ধে অংশ নেয় সাধারণ জনতা, যে আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছে তারা- তার মনস্তাত্তিক চিন্তা চেতনার প্রতিফলন পূর্ণ মাত্রায় গল্পটিতে দেখা যায়। 

আবদুল হাফিজের ‘লাল পল্টন’ গল্পটিতে একজন কারখানা শ্রমিকের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার কাহিনি পরিব্যাপ্ত হয়েছে। ‘মিছিল ততক্ষণে এগিয়ে চলেছে। ...সবার হাতে নৌকার বৈঠা। মাঝিরা মিছিল করছে এই প্রথম। ...কৃষক শ্রমিক অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। লাল পল্টন গল্পে একই সঙ্গে রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ৯ মার্চ পল্টন ময়দানে মওলানা ভাসানীর স্বাধীনতার দাবিতে ভাষণ বাঙালির মানসে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল তার দেখা মেলে। মওলানা ভাসানী তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে মূলত কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মজলুম জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে গেছেন। মূলত ঊনসত্তরের গণ আন্দোলন বা তারও আগে ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন থেকেই মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ বুনতে শুরু করেন। ৭ মার্চ ১৯৭১ রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর ৯ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনি সাত কোটি বাঙালির স্বাধীনতার দাবি জানান। 

‘জাতীয় সংগীত না বাজিয়ে বেতারের তৃতীয় অধিবেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ...রাস্তায় রাস্তায় প্রতিরোধ তৈরি করা হয়েছে। ...দূর থেকে সেই অবরোধ পাহারা দিচ্ছে মুক্তি বাহিনী। ...বারুদের মুখে লাল আগুন লাগল বলে।’ বিপ্রদাশ বড়ুয়ার ‘সাদা কফিন’ গল্পে ২৫ মার্চ রাতের ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে। যেখানে গল্পের কথক নির্যাতনের সকল ভয়াবহতা নিয়ে একটা সাদা কফিনে নিজেকে সমর্পিত করছে। 

সত্যেন সেনের ‘পরিবানুর কাহিনী’ গল্পে আমরা একজন নারী মুক্তি সংগ্রামীর দেখা পাই। যিনি পর্দাপ্রথা ও নারীর প্রতি বেধে দেয়া সমাজের নানা বিধি-নিষেধকে পরোয়া না করে দেশের জন্য দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বন্ধুর পথ পাড়ি দিচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞে বাঙালি নারীর যে বিরাট ভূমিকা ছিল তা আজ অবধি অব্যক্ত রয়ে গেছে। অথচ বাঙালি জাতিরাষ্ট্র গঠনে বাঙালি নারীর বহুমাত্রিক ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধকে আরও বেগবান ও তাৎপর্যবাহী করে তুলেছিল। লেখক সে কথাই বলেছেন অকপটে।

পাক হানাদার বাহিনীর নির্মমতা নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য গল্প। শওকত ওসমানের ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ এবং ‘আলোক অন্বেষা’ গল্পে একাত্তরের বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা ও আতঙ্কময় রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির বর্ণনা পাওয়া যায়।

একাত্তরের মার্চের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রচিত হয়েছে আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘বিস্ফোরণ’ গল্পটি। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করলেও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের বাঙালির মনে যে-ক্ষোভ জমে, তা একসময় রূপ নেয় লাখো জনতার বিস্ফোরণে। এ গল্পে উদ্ভাসিত হয়েছে সেই রাজনৈতিক বাস্তবতা। 

একাত্তরের মার্চের উত্তাল দিনগুলোর ঘটনা প্রবাহ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা, নির্বিচার লুণ্ঠন, ব্যাপক ধ্বংসলীলা, নির্মম নারী ধর্ষণ ও নিষ্ঠুর অত্যাচারের ফলে দেশের ভেতর কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তাহীন সন্ত্রস্ত জীবন এবং আরও এক কোটি মানুষের অসহায় দেশত্যাগ, অন্যদিকে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ সংগ্রাম স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ছোটগল্পের উল্লেখযোগ্য উপাদান হয়ে আছে। এসব ঘটনা নানা গল্পে নানাভাবে প্রতিফলিত ও চিত্রিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা গল্পের ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আনুষঙ্গিক নানাদিক পাঠকের চোখে মূর্ত হয়ে ওঠে। কখনো-কখনো তা হয় ব্যঞ্জনাময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। কখনো-কখনো মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে গল্পকারের নিজস্ব আবেগও সঞ্চারিত হয় পাঠকের মনে। গল্পে বর্ণিত হানাদারদের অত্যাচার, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের বিবরণের মধ্য দিয়ে একদিকে চরম মানবিক বিপর্যয়ের ছবি আমরা পাই, অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অঙ্গীকার ও আত্মত্যাগ, বাঙালির রুখে দাঁড়ানোর দৃঢ় মনোভাব রূপায়ণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বজনীন চেতনার প্রকাশ ঘটে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //