মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ

এখন ফলের মৌসুম। আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ধরনের ফল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে লিখেছেন পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ

আম : আম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। আমে প্রিবায়োটিক ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও পলিফেনোলিক ফ্ল্যাভিনয়েডস এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান আছে। নতুন কিছু গবেষণা অনুযায়ী কাঁচা ও পাকা আমে কোলন, স্তন, লিউকেমিয়া ও প্রোস্টেট ক্যান্সার থেকে রক্ষা করার উপাদান আছে। আম ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন নামক ফ্ল্যাভিনয়েডসের ভালো উৎস এগুলো এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ, সি ও ই থাকায় ত্বক ভালো রাখে। তাজা আম পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। পটাশিয়াম কোষ ও দেহ তরলের উপাদান যেগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আমে স্বল্প পরিমাণে কপার পাওয়া যায়, যেগুলো লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। কিছু পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে নিয়মিত আম খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে। স্কিন ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের মতে খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত বিটা-ক্যারোটিন থাকলে তা স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সে জন্য ত্বক ভালো রাখতে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ আম খেতে পারেন। আম যেমন পুষ্টিগুণে ভরা তেমন আমের খোসাতেও প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগত উপকারিতা রয়েছে। কাঁচা আম খোসাসহ খেতে পারেন। 

জাম : জাম আমাদের সবার কাছে পরিচিত একটি ফল। এতে ভিটামিন-সি, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন এ ও পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এতে থাকা ভিটামিন এ, সি ও ই ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে, নিয়মিত জাম গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে। জামে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। জাম লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। সেজন্য যারা রক্তস্বল্পতাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। জাম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। দি জার্নাল ফুড রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে জাম এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি ফাঙ্গাল ও এন্টিভাইরাল হিসেবেও কাজ করে। জামে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ভালো রাখে ও ত্বকের নানা জটিলতা কমায়। 

লিচু : লিচু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস ফ্লাভিনয়েডসের ভালো উৎস। লিচুতে ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, আয়রন ও ফলিক এসিড পাওয়া যায়, যা লোহিত রক্ত কনিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় বয়সের ছাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। কিছু স্ট্যাডিতে দেখা গেছে লিচুতে থাকা উপাদান টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা তৈরি করে থাকে। 

কাঁঠাল : কাঁঠাল পটাশিয়ামের ভালো উৎস, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, কাঁঠালে বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল আছে যেগুলোর অনেক এন্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, ত্বক ভালো রাখে পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে সাহায্য করে। রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে । 

বাঙ্গি : বাঙ্গি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা সহজেই এটি খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। ভিটামিন বি কমপ্লেক্সে পাওয়া যায়, যা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে ও ব্লেন্ড করে চুলে লাগালে কন্ডিশনারের মতো কাজ করে। বাঙ্গি মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহে সাহায্য করে, শরীরের অবসাদ দূর করে। 

তরমুজ : তরমুজের শতকরা ৯২ ভাগই পানি। তাই তরমুজ খেলে সহজেই পানির তৃষ্ণা মেটে। তরমুজের রক্তের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালি বজায় রাখে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। এতে বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণও অনেক। বিটা ক্যারোটিন চোখ ভালো রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তরমুজের জুস খেলে ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ থাকে। কারণ এতে থাকা ভিটামিন এ ও সি ত্বককে ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে ত্বকের সুরক্ষা দেয়।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //