চুক্তি নবায়ন, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও জেমি ডের ছুটিতে থাকা

জেমি ডে

জেমি ডে

কোনোভাবেই ফুটবলে ভালো খবর দিতে পারছেন না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজি সালাউদ্দিন। ২০০৮ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের ফুটবল। তাতে ভবিষ্যতেও যে কোনো অগ্রগতি হবে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে আছে। 

সর্বশেষ দেশের ফুটবলের অভিভাবক নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিফা বলেছে, করোনাকালে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে না। নির্বাচন নিয়ে নিজেদের কাজ যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সে সময় সালাউদ্দিন বিরোধীরা ফিফাকে ই-মেইলের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে দিয়েছে। 

যেখানে ফুটবলই মাঠে গড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই, সেখানে নির্বাচন আয়োজন তো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই তার শেষ নির্বাচন বললেও সালাউদ্দিন আবারো সভাপতির চেয়ারে বসতে চাইছেন। 

কবে নির্বাচন হবে সেই বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। এই অবস্থার মধ্যে আবারো দুই বছরের জন্য জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব বেড়েছে জেমি ডের। সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব আর ইংলিশ কোচের ছুটিতে থাকার বিষয়টি আবারো সামনে চলে এসেছে।

কোচ হিসেবে তার যোগ্যতা কিংবা মেধা নিয়ে কোনো সন্দেহ কিংবা সংশয় নেই। জাতীয় দলের খেলায় যে পরিবর্তন হয়েছে সেটিও তার হাত ধরেই এসেছে; কিন্তু কোচকে কাজ দিতে না পারায় প্রায়শই সমালোচনার মুখে পড়তে হয় দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে। সে কারণে ছোট-বড় সব ধরনের ছুটিকে বেশ আয়েশীভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। পরিবারকে সময় দিতে এতটা কুণ্ঠাবোধ ছিল না তার।

দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করার পর সামনে কী কাজ করবেন সেই বিষয়গুলো আবারো সামনে চলে এসেছে। বিশেষত কোচ হিসেবে জেমি ডের কাছে নাকি কোনো চাওয়াই নেই বাফুফের! সে কারণে এই কোচের অধীনে যা ফলাফল হয় সবকিছুকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি। নয়তো টানা চারটি সাফ ফুটবল থেকে প্রথম পর্বে বিদায়ের পরও খুব বেশি অনুশোচনা নেই কর্মকর্তাদের। কোচকে কাজ দিতে পারেন না বলেই নানা ছুতোয় নিজ দেশ ইংল্যান্ডে ছুটি কাটাতে চলে যান তিনি। যদিও নবায়নকৃত চুক্তিতে ছুটি কমানো হয়েছে; কিন্তু এত দামি কোচকে রেখে যদি তাকে কাজই দিতে না পারেন তাহলে ফেডারেশনকে শতভাগ ব্যর্থ না বলে কোনো উপায় নেই। 

দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে সাফ ফুটবলকে। সেখানে ২০০৩ সালের পর আর শিরোপা জিততে পারেনি। আর সাফ গেমস থেকে (বর্তমানে এসএ গেমস) ১৯৯৯ সালে প্রথম ও একমাত্র শিরোপা জয়ের পর দুই দশকেরও বেশি সময় কেটে যাওয়ার পর কোনো শিরোপা জেতা হয়নি। অথচ সর্বশেষ সাফেও গ্রুপ পর্বে বিদায় নিতে হয়েছে লাল-সবুজ পতাকাধারীদের। তাতেও খুব বেশি নড়াচড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 

অথচ ২০১৫ সালের সাফে কোচের দায়িত্বে ছিলেন মারুফুল হক। তাকে দায়িত্ব দেয়ার আগে পরিষ্কারভাবে বলে দেয়া হয়, শিরোপা জিততে পারলে চাকরি থাকবে নয়তো বিদায় নিতে হবে। শিরোপা না জিতে অনেকটা নীরবেই বিদায় নিতে হয়েছে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত এই কোচকে।

অথচ বিদেশি কোনো কোচের বেলায় এমনটি করা হয় না। যেমনটি করা হয়নি জেমি ডের বেলায়ও। সামনেই এখন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলা। বাকি চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি ম্যাচ আবার দেশের মাটিতে খেলবে জামাল ভূঁইয়ার দল। সেখানে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন কোচ। অথচ কর্মকর্তারা কোনো টার্গেটই দেননি। তাহলে জাতীয় দলের উন্নতিটা যে কোথায় হবে, সেই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। 

জাতীয় দলের সাবেক কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু এ বিষয়ে বলেন, ‘কোচ হিসেবে জেমি ডে বেশ সফল। তবে তাকে কাজ দিতে না পারার ব্যর্থতা বাফুফেকে নিতে হবে। পেশাদার কোচ হলে তার বারবার বাড়ি চলে যাওয়াটা মেনে নেবার মতো নয়। আমি মেনে নিতে পারছি না। কোচ বছরে সর্বোচ্চ একবার ছুটিতে যেতে পারে; কিন্তু সে যদি অর্ধেক সময় কর্মস্থলে না থাকেন বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। খেলা ৩০ তারিখ হলে ২০ তারিখেও তার কোনো খবর থাকে না।’ 

তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাবেকরা যে যেখানে থেকে কোনো কথা বলুক না কেন বাফুফে সেটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। ২০২২ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই চুক্তি বহাল থাকছে। লাল-সবুজ ডেরায় আরো দুই বছর তাকে সাথে পাচ্ছেন জামাল ভূঁইয়ার দল। ২০২০ সালের আগস্টের মধ্য থেকে ২০২২ সালের আগস্টের মধ্য পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি বর্ধিত করা হয়েছে। 

জেমি ডের অ্যাসাইনমেন্ট শুরু হবে আগামী ৮ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে। বাকি চার ম্যাচ থেকে কিছু পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য জেমি ডের। আর যদি একটি জয় আসে সেটি হবে দুর্দান্ত। 

নতুন লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে জেমি বলেন, ‘চুক্তি নবায়ন করার আগে থেকেই আমি জাতীয় দল নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বিশেষ করে পয়েন্ট পাওয়ার পাশাপাশি একটি জয় পেলে সেটি বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত হবে। গ্রুপের প্রতিটি দলই আমাদের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে। আমরা তাদের হারাব এটা বলা যাবে না। তবে চেষ্টা করব। কারণ, চারটির মধ্যে তিনটি ম্যাচ আমরা ঘরে খেলব। যদিও এখনো নিশ্চিত নয় যে, ম্যাচগুলো কোথায় হবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে একটি সেন্ট্রাল ভেন্যুতে সব ম্যাচ হতে পারে। আবার বাংলাদেশে হলেও যদি ফিফা দর্শকের অনুমতি না দেয়, সেটা হবে আমাদের জন্য ক্ষতি। তখন হোম অ্যাডভান্টেজটা কাজে লাগাতে পারব না।’

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh