লাপোর্তার বিজয়ে মেসির জয়

হোয়ান লাপোর্তা ও লিওনেল মেসি

হোয়ান লাপোর্তা ও লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার সংশয়ের মেঘ যেন কেটে গেছে। বহুল আলোচিত বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন মেসির প্রিয় হোয়ান লাপোর্তা। 

এর আগে বার্সার সাবেক সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সাথেই মেসির মতবিরোধ-শত্রুতা ছিল বেশি। সেই মারিয়া বার্তোমেউ শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে গত নভেম্বরে বার্সার সভাপতির পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

পেশায় আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ লাপোর্তা ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার সভাপতি ছিলেন। ৫৯ বছর বয়সী লাপোর্তার সাথে ৩৩ বছর বয়সী মেসির সম্পর্কটা বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি মধুর। তাই হোয়ান লাপোর্তার দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাবের সভাপতি হওয়াটা মেসির বিজয় হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা! 

মেসিকে কেন্দ্র করে কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সেলোনা যে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে সোনালি সময়টা কাটিয়েছে, তার সূত্রপাতটা হয়েছিল লাপোর্তার সময়েই। ২০১০ সালে লাপোর্তা সভাপতির পদ থেকে সরে গেলেও মেসির সাথে তার সম্পর্কের বন্ধনটা ঠিকই ছিল। সময় গড়ানোর সাথে সাথে তাদের সম্পর্কের বাঁধনটা বরং আরো শক্ত হয়েছে। 

বার্তোমেউয়ের সময়ে বার্সেলোনা অন্ধকার রাজনীতিতে ডুবে যায়। আর্থিকভাবেও প্রায় দেউলিয়া হওয়ার জোগাড়। বার্তোমেউয়ের দুর্নীতি, কুট-কৌশল, অপরাজনীতি-সবই ফাঁস হয়েছে। লাগামহীন দুর্নীতি-অপনীতির অভিযোগে গ্রেফতারও হয়েছেন বার্তোমেউ! গ্রেফতার, মেসি-ইস্যু ও ‘বার্সাগেট’ কেলেঙ্কারির কারণেই এবারের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা-আলোচনা ছিল তুঙ্গে। কোনো ক্লাবের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কখনই এতটা উত্তেজনা ছড়ায়নি। সেই উত্তেজনার অবসান হয়েছে লাপোর্তার দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি হওয়ার মধ্য দিয়ে। সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন তিনজন।

প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ভিক্টর ফন্ত ও টনি ফ্রেইক্সা ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে পারেননি। মোট ৫৪.২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্লাবের ৪২তম সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মেসির পছন্দের লাপোর্তা। তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ১৮৪ ভোট। বার্সেলোনার ১২১ বছরের ক্লাব ইতিহাসে কোনো সভাপতিই এত বেশিসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতে পারেননি। মানে রেকর্ড গড়েই সভাপতি হয়েছেন লাপোর্তা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্টর ফন্ত পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬৭৯ ভোট। 

লাপোর্তার নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ মেসি। ক্লাব বার্সেলোনার সদস্য, সমর্থক, কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই চান মেসি থাকুক। লাপোর্তাও নিজের নির্বাচনি এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন মেসি-ইস্যুকে। বার্সেলোনার খেলোয়াড় হিসেবে মেসি নিজেও এবার প্রথমবারের মতো সভাপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবে মেসিকে ধরে রাখার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছেন লাপোর্তা। বিজয়ী হওয়ার পরপরই যেমন বলেছেন, ‘মেসি বার্সেলোনাকে খুব ভালোবাসে। আশা করি, ক্লাবের প্রতি তার এই ভালোবাসাই তাকে ক্যাম্প-ন্যুতে থেকে যেতে সাহায্য করবে। আমরাও সেই চেষ্টা করবো। কারণ আমরাও চাই, মেসি থাকুক।’ 

তবে ভোটের ফল ঘোষণার পর মেসির হাসিমাখা মুখ বলে দিয়েছে অনেক কিছুই। সুতরাং এটা ধরেই নিতে পারেন, মেসি ‘নিজের দ্বিতীয় বাড়ি’ বার্সেলোনাতেই থাকছেন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh