ইউরো কাপ আনন্দে মাতবে বিশ্ব

ইউরো আলোচনায় এ ফুটবলাররা

ইউরো আলোচনায় এ ফুটবলাররা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। শুক্রবার (১১ জুন) ইউরোপ সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামবে ২৪ দল। এক মাসের লড়াই শেষে কার ঘরে যাবে শিরোপা তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।

কয়েক দিন আগে পর্তুগালের ফার্নান্দো কোচ সান্তোস বলেছিলেন, 'এবারের ইউরো জেতার সমর্থ আছে সাত থেকে আটটি দলের।' অনেকেই হয়তো একমত হবেন সান্তোসের সঙ্গে। তবে ফেভারিটদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে হয়তো ফ্রান্স। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলে নয়, দারুণ ব্যালেন্স দলটি দুর্দান্ত ফর্মেও আছেন। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপে,  গ্রিজমান, কিংসলে কোমান, অলিভিয়ের জিরুডরা আগে থেকেই ছিলেন। ইউরোর দলে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন দারুণ ফর্মে থাকা করিম বেনজেমা।

মাঝমাঠে পল পগবার সঙ্গে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এনগোলো কান্তে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তাক লাগানো ফুটবল খেলেছেন কান্তে। রক্ষণে আস্থা দিতে রাফায়েল ভারান, বেঞ্জামিন পাভারদের মতো তারকারা আছেন। রক্ষণ, মাঝমাঠ, আক্রমণ মিলিয়ে ফরাসিরা বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যালেন্স টিম। বিশ্বকাপ জয়ের পর ইউরোতে অর্জনটা নিশ্চয় বাড়িয়ে নিতে চাইবেন ফরাসিরা।

সাম্প্রতিক ফর্মটা ভালো না গেলেও জার্মানি বরাবরই ভয়ঙ্কর। কোচ জোয়াকিম লো'কে নিশ্চয় বিদায়ী উপহার দিতে চাইবেন জার্মানরা। দলীয় সামর্থের বিচারে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ইউরোর দাবিদার। সাত বছর পর কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। ফর্মে থাকা দলটি নিশ্চয় টুর্নামেন্টটা স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে।

ইউরোতে অঘটন ঘটার একটা রীতি আছে। প্রায় প্রতিবারই বড়সড় অঘটন ঘটিয়ে বসে কোনো দল। এবার ডেনমার্ক, তুরষ্ক, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, ওয়ালসের মতো দলগুলো নিশ্চয় সেই আশাতেই আছে এবং তাদের সমার্থও আছে। অঘটন ঘটানোর পারদর্শীতা গ্রুপ পর্বেই দেখিয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া। সব মিলিয়ে এবারের ইউরো লড়াই জমে ওঠারই কথা।

ইউরোর মূলপর্বে মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ ৯টি ম্যাচে অপরাজিত বেলজিয়াম। এর ভেতরে মাত্র দুটি ম্যাচে ড্র আর জিতেছে বাকি সাতটিতে। শেষবার উয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়াম হেরেছিল ইংল্যান্ডের কাছে। এরপর ইংল্যান্ডকে হারের স্বাদও দিয়েছিল রেড ডেভিলসরা। এমনকি ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও জয় আছে বেলজিয়ামের।

এদিকে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে নেমেছেন তারকা ফুটবলার এডেন হ্যাজার্ড। আর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর অবশেষে যোগ দিয়েছেন কেভিন ডি ব্রুইনও। তাই তো সবমিলিয়ে বেশ প্রফুল্ল আছে বেলজিয়াম। রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা ইউরোর অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থাকা ডেনমার্ক নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচের একটিতেও হারের মুখ দেখেনি। তাই তো বেলজিয়ামের পরেই গ্রুপ 'বি'র সেরা দল ডেনমার্ক। আর দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্যও কিছুটা এগিয়ে থাকবে ডেনমার্ক।

বেশ কয়েকজন মহা তারকা এবার শেষ ইউরো খেলতে যাচ্ছেন। এই দলে বড় নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স ৩৬ চলছে, ফলে সিআর সেভেন যে আরও একটা ইউরো খেলবেন এমনটি ভাবা বাড়াবাড়িই। ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, পর্তুগালের পেপে, ইতালির জর্জো কিয়েলিনি, লিওনার্দো বোনুচ্চি, ওয়েলস অধিনায়ক গ্যারেথ বেল বা পোলিশ তারকা রবার্ট লেভাডফস্কিরও শেষ ইউরো হতে পারে এটি। নিশ্চয় শেষ বেলায় স্মরণীয় কিছু করে যেতে চাইবেন তারা।

বলা যায় ঘুরে ফিরে সেই পুরোনো নামগুলোই থাকছে আলোচনায়। বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল এবার আসছে তর্ক সাপেক্ষে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান দল নিয়ে। যে দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নামের এক সর্বজয়ীও আছেন। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স আছে, এমবাপ্পে-গ্রিজমানদের পাশে ছয় বছর পর করিম বেনজেমাকেও ফিরিয়ে তারা ২০১৮ বিশ্বকাপের চেয়েও শক্তিশালী। এই দুই দলের সঙ্গে জার্মানি মিলিয়ে গ্রুপ ‘এফ’ হয়ে আছে মৃত্যুকূপ।

এর বাইরে চোখ ফেরাবেন? রবার্তো মানচিনির অধীনে সর্বশেষ ৮ ম্যাচে জয়সহ টানা ২৭ ম্যাচে অপরাজিত ইতালি দলে বড় তারকা তেমন নেই, কিন্তু মানচিনির ছোঁয়ায় দারুণ গোছানো ফুটবলে দাপুটে দলটা। নিঃসন্দেহে এবারের ইউরোর ‘ডার্ক হর্স’ ইতালি। ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা আজ্জুরিরা এবার ইউরোতে নীলকে আনন্দের রং করে নিলে অবাক হবেন না যেন!

র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারে সময়ের সেরা বেলজিয়ামকে ডি ব্রুইনা-হ্যাজার্ডদের সোনালি প্রজন্ম শেষ পর্যন্ত কোনো শিরোপা দিয়ে যেতে পারে কি না, গত ইউরো-বিশ্বকাপের মতো সে আলোচনাও আছে। স্পেন-হল্যান্ডের মতো পরাশক্তি থাকবে, গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকেও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর ইংল্যান্ডকে না রেখে তো ফেবারিটের তালিকাই হয় না! বেশির ভাগ সময়ই সেটা ইংলিশ মিডিয়ার জোরে, এবার গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে দারুণ-তরুণ ফুটবলারদের একটা প্রজন্মও আছে। ৫৫ বছর ধরে প্রতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ‘ফুটবল কামিং হোম’ আওয়াজ তুলে গলা শুকিয়ে ফেলা ইংলিশদের এবার শ্যাম্পেন উৎসব ফিরবে! 

এসব উত্তর খুঁজতে চোখ রাখতে হবে ১১ জুলাই লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোর এবারের ফাইনাল ম্যাচ পর্যন্ত।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh