ICT Division

ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনায় রোনালদো ইস্যু

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। নিজেদের গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আজ ঘানার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দলটি। স্টেডিয়াম ৯৭৪ এ রাত ১০টায় মাঠে নামবে দল দুটি। এই ম্যাচের আগে রোনালদো বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না পর্তুগালকে। 

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ এরিক টেন হাগের বিষোদগার করে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার নিয়ে হৈচৈ দলে কোনো প্রভাবই ফেলবে না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন খোদ পর্তুগিজ মহাতারকাই। এবার যখন ঘানা ম্যাচ দিয়ে কাতার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর অপেক্ষা, তখন সমঝোতার ভিত্তিতে রোনালদো, ম্যানইউয়ের সম্পর্কচ্ছেদের রেশ নিয়ে তুমুল আলোচনা। এর আঁচ লাগল ম্যানইউতে রোনালদোর সদ্য সাবেক সতীর্থ ব্রুনো ফের্নান্দেসের গায়েও। আজকের ঘানা ম্যাচ সামনে রেখে কালকের সংবাদ সম্মেলনে এসেই তাঁকে পড়তে হলো বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে। কিছুদিন আগেও যিনি ছিলেন ম্যানইউ সতীর্থ, ক্লাবের সঙ্গে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার পর তাঁর সঙ্গে এবার জাতীয় দলে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন কি না?

জবাবে ব্রুনো ফের্নান্তেস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করার কোনো কারণ দেখছি না। তা ছাড়া কোনো একটি পক্ষও তো বেছে নেওয়ার দরকার নেই আমার।’ সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পাশেই বসা কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের কাছেও ছুটে গেল একই প্রসঙ্গ। তিনি একরকম উড়িয়েই দিলেন, ‘(রোনালদো-ম্যানইউ সম্পর্কচ্ছেদ) এটি আমাদের ফোকাস নড়িয়ে দেবে কি না, জানতে চাইছেন তো? একদমই না। এমনকি কোনো খেলোয়াড়কে এটি নিয়ে কথাও বলতে শুনিনি। সেটি অনুশীলনের সময়ই হোক কিংবা অবসর সময়ে। যখন ওরা টেবিল ফুটবল খেলে, তখনো নয়। রোনালদোকেও তো কখনো এটি নিয়ে কথা বলতে দেখলাম না।’ 

সান্তোসের দাবি, জয় দিয়ে অভিযান শুরু করার ভাবনাতেই বুঁদ হয়ে আছেন তাঁর শিষ্যরা, ‘সবাই ফোকাসড। ওদের মধ্যে দারুণ স্পিরিটও দেখছি। যেকোনো প্রতিযোগিতায়ই প্রথম ম্যাচ জেতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দলের মধ্যে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করে।’ তবে অন্য রকম কিছু হলেও যে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার আশা থাকবে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি সান্তোস, ‘আমি এমন একটি টুর্নামেন্ট খেলেছি, যেটির প্রথম তিন ম্যাচই ড্র করেছিলাম। এবং এরপর আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নও হয়েছিলাম। আমাদের যদি আবারও একইরকমভাবে জেতার সুযোগ দেওয়া হয়, আমি সেটি সাদরেই গ্রহণ করব। তবে এটাও বুঝি যে তাতে ঝুঁকিটা অনেক বেশি থেকে যায়। ’ ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ঘানার প্রতিও ভীষণ সমীহ সান্তোসের।

তার মতে আফ্রিকান দলগুলো ক্রমেই ব্যবধান কমিয়ে আনছে, ‘কারণ এখন বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই একই লিগে খেলে। উদাহরণস্বরূপ ব্রুনোকেই যেমন এই ঘানা দলের দুই থেকে তিনজনের বিপক্ষে একই লিগে (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ) খেলতে হয়। ওরাও এখন বড় দলের হয়ে খেলে এবং ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলোতে অভ্যস্ত। আগে (আফ্রিকান দলগুলোর সঙ্গে) পার্থক্য বোঝা যেত, এখন তা যায়ই না।’ সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। শক্তিতে ঘানার চেয়ে অনেক এগিয়ে পর্তুগাল। তাদের আক্রমণভাগে আছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলার। বয়স হয়ে গেলেও যেকোনো সময়ে ম্যাচের ভাগ্য পাল্টে দিতে পারেন। তা পায়ের নিপুণ কাজ, শট এবং প্রয়োজনে হেডেও। এরপরও ঘানাকে সমীহ করছেন পর্তুগালের কোচ। জানান, ঘানা খুবই টাফ টিম। তারা আফ্রিকান থেকে আসা দল। দলটিতে আছে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা অনেক ফুটবলার। ফিজিক্যালি এবং টেকনিক্যালিও তারা ভালো।

তাই কোনোভাবেই সহজ হবে না তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি। ম্যানইউতে রোনালদোর সাথে খেলা ব্রুনো ফার্নান্দেজ জানান, রোনালদো নিজেই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার সাথে তার সাম্প্রতিক ঝামেলা নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। বিষয়টি তার ব্যক্তিগত। এ বিষয়টি আজ দলের খেলায় কোনো প্রভাবই ফেলবে না। ইউরো জেতা দল পর্তুগাল। কিন্তু বিশ্বকাপে তারা তখনই ফেবারিট নয়। কেন দলটি বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে না। কোচ সান্তোস জানান, না, না আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছি। বিশ্বকাপে এর আগেও দেখা হয়েছে ঘানা এবং পর্তুগালের। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জয় হয়েছিল ইউরোপের দেশটির। ১-১ এ খেলা চলার পর ৮০ মিনিটে রোনালদো গোলে জয় তার দেশের। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে পর্তুগাল আছে ৯ নাম্বারে। আর ঘানার অবস্থান ৬১তে। তবে দলটির প্রেরণা ২০১০ বিশ্বকাপ। যেখানে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। কাতারে আসার আগে সর্বশেষ দুই ফিফা প্রীতি ম্যাচে তাদের জয়ও বড় শক্তি।

নিকারাগুয়াকে ১-০ এবং সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। যদিও বছরের বাকিটা সময়ে তাদের ভালো সময় যায়নি । ১০ ম্যাচের ছয়টিতেই হার। কাতারে আসতে পর্তুগালকে খেলতে হয়েছে প্লে-অফ ম্যাচ। সর্বশেষ খেলা চার ম্যাচের দুটিতে হার স্পেন এবং সুইজারল্যান্ডের কাছে। তবে ৪ গোলে জয় চেক রিপাবলিক এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। আইকনিক ফুটবল জাতি হিসেবে পর্তুগিজরা পরিচিত হলেও তাদের দেশ শুধুমাত্র ১৯৬৬ ও ২০০৬ সালে দুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। গত পাঁচ আসরের মধ্যে চারটিতেই শেষ ১৬’র পর আর যেতে পারেনি পর্তুগাল। সর্বশেষ ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে এবারের গ্রুপের আরেক দল উরুগুয়ের কাছে হেরে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন রোনালদোরা। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের শেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয়ী হয়েছেন তারা। যদিও গত বৃহস্পতিবার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কাতারের প্রস্তুতিটা ভালই সেরে নিয়েছে পর্তুগাল।

আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্টে শেষ তিনটি আসরের প্রথম ম্যাচে জিততে পারেনি ফার্নান্দো সান্তোসের দল। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগাল কখনই পরিসংখ্যানের হিসেব মিলিয়ে খেলতে আসেনি। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে এবারও তারা অবিচল। কিন্তু ঘানার অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, প্রথম ম্যাচে ভাল কিছু করতে হলে গত সাত ম্যাচে মাত্র দুই গোল হজম করা পর্তুগালের অপ্রতিরোধ্য রক্ষণভাগকে ফাঁকি দেয়ার কৌশল বের করা। ঘানা ম্যাচের পর সান্তোসের পর্তুগালকে পরের দুই ম্যাচে উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে পরের রাউন্ডে যেতে হলে তাদের আফ্রিকান প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নিজেদের পথ সুগম করতে হবে। এদিকে আট বছর পর ফের বিশ^কাপে ফিরেছে ঘানা। ১২ বছর আগে উরুগুয়ের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টিতে হেরে শেষ চারে খেলা হয়নি তাদের।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //