ফুটবল উন্নয়নে তৃণমূল পর্যায়ে মনোযোগ দিতে হবে

ইউগোস্লাভ ট্রাংকোভস্কি। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের প্রধান কোচ। চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফুটবলে শেখ রাসেল রয়েছে অবনমনের শঙ্কায়। অথচ দলটি ২০১২-১৩ মৌসুমে মারুফুল হকের কোচিংয়ে  জিতেছিল  ঘরোয়া ‘ট্রেবল’। ২০০৩-০৪ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ আর ২০১৪-১৫ মৌসুমের বিপিএলে রানার-আপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল শেখ রাসেল। এ ছাড়া তিনটি স্বাধীনতা কাপ ফাইনাল আর ২০১৩ সালের সুপার কাপের শিরোপা লড়াইয়েও খেলেছে তারা।

তা হলে শেখ রাসেল কেন ২০২৩-২৪ মৌসুমে খাবি খাচ্ছে? ট্রাংকোভস্কি জানিয়েছেন, ‘আমি শেখ রাসেলের দায়িত্ব নিয়েছি ২০২৩ সালের অক্টোবরে। তত দিনে শেখ রাসেলের দল গোছানো শেষ। অথচ দল গঠনে অফিসিয়াল থেকে শুরু করে কোচের মতামত নেওয়া জরুরি। সে সুযোগ আমার হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দলে তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। ভবিষ্যতে তারা ভালো করবে নিশ্চিত। কিন্তু সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাফল্য পেতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা রেখেই বলছি, কিছু অভিজ্ঞ  ফুটবলার প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া বিদেশি খেলোয়াড় নিয়েও আমরা দুর্ভাগ্যের শিকার। বিপিএলে আমরাই একমাত্র দল যারা প্রথম পর্বে মাত্র দুজন বিদেশি নিয়ে খেলেছি। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই দলটা ধরে রাখতে পারলে আগামী দুই-তিন বছরে দারুণ শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’

চলমান মৌসুমে শেখ রাসেল স্কোয়াড হিসেবে খারাপ ছিল, বলা যাবে না। বয়সভিত্তিক দলে সাফল্য পাওয়া ইকবাল হোসেন, নিশাত আহমেদ উচ্ছ্বাস, দীপক রায় রয়েছেন। জাতীয় দলের গোলরক্ষক মিতুল মারমা দলটির অধিনায়ক। আছেন জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতায় সঞ্চিত ইমন বাবু আর সুমন রেজা।

ট্রাংকোভস্কি ফুটবল খেলেছেন নিজ দেশের বেলাসিকা এফসিসহ একাধিক ক্লাবে। বর্তমানে উয়েফার ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ তিনি। কোচিং করিয়েছেন নিজ দেশের বেলাসিকাসহ একাধিক ক্লাবে। তার অধীনে কুয়েতের আল আরাবি ২০২২ সালের এএফডি ক্লাব কাপের সেমিফাইনালে খেলেছে। ২০১৭ আর ২০১৯ সালে নর্থ মেসিডোনিয়ার বর্ষসেরা ‘কোচ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজ দেশে রয়েছে তার নিজের গড়ে তোলা এফসি একাডেমি পান্দেভ। এখানে শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ফুটবল দল নিয়ে কাজ করা হয়। তার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা জনি আতানাসভ নর্থ মেসিডোনিয়ার হয়ে খেলেছেন ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ক্রিস্তান ত্রাপানোভস্কিসহ অনেকেই ক্লাব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ট্রাংকোভস্কি বলেন, ‘ফুটবল উন্নয়নে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের লিগকে পেশাদার বলছ? কিন্তু কয়টা ক্লাবের নিজস্ব মাঠ আছে? বয়সভিত্তিক দল আছে? বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কঠোর নীতিমালা বেঁধে দেওয়া উচিত। বিপিএলের প্রত্যেক দলের ৮-১০ বছর বয়সী থেকে শুরু তরুণ আর যুব দল থাকতে হবে। তাদের নিয়ে বিপিএল আদলে হবে বয়সভিত্তিক লিগ।’  

নর্থ মেসিডোনিয়ান কোচ জানান, ‘ফুটবল উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। যা একমাত্র বসুন্ধরা কিংস করছে। তাদের নিজস্ব স্টেডিয়াম, অনুশীলন মাঠ, জিম রয়েছে। খেলোয়াড়দের শারীরিক আর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে আধুনিক ব্যবস্থা থাকা জরুরি। ক্লাবগুলোকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে হবে। খেলোয়াড় গড়ে তোলা আর তাদের পারফরম্যান্স উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগের মানসিকতা থাকতে হবে। নতুবা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খুব বেশি এগোতে পারবে না।’

ঘরোয়া ফুটবলের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাংকোভস্কি। এখানে বড্ড বেশি ফাউল হয়। রেফারিং মানও খুব বেশি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো না। তিনি বলেন, কমপক্ষে ১৫-১৬টি ক্লাব নিয়ে পেশাদার লিগ আয়োজন করা উচিত। এতে অনেক বেশি খেলোয়াড় দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে। একাডেমি বা বয়সভিত্তিক দল থাকলে ক্লাবগুলো নিজেরাই খেলোয়াড় বের করে দল সাজাতে পারবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //