দিবস পালন নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি

সরকার নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলো কীভাবে পালন করতে সে বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গতকাল রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই পরিপত্র জারি করা হয়। এর আগের পরিপত্রটি ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর জারি করা হয়েছিল। এখন সেটি বাতিল হয়ে গেল।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে দেখা যায়, আগের মতোই সবগুলো দিবসকে তিনটি শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণিতে থাকা ১৮টি দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন বা পালন করা হবে।

খ-শ্রেণির ৩৪টি দিবসের মধ্যে যেসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয়ে থাকে বা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক উদ্ধুদ্ধকরণের জন্য বিশেষ সহায়ক, যেসব দিবস উল্লেখযোগ্য কলেবরে পালন করা যেতে পারে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রীরা এসব অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত থাকবেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা যেতে পারে।

গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৩টি দিবস নিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবসগুলো সীমিত কলেবরে পালন করা হবে। মন্ত্রীরা এসব দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয় বিবেচনা করবেন। উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে না।

পরিপত্রে বলা হয়, তিন ধরনের দিবস ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো আরো কিছু দিবস পালন করে থাকে যেগুলো গতানুগতিক ধরনের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় এবং সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো এ ধরনের দিবস পালনের সাথে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে পারে।

শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস্যপক্ষ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়াও সাধারণভাবে দিবস পালনের বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। তবে বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত আকারে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা পরিহার করা হবে।

কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিনদিনের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটায় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।

পরিপত্রে আরো বলা হয়, নগদ কিংবা উপকরণ আকারে অর্থ বা সম্পদ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে এমন সাধারণ ইভেন্টগুলো ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। 

কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে বা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।

পরিপত্রটি দেখতে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh