যেসব স্থানে দেয়া হবে করোনার টিকা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেছেন, তাদের কাছে টিকা পৌঁছবে ২৭ জানুয়ারি। তালিকাভুক্ত জনগোষ্ঠীকে ৮ সপ্তাহ ব্যবধানে (১ম ডোজের ৮ সপ্তাহ পর ২য় ডোজ) ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। টিকা পাওয়ার পর প্রথম ধাপেই দেয়া হবে কোভিড প্রতিরোধে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। 

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন পরিবহণ, সংরক্ষণ ও দেওয়ার সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। ভ্যাকসিন বিষয়ক সরকারি প্রচার-প্রচারণা নিশ্চিত করতে তথ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন নিবন্ধন, ভ্যাকসিন কার্ড, সম্মতিপত্র, ভ্যাকসিন সনদ প্রদানে আইসিটি বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের ‘সুরক্ষা ওয়েবসাইট’ প্রস্তুত করা হয়েছে। 

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার, সেরাম ইনস্টিটিউট এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিটিউক্যাল লিমিটেডের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ৩ কোটি বা তার অধিক ডোজ ক্রয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় বিশ্বের ৯২টি দেশের মতো বাংলাদেশ মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ জনগোষ্ঠী তথা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে। দেশে প্রদেয় অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত কভিড-১৯ ভ্যাকসিনটি ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ ইউকে রেগুলারেটি অথরিটির অনুমোদন লাভ করে। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি এক্সপার্ট কমিটি ৭ জানুয়ারি ২০২১ ওই ভ্যাকসিনকে ‘ইমার্জেন্সি ইউস অথরাইজেশন প্রদান করে। এতে করে দেশে ওই ভ্যাকসিন ব্যবহারে আর কোনো বাধা নেই। এছাড়া নকল ভ্যাকসিন প্রতিরোধেও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অব এক্সপার্টের নির্দেশনা ও দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদানের অগ্রাধিকার নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কভিড-১৯ ভ্যাকসিন  সংরক্ষণের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করে যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য দেশের সব জেলা ও সিটি করপোরেশনের ইপিআই স্টোরসমূহকে ইতোমধ্যেই চিঠিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  

চুক্তি অনুযায়ী  ৩ কোটি বা ততধিক ডোজ ভ্যাকসিন ৬টি ধাপে সরাসরি বাংলাদেশের নির্ধারিত জেলার ইপিআই কোল্ড স্টোরসমূহে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালন করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।  ঔষধ প্রশাসনের অধীনে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। 

যেসব স্থানে ভ্যাকসিন দেয়া হবে 

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা/ সদর হাসপাতাল, সরকারি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, পুলিশ, বিজিবি হাসপাতাল ও সিএমএইচ, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। সারা দেশে মোট ৭ হাজার ৩৪৪টি ভ্যাকসিন দল এই কাজ করবে। ভ্যাকসিন দানকারী হিসেবে থাকবে ২ জন নার্স, স্যাকমো, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে থাকবে ৪ জন। 

তিনি জানান, ১৮ বছরের নিচে এবং গর্ভবতী নারীদের টিকা দেয়া হবে না।  অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার পর এসএমএস করে টিকা নেয়ার দিন ও সময় জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh